somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউ – ধ্যাততেরিকি (হাস্যরসে ভরা মজার এক ছবি)

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পহেলা বৈশাখে সারা দেশের ৯২ টি হলে একযোগে মুক্তি পেল ‘ধ্যাততেরিকি’ ছবিটি। কমেডি ধাঁচের এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন শামীম আহমেদ রনি। জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত ছবিটিতে অভিনয় করেছেন আরেফিন শুভ, নুসরাত ফারিয়া, রোশান, নবাগতা ফারিন, সুষমা, বিশ্বনাথ বসু, রজতভ দত্ত, সুপ্রিয় দত্ত, শুভাশিস মুখার্জী প্রমুখ।

ছবির কাহিনী আবর্তিত হয় রাজের (আরেফিন শুভ) বাবার মধ্য বয়সের সময় নিয়ে যেখানে দেখা যায় রাজের দাদা মৃত্যুসজ্জায়। মারা যাবার আগে রাজের বাবাকে বলে যায় দুই হাজার কোটি টাকার হীরা মণি মুক্তার কথা। আর সেই সম্পদ মাটির নিচ থেকে বের করতে হলে এক মন্ত্র বলতে হয় মুখে। মন্ত্র বললেই মাটি থেকে আপনা আপনি বের হয়ে আসে সিন্দুক। কিন্তু মৃত্যুপথযাত্রী রাজের দাদা মন্ত্র বলার আগেই পটল তোলে। এদিকে নিজের বাবাকে হারানোর পর রাজের বাবা বুড়ো বয়স পর্যন্ত বাড়ির চারদিকে নানা মন্ত্র পড়তে থাকে আর অপেক্ষায় থাকে কবে বের হয়ে আসবে সিন্দুক। এদিকে রাজ খালাতো বোনের বিয়েতে গিয়ে প্রেমে পড়ে বোনের বান্ধবী শান্তির (নুসরাত ফারিয়া)। আবার পথে রাজের ফিল্মি বন্ধু সালমান খুঁজে পায় তার ফিল্মি টাইপের ভালোবাসা মাধুরীকে (ফারিন)। কালক্রমে কাহিনী মোড় নেয় অন্যদিকে।

অভিনয়ের কথা আসলে বলবো সকলের অভিনয় ভালো ছিল। বাংলা ছবিতে একটা ব্যাপার দেখা যায় যে, শুধু প্রধান চরিত্রগুলোর অভিনয়ের দিকেই নজর দেওয়া হয়। তবে এই ছবিতে প্রধান চরিত্রগুলো ছাড়াও সকল পার্শ্বচরিত্রগুলোর অভিনয় ছিল অসাধারণ। আরফিন শুভকে আমরা ছবিতে মূলত অ্যাকশন-রোম্যান্টিক ঘরানার ছবিতে দেখে এসেছি। তবে কমেডি ধাঁচের চরিত্রেও তিনি বেশ সাবলীল ছিলেন। নুসরাত ফারিয়া তার আগের ছবির তুলনায় এই ছবিতে ভালো অভিনয় করেছেন। ভালো লেগেছে রোশানের চরিত্রটিও। তার প্রথম ছবি রক্তের ভুলগুলো এবারের ছবিতে চোখে পড়েনি। গানে নেচেছেনও ভালো। বেশ পরিশ্রম করেছেন বোঝা যায়। নবাগতা ফারিনের অভিনয় ছিল মোটামুটি। নিজের ডায়লগ ডেলিভারি এবং কণ্ঠের দিকে নজর দিতে হবে তাকে। বরাবর কমেডি চরিত্রে অভিনয় করা শুভাশিস মুখার্জী এবার হাজির হয়েছেন ছবিতে ভিলেন হয়ে। তার ট্যারা সাদ্দাম চরিত্রটি বেশ মজার ছিল। সর্বদা ভারতীয় সিরিয়ালে বুদ হয়ে থাকা রাজের মামীর চরিত্রে অভিনয় করা সুষমার চরিত্র এবং অভিনয়ও ছিল বেশ উপভোগ্য। এছাড়াও বিশ্বনাথ বসু, রজতভ দত্ত, সুপ্রিয় দত্ত এবং সুব্রতর অভিনয়ও বরাবরের মত ভালো ছিল।

ছবিতে সর্বমোট গান ছিল তিনটি। শওকত আলী ইমনের সঙ্গিতায়জনে তিনটি গানই বেশ ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে শিল্পনির্দেশনা। তবে ছবির গ্রাফিক্স কিছু কিছু জায়গায় বেশ বাজে ছিল, হয়তো বাজেট স্বল্পতার কারণে।

ছবির একটা ব্যাপার বেশ খারাপ লেগেছে, আর তা হল ছবিতে হিন্দি কালচারের প্রভাবটা বেশী ছিল। যেমন ডিজে রাজ যখন ছবির শুরুতে ফাইট করে তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে লুঙ্গি ড্যান্স গানটি বাজানো হয়, যেখানে অন্য কোন বাংলা গান ব্যবহার করা যেত। আবার মাধুরী যখন ফিল্মের অডিশনের জন্য যায় তখন তাকে দেখানো হয় মাই নেম ইজ শিলা গানের সাথে নাচতে, যেখানে জাজ তাদের নিজেদের প্রোডাকশনের জনপ্রিয় ছবির গান ‘ডানা কাটা পরী’ অথবা ‘ম্যাজিক মামনি’ ব্যবহার করতে পারতো। অন্যান্য ক্ষেত্রে সালমানের বলিউড কিংবা ঢালিউডের বিভিন্ন চরিত্রকে নকল করা কিংবা রাজের মামীর ভারতীয় সিরিয়ালের নকল করে কথা বলা মানানসই ছিল। ছবির পোশাক পরিচ্ছদেও বলিউডের প্রভাব লক্ষণীয়, যেটার কোন দরকার ছিলনা।

বাংলাদেশী কমেডি ছবির ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে প্রায় সবই জোর করে কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা। তবে হলফ করে বলা যায় যে ‘ধ্যাততেরিকি’ ছবিটি সেই দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ছবির প্রতিটি পদে পদে দর্শক মজা পাবে। হেসে উঠবে আপন মনে। অনেকদিন দর্শকের মনে স্থান করে নিবে ছবিটি।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১:০১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×