আমাদের বাসা যেখানে ছিল তার আশেপাশেই প্রায় 7-8 জন ক্লাসফ্রেন্ড থাকত, ইলেকট্রিসিটি চলে গেলেই হয়েছে ওমনি "ওওওইইইইইইইইইইইইই.................. করে জোড়ে চিৎকার দিয়ে সাবাই একসাথে বাসার সামনের মাঠে হাজির। তারপরে ইলেকট্রিসিটি না আসা আর বাসায় ফেরার নাম নেই।
আজ হঠাৎ করে এই লেখা লেখার একটি কারণ আছে। এখন বড় হয়েছি, চাকরিও করছি, কিন্তু পুরাতন স্মৃতিগুলো এমনভাবে মাথায় আসে তার ফলে যে রেজালট ভয়াবহ হতে পারে সেরকমই একটি প্রতিদানই আজ পেলাম
আজ সকালে অফিসে আসার পরপরই সকাল 10 টার দিকে ইলেকট্রিসিটি চলে গেল দু-দফা। একটি ইমারজেনসী লাইট আর আমার পিসিটা সহ আর একটি পিসি ইউপিএস দিয়ে চলছে। ইলেকট্রিসিটি আবার এল । এ সময় আইটির চার কলিগের সাথে নিজের ডেস্কে বসে গল্প করছি। ঠিক কিছুক্ষন পরেই আবার চলে গেল। এবার প্রথমেই আমি "ওওওইইইইইইইইইইইইই................. করাতে বাকী সবাই একসাথে চিৎকার দিয়ে উঠলাম। অফিস নিস্তব্দ হয়ে গেল। অন্ধকারের হলেও সবার দৃষ্টি আমাদের দিকে। কেউ কোন কথা বলছেনা। এমনই সময় বসের রুমের কলিং বেলটা বেজে উঠল। যা ভাবলাম তাই। ডাক পড়ল কে জোড়ে চিৎকার দিয়েছি, আমি প্রথমে ঢুকলাম, স্যার বাকীদের সবাইকে হাজির হতে বললেল, সবাইকে নিয়ে হাজির হলাম, তারপর যা যা বলল শুধু হজম করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলনা।
সবাই মাথা নিচু করে বের হয়ে আসলাম, বাহিরের ডেস্কের সবাই যেন আমাদের এমন চেহারা দেখার জন্যই বোধহয় অপেক্ষা করছিল। আমি আমার ডেস্কে এলাম, কিছুক্ষন পরেই আবার ডাক আসল বসের কাছ থেকে, বসের সামনে গিয়ে দাড়াতেই বস বললেন " ইলেকট্রিসিটি তো নেই, আসতেও দেরী হবে, কি আর করবে যাও সবাই বাইরে থেকে ঘুরে আস"
তখন কি যে অনুভূতি, আবারও চিৎকার দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম কোন মতে নিজেকে সংবরন করে বাহিরে বের হয়ে এসে সবাইকে নিয়ে পাক্কা দেড় ঘন্টার মামলা, বাহির থেকে সবাই আড্ডা মেরে তারপর ফিরলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


