বন্ধু ৩ জন। ফোন করল অফিসে। দেখা করতে হবে বিকেলে। খুবই জরুরী কথা। ফোনে বলা যাবেনা সামনাসামনি কথা বলতে হবে।
অফিস থেকে আগেই ছুটি নিয়ে বের হলাম। কি কথা ! কথা হল সামনে একটি এ্যাডমিশন টেষ্ট আছে আমাকে দিতে হবে, কিন্তু আমার নিজের জন্য নয় ওদের জন্য। মানে জানতে চাইলে, ঝাড়ি ঝুড়ি মেরে আমাকে বসিয়ে রেখে বলল শুধু শুনতে। ওরাই সব করবে, ফরম কেনা থেকে শুরু করে ফরম জমা দেয়া, প্রবেশ পত্র উঠানো সবকিছু শুধু আমাকে যা করতে হবে তা হল পরীক্ষা দিতে হবে। আমার পরীক্ষার চেয়ে মূল উদ্দেশ্য হল ওদেরকে সাহায্য করা। অর্থ্যাৎ ওরা পরীক্ষা দিবে আর আমি ওদের হেল্পার। বুঝতেই পারছেন ওদের মূল উদ্দেশ্যটা কি।
যাই হোক বন্ধুত্বের দিকে তাকিয়ে আর না বলতে পারলাম না। বড় কথা একটা পরীক্ষা তো অন্তত দেয়া যাবে। ফরম কিনলাম আমি জমা দিল ওরা। পরীক্ষার দিন ওরা বাসা থেকে রিসিভ করে নিয়ে গেল। যেন ভিআইপি কেউ যাচ্ছে। হলে গিয়ে মাথা খারাপ। সিট সব ওলট পালট। ওদের তো রীতিমত মাথায় হাত। ওদের চেহারার দিকে তাকিয়ে খুব মায়া হল। ভাগ্য খারাপ আর কাকে বলে। এত কিছু সব শেষমেষ ভেস্তে গেল।
কি আর করা পরীক্ষা শুরু হল। শুধু ওদের একজন এসে বলে গেল ” দোস্ত পরীক্ষার খাতায় হাত দিবানা, খালি রাইখা বাইর হইবা, খাতায় যদি কোন দাগ দিছ তো তোমার খবর আছে ” আমি শুধু নীরবে হজম করলাম।
দোস্তের কথা মাথায় রেখে খাতা সামনে নিয়ে বসে আছি। একজন শিক্ষক এসে বসে থাকতে দেখে কারণ জানতে চাইলেন আমি চুপচাপ বসে রইলাম। দিলেন ধমক, না লিখলে খাতা দিয়ে চলে যেতে বললেন। ফরম কেনার পয়সাটুকুতো অন্তত হালাল করতে হবে তাছাড়া শিক্ষক গুরুর কথা তো অমান্য নয় তাই পুরো পরীক্ষাই দিয়ে ফেললাম।
রেজাল্ট বের হয়েছে গতপরশু। অফিস শেষে গিয়ে দেখে এসেছি, রেজাল্টে আমি আছি লিস্টে কিন্তু ওরা কেউ লিস্টে নেই। ওদেরকে এখনও জানাইনি। ওরাও বলেছে আজ একসাথে রেজাল্ট আনতে যাবে সাথে আমাকে নিয়ে।
আমি জানি আমার কপালে আজ খারাপী আছে। দোআ করবেন। আপনাদের মাঝে যেন আবার অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসতে পারি। তা না হলে আজ রাতের নিউজটা দেখবেন দয়া করে ”রেজাল্ট আনতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে এক ছাত্রের ..............................” (দু:খিত লিখতে পারলাম না) লাইভ কিছু হলেও হতে পারে আজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


