somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

All Is Well

২০ শে মে, ২০১৬ রাত ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


" পায়ের নীচে থাকা টেবিল বা টুলটা সরিয়ে দিতেই পুরো দেহের ভারটা পড়বে গলার উপর....সাথে যোগ হল অভিকর্ষজ ত্বরণ,নাইন পয়েন্ট এইট এম এস ইনভার্স টু।পৃথিবী তোমাকে নীচে দিকে টানবে,কিন্তু গলায় দড়িটা তোমার উপরে ধরে রাখবে।

ঘাড়ের দিকে স্পাইনাল কর্ড নামের একটা জিনিশ আছে.....পৃথিবীর টান আর দড়ির টানাটানির মধ্যে পড়ে স্পাইনাল কর্ড ভেঙে যায়।পুরো শরীরের ভারের দশমিক এক অংশ ঐ কর্ডের উপর পড়ার সাথে সাথেই কর্ডটা ভেঙে যাবে।ফাঁসিতে মৃত্যু প্রধানত এই স্পাইনাল কর্ড ভাঙার মাধ্যমেই হয়।

ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার ব্যাপারটাও একই.....লাফ দেওয়ার পর প্রতিটা সেকেন্ডে তোমার বেগ বাড়বে।প্রচণ্ড গতিতে শক্ত মাটিতে একটা সময় আছড়ে পড়বে তুমি।মাথার খুলিটা অনেক নরম।প্রচণ্ড গতিতে এটা মাটিতে ধাক্কা খেলেই ফেটে যাবে।ভেতরের মগজ গুলো বের হয়ে আসবে।

অনেক উপায় আছে মারা যাওয়ার....গলায় দড়ি,ছাদ থেকে লাফ,শাহ আমানত ব্রিজ থেকে কর্ণফুলীতে ঝাপ।প্রতিটা উপায়ে তুমি ভিন্ন ভাবে মারা যাবে....তবে একটা জিনিশ একই থাকবে।তুমি প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে মারা যাবে।নিজেকে হত্যা করা পৃথিবীর মহাপাপগুলোর মধ্যে একটি।আর পাপী দের মৃত্যুর সময় জাহান্নামের অনুভূতির অনেকটা-ই দিয়ে দেওয়া হয়.....পায়ের নীচে টুল সরানোর একটু পরেই তুমি স্পষ্টত ভাবে একজনকে দেখতে পাবে....মালাকুল মউত হযরত আজরাইল আলাইহিসালাম...ব্যক্তি বিশেষে যিনি ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে জান কবজ করতে আসেন।

পরহেজগার ব্যক্তির কাছে যেমন তিনি আসেন সুন্দর রূপ নিয়ে,যেভাবে তিনি পরহেজগার বান্দার জান কবজ করেন তাঁকে যথাসম্ভব কম কষ্ট দিয়ে.....ঠিক তেমনি ভাবেই গুনাহগার ব্যক্তির কাছে আসেন ভয়ংকর রূপ নিয়ে,জান কবজের সময় দেন অবর্ণনীয় কষ্ট।

আচ্ছা,আত্মহত্যায় মারা গেলে.....এরপর?
তোমার কবরটা জাহান্নামের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হবে...মাকড়শা ভয় পাও?তেলাপোকা?গরমে বেসিন দিয়ে সবুজ সবুজ কাঁটাওয়ালা বিষাক্ত জোঁকগুলো উঠতে দেখেই মেরে ফেলেছো না?
ওয়েল....সেসব গুলো তোমার কবরে দেওয়া হবে....লোমশ পা নিয়ে মাকড়শা তোমার শরীরের উপর হাঁটবে....জোঁকগুলো দংশন করবে অবিরত।

কি ভাবো?উঠে চলে আসবে?পারবে না ড্যুড!সাড়ে তিন হাত নিচ থেকে উঠে আসার কোন উপায় নেই....শাস্তিগুলো তুমিই নিজের জন্য নির্ধারণ করেছিলে।সামান্য কয়েকটা পয়েন্ট,একটা সাব্জেক্টে মিস...কিংবা কেউ চলে যাওয়ার পর হুট করেই ঝুলে পড়লে,খেয়ে নিলে হারপিক বা স্যাভলন।
ঝোঁকের মাথায় আসলে হাতে দড়িটা নিবে....লাগাবে....ঝুলবে...টুল সরাবে।তবে এরপরই ঝোঁক কাটবে।তুমি বুঝে যাবে,কি ভুলটা তুমি করেছো.....তবে ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে অনেক।*

অতএব,সময় থাকতে বুঝো...ট্রাস্ট মি,,
গেলো ১১ তুমি তারিখ গোল্ডেন মিস করলে কষ্টটা এরপরের মাসের এগারো তারিখেই অনেক কমে যাবে।পৃথিবীর কোন যন্ত্রণা দীর্ঘস্থায়ী না.....অনেক মানুষ অনেক বড় বড় কষ্ট নিয়ে হাসিমুখে বেঁচে আছে।কোন অঙ্গ হারিয়ে,প্যারালাইজড হয়েও দিনের পর দিন অনেকে বেঁচে আছে।আজ রাতে যখন তুমি খেয়ে দেয়ে গোল্ডেনের চিন্তায় এপাশ ওপাশ করছো,ঠিক তখন কোন জায়গায় কেউ এপাশ ওপাশ করছে ক্ষুধার জ্বালায়।সৃষ্টিকর্তা তোমাকে অনেক ভালো রেখেছে ড্যুড!তুমি চোখ দিয়ে আমার স্ট্যাটাস দেখছো...হাত দিয়ে লাইক দিচ্ছো....পেট ভরে খেতে পারছো।

ডেম কেয়ার মনোভাব নিয়ে আত্মহত্যা করার চেয়ে সেই একই ডেম কেয়ার মনোভাবের পয়েন্ট ওয়ান পার্সেন্ট কাজে লাগিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট সহ্য করে বেঁচে যাও।আগামীকাল দিনটা তোমার হবে না বলেই যে পরের দিনগুলোও তোমার হবে না,এটা কে বললো?

সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রাখো ড্যুড.....নিজের উপর বিশ্বাস রাখো!যে কলেজ তোমাকে ভর্তি করাবে না কম মার্ক্সের অজুহাতে,সেই কলেজই আবার এক সময় তাদের বার্ষিকীতে একটা শুভেচ্ছা বাণী পেতে সেই তোমারই দ্বারস্থ হবে....
নো গ্যারান্টি ম্যান!একচুয়েলিই নো গ্যারান্টি!

(*চিহ্নিত অংশটির কনসেপ্ট সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১৬ রাত ২:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×