somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউ- Ki & Ka, চিন্তাধারা বদলে দেবার মত একটি সিনেমা

০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সুন্দর একটা দালান তৈরি হলে মানুষ দালানটার দিকে তাকিয়ে তার প্রশংসা করে, কিন্তু কখনও দালানের ভিত হিসেবে যে পিলারগুলো রয়েছে তার কথা কেউ কখনও জিজ্ঞেস করেনা। একটা সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি যদি পুরুষ হয় আর নারী সদস্য যদি শুধু ঘরের কাজ করে সারাটা জীবন পার করে দেয় তবে তার কোন কৃতিত্ব থাকেনা, সুন্দর সংসারের কৃতিত্ব যায় পুরুষ সদস্যের ওপর। কেন? কারণ সংসার তো তার টাকায় চলে। পেশায় ‘গৃহিণী’ ট্যাগ লাইন লাগিয়ে আমাদের উপমহাদেশের নারীরা সারাটা দিন সারাটা ক্ষণ ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকেন, যেখানে কর্পোরেট পুরুষেরা অফিসের কাজ শেষে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ছুটি পেয়ে আরামে কাটিয়ে দেন দিনগুলো। কিন্তু নারীরা? তাদের সাপ্তাহিক ছুটি বলে কিছু নেই। ঘর সামলানো কিংবা সন্তানের লালন পালনের মত ব্যাপার এতোটা সহজও না। কিন্তু এরপরও পুরুষদের কাছ থেকে বিন্দুমাত্র অনুপ্রেরণা পান না নারীরা। কোন ভাবে কোন কাজ একটু এদিক ওদিক হলে পুরুষদের বুলি একটাই- ‘সারাদিন ঘরে বসে কি করো?’

বলছিলাম গত ১ এপ্রিল বলিউডে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘Ki & Ka’-এর কথা। এশীয় উপমহাদেশের নারীদের জীবনধারা, পুরুষদের সংকীর্ণ চিন্তাধারার বাইরেও যে অন্যভাবে সাংসারিক জীবন চিন্তা করা যায় তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ছবিটি।

ছবির কেন্দ্রীয় দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন অর্জুন কাপুর এবং কারিনা কাপুর খান। ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে কিয়াকে(কারিনা কাপুর) ঘিরে। বিশাল এক কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার সে। বয়স ত্রিশের কোঠা পার হলেও বিয়ের চিন্তা সে করেনা। কারণ বিয়ে হলেই তার সব স্বাধীনতা হারিয়ে যাবে। স্বামীর কথায় উঠতে হবে, বসতে হবে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তার পরিচয় হয় কবিরের(অর্জুন কাপুর) সাথে, যার চিন্তা ভাবনা একদম অন্যরকম। কবির দেশের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ির ছেলে হওয়া সত্ত্বেও বাবার ব্যবসা কিংবা টাকা পয়সার প্রতি কোন আগ্রহ নেই। সে এমন এক নারীকে বিয়ে করতে চায় যে চাকরী করবে আবার অন্যদিকে কবির সংসারের যাবতীয় গৃহস্থালি কাজ করবে, ঠিক তার মায়ের মতন। টুকটাক দেখা সাক্ষাৎ হবার পর কিয়াকে বিয়ে করতে চায় কবির। এক সময় বিয়ে হয় তাদের। অন্যরকম কিন্তু সুন্দর এক সংসার চলছিল তাদের। এর ভেতর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে কবিরের সংসার ধর্মের কথা পুরো দেশে চাউর হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরণের নারী বিষয়ক অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ দিয়ে, বিভিন্ন রান্নার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে কবির নাম কামিয়ে ফেলে। কিন্তু এখান থেকেই ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। এ সব কিছুই জানতে দেখতে হবে Ki & Ka নামের অসাধারণ সিনেমাটি।

১২৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটি পরিচালনা করেছেন আর.বাল্কি। ছবিটির গল্পকার এবং প্রযোজকও পরিচালক নিজেই। বরাবরই আর.বাল্কি ভিন্নধারার গল্প নিয়ে ছবি তৈরি করে থাকেন। তার পরিচালিত দর্শকনন্দিত ছবির তালিকায় আছে ইংলিশ ভিংলিশ, পা, শামিতাভ, চিনি কম। নতুন এই ছবিতেও ভিন্ন স্বাদ পাওয়া গেছে। ছবির কিছু কিছু সংলাপও অসাধারণ লেগেছে। শিল্প নির্দেশনার দিকেও যে ভালোই নজর দেওয়া হয়েছে সেটা ছবির সেট দেখেই বোঝা যায়।

অভিনয়ের কথা যদি বলা হয় তবে সেক্ষেত্রে সবাই ভালো করেছে। কেন্দ্রীয় অভিনেতা-অভিনেত্রী ছাড়াও প্রতিটি ছোট ছোট চরিত্রও জীবন্ত অভিনয় শৈলী দেখিয়েছে।

৩৫ কোটি রুপী বাজেটের ছবিটি মুক্তির দুই দিনেই ১২ কোটি রুপী উঠিয়ে ফেলেছে। বাণিজ্যিক ভাবে ছবিটি যে সফলতা পাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

পরিশেষে বলবো, সংসারে নারীর অবদান কীরূপ এবং পুরুষেরা কিভাবে তাদের তথাকথিত চিন্তাধারার পরিবর্তন আনতে পারে তা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছে মুভিতে। বিবাহিতদের মুভিটি দেখা ফরজ বোধ করি। পরিপূর্ণ বিনোদনের পাশাপাশি অনেক শিক্ষনীয় বিষয়ও আছে এতে।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১১:৫০
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×