somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকের দিনটায় হিম্মত রাখো....পরের প্রতিটা দিন তোমার হবে!

১৬ ই মে, ২০১৬ ভোর ৫:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আসিফ গোল্ডেন মিস করেছে.....বাসায় কেউ কিছুই বলেনি।সবাই মোটামুটি সাহস দিচ্ছে।আসিফ যখনই একটু সাহস পেয়ে আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে যাবে,তখনি একজন ফোন দিল তার বাবাকে,

-ভাই,ছেলে এবার মেট্রিক দিলো না?কি পেয়েছে?
-জী ভাই,গোল্ডেন।

আসিফ ধাক্কা খেলো....তার জন্য তার বাবা মিথ্যা বললো??

কয়েকদিন পর একটা বিয়েতে গেলো স্বপরিবারে.....একজন জিজ্ঞেস করলো,
-বাবা,কি পড়ো?
-জী আন্টি,ফার্স্ট ইয়ার।
-কোন কলেজ??

আসিফ কিছু বলার আগেই পাশ থেকে তার মা বলে উঠলো,
-চিটাগাং কলেজে ভাবি।
'
একদিন আসিফ কলেজ থেকে বের হল.....দেখে একজন পরিচিত।আসিফকে দেখে এগিয়ে এলো,

-কি ব্যাপার?তুমি না চিটাগাং কলেজে?এখানে কি?

আসিফ এরপর কেমন যেন হয়ে গেলো.....সাহস হারিয়ে ফেললো।বাসায় দরজা বন্ধ করে বসে থাকে।মানুষ থেকে পালিয়ে থাকে।বাসার সবাই বিরক্ত.....বাবা জিজ্ঞেস করে আসিফের মাকে,

-কি ব্যাপার?ও সারাদিন রুম বন্ধ করে বসে থাকে কেন?
-জানি না।বোধহয় রাগ।
-কিসের এত রাগ?মেট্রিকে এরকম রেজাল্ট করেও তো কিছু বললাম না।এরপরও এরকম কেন?
'
পাশ থেকে তার আপু বললো,

-আব্বু,বোধহয় ডিপ্রেশনে আছে কিছু নিয়ে?
-কি বললি?
-ডিপ্রেশন...একটা মানসিক ডাক্তার দেখালে।
-কি বললি?ওকে পাগলের ডাক্তার দেখাতাম?কত মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যায়,আর ওরে দরজা বন্ধ করার জন্য ডাক্তার?দুইটা থাপ্পড় দিলে ঠিক হয়ে যাবে!
...............

অতিরিক্ত ডিপ্রেশনে ভোগা একটা মানসিক রোগ......বাহিরের অনেক দেশে ছেলেমেয়ে সকালে ব্রেকফাস্ট একটু কম করলে বা একটু বিমর্ষ দেখালেই তাকে ধরে বেঁধে মনরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়.....অতঃপর কাউন্সিলিং চলে,আরো কত কি!

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।এখানে এতকিছুর ধার ধারা হয় না....অধিকাংশ পরিবারের চিত্র উপরের পরিবারের মত।এখানে সাইক্রেটিক্স মানেই বদ্ধ পাগলের ডাক্তার বলে ধরা হয়,যারা রাস্তায় ন্যাংটা হয়ে হাঁটে।

বাংলাদেশে প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জন ডিপ্রেশনে ভোগে.....এটা এমন এক মানসিক রোগ,যা একজন মানুষের বাইরের সব কিছু ঠিক রেখেই ভেতরটা বিকলাঙ্গ করে ফেলে।

মানুষ মায়ের পেট থেকে ডিপ্রেশন নিয়ে আসে না......তার মধ্যে ধীরে ধীরে এটা তৈরি করা হয়,আশেপাশের মানুষেরা তৈরি করে।জন্মের পর ভালো একটা স্কুলে চান্স পেলো না,তাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে তার সামনেই সে শহরের শীর্ষস্থানীয় স্কুলে পড়ছে বলে বলা হয়,ফাইভ আর এইটে বৃত্তি পেলো না,এখানেও মিথ্যা বলা হয়,গোল্ডেন পেলো না,কথিত ভালো কোথাও আসলো না,এখানেও মিথ্যা!

মারাত্মক বিশ্রী একটা অবস্থায় আছি.....ডিপ্রেশনের ডালপালা ছড়ানোর সময় এখন।অনেকে গোল্ডেন মিস করেছে,অনেকে এ+।অনেকে আগামী দুইবছর সবকিছু থেকে হারিয়ে যাবে,নিজেকে গুটিয়ে নিবে,বন্ধুবান্ধবের আড্ডায় আসবে না।

এদেরকে কোন সান্তনা দেওয়া উচিত না....একদমই উচিত না।কেন দিব সান্তনা?কি করছে ভাই এরা?কি হয়েছে এদের??
এরা কাউকে মার্ডার করেছে?এদের কারো ফাঁসির আদেশ হয়েছে?কারো হাত পা ট্রেনে কেটে গেছে?কেউ অন্ধ হয়ে গেছে?কারো দুরারোগ্য কোন রোগ হয়েছে?
না....এদের শরীরের সবকিছু ঠিকঠাক মত আছে,মাথার ব্রেন ঠিকমত আছে।

সব ঠিকঠাক আছে.....শুধু একটু হিম্মতের অভাব আছে....সেটা নিয়ে আসতে হবে।

ব্যাপার নাহ....নিজে যে অবস্থানে আছি,তার থেকে দুই এক ধাপ নিচের কারো কথা চিন্তা করলেই জিনিশটা অটোমেটিকলি চলে আসে.....নতুন করে শুরু করলে এক্সিলেন্ট কিছু যে হবে না,তার গ্যারান্টি কি??

হিম্মত রাখ.....নিজের উপর বিশ্বাস রাখ....আল্লাহর উপর ভরসা রাখ!!!
যিনি তোমাকে মায়ের পেটের এক পরিবেশ থেকে বের করে সম্পূর্ণ অন্য এক পরিবেশে এনে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন,তিনি এখানেও তোমাকে সাহায্য করবেন.....মার্ক মাই ওয়ার্ডস!


আজকের দিনটায় হিম্মত রাখো....পরের প্রতিটা দিন তোমার হবে!
আসিফ গোল্ডেন মিস করেছে.....বাসায় কেউ কিছুই বলেনি।সবাই মোটামুটি সাহস দিচ্ছে।আসিফ যখনই একটু সাহস পেয়ে আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে যাবে,তখনি একজন ফোন দিল তার বাবাকে,

-ভাই,ছেলে এবার মেট্রিক দিলো না?কি পেয়েছে?
-জী ভাই,গোল্ডেন।

আসিফ ধাক্কা খেলো....তার জন্য তার বাবা মিথ্যা বললো??

কয়েকদিন পর একটা বিয়েতে গেলো স্বপরিবারে.....একজন জিজ্ঞেস করলো,
-বাবা,কি পড়ো?
-জী আন্টি,ফার্স্ট ইয়ার।
-কোন কলেজ??

আসিফ কিছু বলার আগেই পাশ থেকে তার মা বলে উঠলো,
-চিটাগাং কলেজে ভাবি।
'
একদিন আসিফ কলেজ থেকে বের হল.....দেখে একজন পরিচিত।আসিফকে দেখে এগিয়ে এলো,

-কি ব্যাপার?তুমি না চিটাগাং কলেজে?এখানে কি?

আসিফ এরপর কেমন যেন হয়ে গেলো.....সাহস হারিয়ে ফেললো।বাসায় দরজা বন্ধ করে বসে থাকে।মানুষ থেকে পালিয়ে থাকে।বাসার সবাই বিরক্ত.....বাবা জিজ্ঞেস করে আসিফের মাকে,

-কি ব্যাপার?ও সারাদিন রুম বন্ধ করে বসে থাকে কেন?
-জানি না।বোধহয় রাগ।
-কিসের এত রাগ?মেট্রিকে এরকম রেজাল্ট করেও তো কিছু বললাম না।এরপরও এরকম কেন?
'
পাশ থেকে তার আপু বললো,

-আব্বু,বোধহয় ডিপ্রেশনে আছে কিছু নিয়ে?
-কি বললি?
-ডিপ্রেশন...একটা মানসিক ডাক্তার দেখালে।
-কি বললি?ওকে পাগলের ডাক্তার দেখাতাম?কত মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যায়,আর ওরে দরজা বন্ধ করার জন্য ডাক্তার?দুইটা থাপ্পড় দিলে ঠিক হয়ে যাবে!
...............

অতিরিক্ত ডিপ্রেশনে ভোগা একটা মানসিক রোগ......বাহিরের অনেক দেশে ছেলেমেয়ে সকালে ব্রেকফাস্ট একটু কম করলে বা একটু বিমর্ষ দেখালেই তাকে ধরে বেঁধে মনরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়.....অতঃপর কাউন্সিলিং চলে,আরো কত কি!

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।এখানে এতকিছুর ধার ধারা হয় না....অধিকাংশ পরিবারের চিত্র উপরের পরিবারের মত।এখানে সাইক্রেটিক্স মানেই বদ্ধ পাগলের ডাক্তার বলে ধরা হয়,যারা রাস্তায় ন্যাংটা হয়ে হাঁটে।

বাংলাদেশে প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জন ডিপ্রেশনে ভোগে.....এটা এমন এক মানসিক রোগ,যা একজন মানুষের বাইরের সব কিছু ঠিক রেখেই ভেতরটা বিকলাঙ্গ করে ফেলে।

মানুষ মায়ের পেট থেকে ডিপ্রেশন নিয়ে আসে না......তার মধ্যে ধীরে ধীরে এটা তৈরি করা হয়,আশেপাশের মানুষেরা তৈরি করে।জন্মের পর ভালো একটা স্কুলে চান্স পেলো না,তাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে তার সামনেই সে শহরের শীর্ষস্থানীয় স্কুলে পড়ছে বলে বলা হয়,ফাইভ আর এইটে বৃত্তি পেলো না,এখানেও মিথ্যা বলা হয়,গোল্ডেন পেলো না,কথিত ভালো কোথাও আসলো না,এখানেও মিথ্যা!

মারাত্মক বিশ্রী একটা অবস্থায় আছি.....ডিপ্রেশনের ডালপালা ছড়ানোর সময় এখন।অনেকে গোল্ডেন মিস করেছে,অনেকে এ+।অনেকে আগামী দুইবছর সবকিছু থেকে হারিয়ে যাবে,নিজেকে গুটিয়ে নিবে,বন্ধুবান্ধবের আড্ডায় আসবে না।

এদেরকে কোন সান্তনা দেওয়া উচিত না....একদমই উচিত না।কেন দিব সান্তনা?কি করছে ভাই এরা?কি হয়েছে এদের??
এরা কাউকে মার্ডার করেছে?এদের কারো ফাঁসির আদেশ হয়েছে?কারো হাত পা ট্রেনে কেটে গেছে?কেউ অন্ধ হয়ে গেছে?কারো দুরারোগ্য কোন রোগ হয়েছে?
না....এদের শরীরের সবকিছু ঠিকঠাক মত আছে,মাথার ব্রেন ঠিকমত আছে।

সব ঠিকঠাক আছে.....শুধু একটু হিম্মতের অভাব আছে....সেটা নিয়ে আসতে হবে।

ব্যাপার নাহ....নিজে যে অবস্থানে আছি,তার থেকে দুই এক ধাপ নিচের কারো কথা চিন্তা করলেই জিনিশটা অটোমেটিকলি চলে আসে.....নতুন করে শুরু করলে এক্সিলেন্ট কিছু যে হবে না,তার গ্যারান্টি কি??

হিম্মত রাখ.....নিজের উপর বিশ্বাস রাখ....আল্লাহর উপর ভরসা রাখ!!!
যিনি তোমাকে মায়ের পেটের এক পরিবেশ থেকে বের করে সম্পূর্ণ অন্য এক পরিবেশে এনে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন,তিনি এখানেও তোমাকে সাহায্য করবেন.....মার্ক মাই ওয়ার্ডস!


আজকের দিনটায় হিম্মত রাখো....পরের প্রতিটা দিন তোমার হবে!

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০১৬ ভোর ৬:০২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×