
শিরোনাম পড়ে মনে খটকা লাগতে পারে যে একজন ভিলেন কিভাবে নায়ক হয়? হ্যা, বিগত ত্রিশ বছর ধরে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে এক নাগাড়ে রাজত্ব করে চলা একজন মানুষকে নায়কই বলা চলে। চলচ্চিত্রে যখন ভিলেনের দরকার হয় তখনি পরিচালকের প্রথম পছন্দ একজনই। তিনি মিশা সওদাগর।
আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পে তিনি মিশা সওদাগর নামে পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম শাহেদ হাসান মিশা। চলচ্চিত্রে খল নায়ক হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত হলেও তার প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে মূলত নায়ক হিসেবেই। ১৯৮৬ সালে এফডিসি আয়োজিত অভিনেতা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতায় মিশা বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ১৯৯০সালে ছটকু আহমেদের ‘চেতনা’ ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ঐ বছরেই ‘অমর সঙ্গী’ নামে আরেকটি ছবিতে অভিনয় করেন। কিন্তু ছবিগুলো দুর্ভাগ্যবশত সফলতার মুখ না দেখতে পাওয়ায় পরিচালকেরা মিশাকে খল নায়কের চরিত্রে অভিনয়ের পরামর্শ দেয়। ১৯৯৪ সালে ‘যাচ্ছে ভালবাসা’ নামের ছবিতে প্রথম খল নায়কের চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন মিশা এবং সাফল্যও পান। এরপর থেকে সব ছবিতেই তাকে আমরা ভিলেন হিসেবেই পেয়েছি। বাংলা ছবির এই কিংবদন্তী এ পর্যন্ত আটশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ২০১১ সালে ‘বস নাম্বার ওয়ান’ ছবিতে খল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। তবে ইদানিং শুধু তথাকথিত বাংলা ভিলেন রূপেই সীমাবদ্ধ নন মিশা। ভিন্ন ধারার চরিত্রেও অভিনয় করছেন তিনি। যেমন ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে তিনি নায়কের দুলাভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যেখানে হাসিখুশি রসিক ধরণের একটা মানুষকে খুঁজে পেয়েছি আমরা। আবার এ মাসেই মুক্তি পাওয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অনিল বাগচীর একদিন’ ছবিতে অভিনয় করেছেন একজন পাকিস্তানি কর্নেলের চরিত্রে যেখানে ইংলিশ এবং উর্দুর মিশেল সংলাপ বলতে দেখা যাবে তাকে।
বেশীর ভাগ ছবিতে দুষ্টু চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তব জীবনে খুবই সাদামাটা জীবন যাপন করেন মিশা। ছবির মদ্যপ মিশা বাস্তব জীবনে ধূমপান কিংবা মদ পান কোনটাই করেন না। দুই সন্তানের জনক মিশা তার পরিবারের ব্যাপারেও সচেতন। নিজের শত বাস্ততার মাঝেও স্ত্রী- সন্তানদের জন্য ঠিকই সময় বের করে নেন তিনি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





