somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর কিছু মানুষখেকো প্রাণী

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মানুষখেকো বলতে সেই সব প্রাণীদের বোঝায় যারা মানুষ শিকার করে ভক্ষণ করে। অবশ্য মৃতদেহ ভক্ষণকে নরখাদকবৃত্তির মধ্যে ধরা হয় না। যদিও অনেক প্রকার জন্তুই মানুষকে আক্রমণ করে থাকে, কিন্তু মানুষখেকো বলতে কেবলমাত্র সেই সকল জন্তুকেই বোঝায় যারা নিয়মিতভাবে নরমাংস ভক্ষণ করে থাকে। যেসব মানুষখেকোদের কথা প্রায়শ শোনা যায় সেগুলি হল বাঘ,চিতাবাঘ, সিংহ, কুমির এবং হাঙর। তবে এগুলিই একমাত্র নরখাদক প্রজাতি নয়। এগুলি ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার জন্তুও মানুষ শিকার করে থাকে। যেমন: বাদামি ভাল্লুক, কালো ভাল্লুক, মেরু ভাল্লুক, স্লথ ভাল্লুক, শিম্পাঞ্জি এবং বিভিন্ন প্রজাতির সাপ (রেটিকুলেটেড পাইথন, আফ্রিকান রক পাইথন, সবুজ অ্যানাকোন্ডা), কোমোডো ড্রাগন, নেকড়ে, চিতল ও ডোরাকাটা হায়না, ডিঙ্গো, জাগুয়ার, পুমা, পিরানহা ইত্যাদি নানাপ্রকার বোনি ফিশ এবং ক্যান্ডিরু (পরজীবী), গুঞ্চ ক্যাটফিশ ও আফ্রিকান ডোরিলাস।বন্যপ্রাণীদের ক্ষেত্রে বনসঙ্কোচন এবং মানুষের সাথে অপ্রত্যাশিত মেলামেশা নরখাদক করে তোলে। অন্ধবিশ্বাস ও বিকৃত মানসিকতা মানুষকে নরখাদক করে ।


কিছু উপজাতিয় মানুষের মধ্যে মানুষখেকো প্রবণতা দেখা যায়। এই প্রবণতা কুরু ও স্ক্রেপী রোগের কারণ। অনেক সময় মনোরোগের শিকার হয়ে মানুষ মানুষখেকো হয়ে ওঠে।


বাঘ Panthera tigris বড় বিড়াল জাতের অন্তর্ভুক্ত একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। সিংহ, চিতাবাঘ এবং জাগুয়ারের সঙ্গে প্যানথেরা গণের চারটি বিশালাকার সদস্যের মধ্যে এটি একটি। এটি ফেলিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সবচেয়ে বড় প্রাণী। বাঘ ভারত এবং বাংলাদেশের জাতীয় পশু। পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক এলাকায় একে দেখা যায়। অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট চ্যানেলের সমীক্ষা অনুযায়ী বাঘ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রাণী।বাঘেরা পানিতে থাকতে খুব পছন্দ করে।তারা শুধু শরীর ঠান্ডা রাখতেই পানিতে নামে না বরং অনেক সময় পানিতে এরা শিকারও করে! রণথম্ভৌর ব্যাঘ্র সংরক্ষণাগারে একটি বাঘিনী । বাঘ সাধারণত একা একা থাকে ও শিকার করে। তবে বাচ্চারা ২ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের সাথে থাকে।
বাঘ সহসা বাধ্য না হলে খাঁচার মতো আবদ্ধ জায়গায় ঢুকতে সাহস করে না। এমনকি মানুষখেকো হলেও না। তবে আক্রান্ত বাঘ খুব মারমুখী হয়ে থাকে। বিভিন্ন নিরামিষাশী, বুনো বা গৃহপালিত প্রাণী (চিত্রা হরিণ, সম্বর হরিণ, মহিষ, গৌড়, বুনো শূকর, বানর ইত্যাদি, সুযোগ পেলে গরু- ছাগল,কুকুর ইত্যাদি) বাঘের খাদ্য। তবে খিদে পেলে বাঘ চিতাবাঘ,কুমির, ভাল্লুক বা অজগরকেও ছাড়েনা। এমনকি হাতিও গণ্ডারের বাচ্চার উপরো বাঘ হামলা করে। কিছু সময়ে বাঘ নরখাদক হয়ে যায়। বাঘ ঘন ঝোপে লুকিয়ে আচমকা হামলা করে শিকার করে। মুলত জলাশয়ের কাছে বাঘ লুকিয়ে থাকে। বাঘ সাঁতার কাটতে জানে। বাঘ রাতেই বেশি শিকার করে। বড় প্রাণি শিকারের সময় বাঘ শ্বাসনালী কামড়ে ধরে এবং সম্মুখপেশীর সাহায্যে শিকারকে আঁকড়ে ধরে মাটিতে আছড়ে ফেলে। শিকার দমবন্ধ হয়ে না মরা পর্যন্ত বাঘ গলা আঁকড়ে ধরেই থাকে।বাঘেরা দৈনিক ৫-১৫ কেজি মাংস খায়, তবে সুযোগ পেলে বড় পুরুষ বাঘ ৩০ কেজি মাংসও খেতে পারে।বাঘেরা ওৎ পেতে শিকার করে। এরা নিঃশব্দে শিকারের পিছু নেয়,আর অতর্কিত আক্রমণ করে। এদের গতিবেগ ৫০-৬৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা পর্যন্ত হয়, তবে এ গতিবেগ খুব অল্প সময়ের জন্য। এরা পানিতেও শিকার করতে পারে, এদের সাঁতারের গতিবেগ ৩২ কি.মি./ঘন্টা যা অলিম্পিক এর সাঁতারু দের থেকেও বেশি।শিকার করার জন্য সৃষ্টিকর্তা এদের দিয়েছেন ভয়ানক সব অস্ত্র। এদের ক্যানাইন দাঁত ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়, যা বিড়াল পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে বড়। এদের কামড়ের জোর ১০৫০ পিএসআই পর্যন্ত হয়। এদের আছে গুটিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা যুক্ত ব্লেডের মত ধারালো বাঁকানো নখর। সামনের পায়ের নখর ৩ ইঞ্চিরও বেশি লম্বা হয়।


চিতাবাঘ Panthera pardus বা গুলবাঘ ফেলিডি গোত্রের অন্তর্গত এক প্রজাতির শ্বাপদ। সাব-সাহারান আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চমৎকার এ প্রাণীটি দেেখা যায়। আবাসস্থল ধ্বংস, শিকারের অভাব আর চোরাশিকারের ফলে সারা দুনিয়ায় প্রজাতিটি আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে। সে কারণে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা আইইউসিএন চিতাবাঘকে প্রায়-বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। হংকং, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, সিরিয়া, লিবিয়া ও তিউনিসিয়ায় চিতাবাঘ আজ আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত। প্যানথেরা গণের মোট চারটি বড় বিড়ালের মধ্যে চিতাবাঘই সবচেয়ে ছোট; অন্য তিনটি হল বাঘ, সিংহ ও জাগুয়ার।বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

বৃহদাকার এবং বলিষ্ঠ এই বিড়াল জাতীয় প্রাণিটির দেহ সরু, লেজ দীঘল ও পদচতুষ্টয় হ্রস্বাকৃতির হয়ে থাকে। মাথাসহ দেহের দৈর্ঘ ১৬০ সেন্টিমিটার এবং লেজ ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পুরুষ চিতার শরীর মাদী চিতার তুলনায় বৃহদাকার। পুরুষ চিতার ওজন ১৭ থেকে ৫৮ কিলোগ্রাম এবং মাদীর চিতার ওজন ৩১ থেকে ৬৫ কিলোগ্রাম অবধি পাওয়া গেছে। চিতার কান গোলাকৃতি। কানের পশ্চাৎদেশ কৃষ্ণাভ যাতে সাদা ছোপ রয়েছে। মস্তক তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্রকার, উত্তল। পিষ্ঠদেশ খাটো, কোমল। এর লোম মসৃণ, খাটো। রঙ স্বর্ণাভ থেকে পিঙ্গল কিংবা কমলা-তামাটে হয়ে থাকে। দেহপার্শ্বের তুলনায় পশ্চাৎদেশ কিছুটা কালচে। সারা শরীরে কালো ছোপ থাকায় একে চিত্রল দেখায়। দেহতল এবং পদদেশ সাদাটে। চিতাবাঘের গাত্রবর্ণে কালচে ভাব থাকলেও অধিকাংশ এলাকা বাদামী ।


পুরুষ সিংহ


স্ত্রী সিংহ
সিংহ ফেলিডি পরিবারের প্রাণী যা প্যানথেরা গণের চারটি বৃহৎ বিড়ালের একটি। সিংহের মূলত দুটি উপপ্রজাতি বর্তমানে টিকে আছে। একটি হল আফ্রিকান সিংহ অপরটি হল এশীয় সিংহ। আফ্রিকান সিংহ মোটামুটি আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে পাওয়া গেলেও অল্প সংখ্যক ভারতীয় সিংহ শুধুমাত্র ভারতের গির অভয়ারণ্যে পাওয়া যায়। সংখ্যাধিক্যের দরুন সিংহ বলতে তাই আফ্রিকান সিংহকেই বোঝায়।বর্তমানে আফ্রিকার বনে ৩০,০০০ সিংহ রয়েছে। আর এশিয়া ৩৫০ টি সিংহ রয়েছে। তারা এশিয়া বাস করে গির বনে। যেটি অবস্থিত গুজরাট, ভারত.পুরুষ সিংহের সাধরণত ওজন হয় ১৫০ এবং ২৫০ কিলোগ্রাম (৩৩০ এবং ৫৫০ পাউন্ড) এর মধ্যে হয়। বড় সিংহ পৌছায় ২৫০ থেকে ২৭০ কেজি (৫৫০ থেকে ৬০০ পা) অবধি।. স্ত্রীরা (সিংহী) সাধারণত ১২০ থেকে ১৮২ কেজি (২৬৫ থেকে ৪০১ পা) অবধি হয়. একমাত্র পুরুষ সিংহদের কেশর থাকে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত প্রায় ৫'৭"-৮'২" পর্যন্ত হয়ে থাকে। সিংহ মাংসাশী প্রাণী। বিভিন্ন জাতের হরিণ,জেব্রা, বুনো মহিষ, জিরাফ, শূকর ইত্যাদি এদের প্রধান খাদ্য।সিংহের দলকে প্রাইড বলে। যেটির অর্থ গর্ব। একটি প্রাইডে দশ থেকে চল্লিশটি সিংহ থাকে।প্রত্যেক প্রাইডের নিজস্ব অঞ্চল আছে। সিংহ কখনো তাদের অঞ্চলে অন্য মাংসাশী প্রাণি ঢোকা পছন্দ করে না। তাদের একটি অঞ্চল প্রায় ২৬০ বর্গকিলোমিটার (১০০ বর্গমাইল)। পুরুষ সিংহরা খুব রাগী হয়। এরা এদের এলাকা রক্ষার্থে প্রয়োজনে সহিংস্র লড়াই করে।২ থেকে ৩ বছর বয়সে সিংহী তরুণী হয়। শিশু সিংহ জন্ম নেয় ৩ ১/২ মাস পরে। শিশু সিংহ জন্মের পর অন্ধ থাকে; তারা ১ সপ্তাহ বয়সে চোখ খুলতে পারে এবং যতদিন ২ সপ্তাহ বয়স না হয় ততদিন ভালো করে দেখতে পারে না। সিংহদের নির্দিষ্ট বাসা নেই, যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। সিংহদের নির্দিষ্ট পালানোর জায়গা থাকে। যেটি তারা গোপন রাখে। যদি অন্যদলের সিংহ দেখে ফেলে। তারা তাহলে সেই স্থান প্রস্থান করে।


হাঙ্গর বা হাঙর Shark তরুণাস্থিবিশিষ্ট এক ধরণের সামুদ্রিক মাছের প্রায় ২২৫টি প্রজাতির জন্য ব্যবহৃত সাধারণ নাম। পৃথিবীর প্রায় সকল সাগর-মহাসাগরে এদের অস্তিত্ব থাকলেও মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং অর্ধ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এদের প্রাচুর্য দেখা যায়। কয়েকটি প্রজাতি সমুদ্র উপকূলে বসবাস করলেও অধিকাংশ গভীর সমুদ্রের উপরের তলে বসবাস করে। গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী কিছু প্রজাতি আলোদায়ক অর্থাৎ আলো বিচ্ছুরণ করতে পারে। ধ্বংস এবং পরজীবীর হাত থেকে রক্ষার জন্য এদের দেহত্বকীয় ডেন্টিক্‌ল রয়েছে। এই ডেন্টিক্‌লের কারণে এদের প্রবাহী গতিবিদ্যায়ও প্রভূত সহায়তা হয়ে থাকে। এছাড়া তাদের প্রতিস্থাপনযোগ্য দাঁত রয়েছে। দাঁতগুলো খুব সুন্দর এবং প্রাচীন হাঙ্গরের এই একটি বৈশিষ্ট্যই তাদের মধ্যে রয়েছে। এদের প্রজাতিতে ব্যাপক তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। এক হাতের সমান আকারের পিগমি হাঙ্গর রয়েছে, যেমন: Euprotomicrus bispinatus নামক গভীর সমুদ্রের হাঙ্গরের দৈর্ঘ্য মাত্র ২২ সেমি তথা ৯ ইঞ্চি। আবার তিমি হাঙ্গর হল বৃহত্তম মাছ যারা প্রায় ১২ মিটারের (৩৯ ফিট) মত লম্বা হতে পারে। যেমন: Rhincodon typus নামক প্রজাতিটি। Carcharhinus leucas প্রজাতিটি ষাঁড় হাঙ্গর হিসেবে পরিচিত। এই ষাঁড় হাঙ্গরই একমাত্র লবণাক্ত এবং মিঠা - উভয় পানিতে এমনকি ডেল্টার ভিতরেও সাঁতার কাটতে পারে।

হাড়বিশিষ্ট মাছ এবং ভূমিস্থিত মেরুদণ্ডী প্রাণী থেকে হাঙ্গরের কঙ্কাল অনেক পৃথক ধরণের। হাঙ্গর এবং অন্যান্য তরুণাস্থিবিশিষ্ট মাছের কঙ্কাল রাবারের মতো তরুণাস্থি দ্বারা গঠিত। তরুণাস্থি এক ধরণের কলা যা হাড়ের থেকে অনেক হালকা এবং নমনীয়। চাঁদা এবং শংকর মাছের মতো হাঙ্গরের চোয়াল ক্রেনিয়ামের সাথে সংযুক্ত নয়। চোয়ালের সমতল পৃষ্ঠ মেরুদণ্ডী এবং গ্রিল আর্চের মতো যার অতিরিক্ত অবলম্বন ও শক্তির দরকার হয়। কারণ শারীরিক পীড়নের অনেকাংশ বহন করতে হয় এই চোয়ালকে। চোয়ালের এই পৃষ্ঠে এক ধরণের ষড়ভূজীয় ক্ষুদ্র তলের স্তর রয়েছে যার নাম টেসেরি। এটি মূলত ক্যালসিয়াম লবণের কেলাসিত ব্লকের সমন্বয়ে গঠিত একটি মোজাইকের মত। এই মোজাইক এই অঞ্চলে বিশেষ শক্তি যুগিয়ে থাকে যা হাড়বিশিষ্ট মাছের চেয়ে বেশি। সাধারণত হাঙ্গরের চোয়ালে টেসেরির কেবল একটি স্তর থাকে। কিন্তু বৃহৎ নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের ক্ষেত্রে শরীরের আকারের উপর নির্ভর করে দুই বা ততোধিক স্তর থাকতে পারে। একটি বৃহৎ সাদা হাঙ্গরের চোয়ালে এমনকি পাঁচটি স্তর পাওয়া গিয়েছিল। এদের রস্ট্রামের তরুণাস্থি শক্তির প্রভাব শোষণের জন্য অনেকটা স্পঞ্জি এবং নমনীয় হতে পারে। এদের ডানার কঙ্কাল অনেক দীর্ঘ এবং এক ধরণের নরম ও অবিচ্ছিন্ন রশ্মি দ্বারা ঠেস দেয়া থাকে। এই রশ্মির নাম সেরাটোট্রিকিয়া। চুল এবং পালকের মধ্যে শৃঙ্গের মত কঠিন কেরাটিন সজ্জিত করে গঠিত স্থিতিস্থাপক প্রোটিনের ফিলামেন্ট থাকে। পুরুষ হাঙ্গরের পেলভিক ডানার ভিতরের অংশ পরিবর্তিত হয়ে এক জোড়া সিগার বা সসেজে পরিণত হয়েছে। এরাই জননাঙ্গ গঠন করে যার অপর নাম ক্ল্যাসপার। ক্ল্যাসপারের মাধ্যমেই অন্তর্নিষেক সাধিত হয়।


কুমির, অ্যালিগেটর এবং ঘড়িয়ালরা সাধারণ দৃষ্টিতে একই রমক দেখতে হলেও জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এরা পৃথক বর্গের অন্তর্গত। ঘড়িয়ালের মুখের ডগার কাছটি গোলাকার। তবে অ্যালিগেটর ও কুমিরকে পৃথক করা একটু কঠিন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে কুমিরের মাথাটি সরু এবং দীর্ঘ আকারের হয়। অ্যালিগেটরের মুখটি অনেকটা ইংরেজি ইউ (U) আকৃতিবিশিষ্ট এবং কুমিরের মুখটি ইংরেজি ভি (V) আকৃতিবিশিষ্ট হয়। কুমিরের উপরের ও নিচের চোয়াল দুটির প্রস্থ এক এবং নিচের চোয়ালের দাঁতগুলি মুখ বন্ধ থাকা অবস্থায় উপরের চোয়ালের দাঁতগুলির উপরে থাকে। ফলে দাঁতগুলি ওই অবস্থায় দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট্য অ্যালিগেটরের নেই।একই বর্গের অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় কুমির অনেক বেশি উগ্র হয়।সব ধরনের কুমিরই আকৃতি ও জীববিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারে একই রকম। কিন্তু তাদের আকার, প্রকৃতি, আচরণ এবং বাসস্থানের ধরন প্রজাতি অনুসারে বিভিন্ন হয়। যদিও এই সব ব্যাপারে তাদের মধ্যে বেশ কিছু মিলও দেখা যায়। সব কুমিরই অর্ধ-জলচর প্রাণী। এরা মূলত নদী, হ্রদ ও জলাভূমির মিষ্টি জলেই বাস করে। কোনো প্রজাতির কুমির অর্ধ-লবনাক্ত ও লবনাক্ত জলেও বাস করে। এরা মাংসাশী প্রাণী। প্রধানত মাছ, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীই এদের খাদ্য।কুমির বিষুবীয় অঞ্চলে বাস করে। শীতল পরিবেশের প্রতি এরা সংবেদনশীল। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি বছর আগে ইওসিন যুগে এরা অন্যান্য ক্রোকোডিলিয়ান প্রজাতির থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল।ক্রোকোডাইলোমর্ফিয়ার অন্যান্য শাখার মতো এই শাখাটিও বিগত সাড়ে ২২ কোটি বছর ধরে নানা গণ-বিলুপ্তি সত্ত্বেও টিকে আছে। তবে এখন বাসস্থানের সমস্যা ও বেআইনি শিকারের ফলে কুমিরের অনেক প্রজাতিই বিপন্ন বা লুপ্তপ্রায়।


বাদামী ভাল্লুক Brown Bear ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যায়। এই ভাল্লুকের রং বাদামী। এই ভাল্লুক আকারে সবচেয়ে বড় হয়। এই ভাল্লুকের অন্য নাম গ্রিযলি।


কালো ভালুক বা এশিয়ান কালো ভাল্লুক Asian Black Bear এশিয়া এবং আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া যায়। এই ভাল্লুকের আকার মাঝারী। এই ভাল্লুকের গলায় সাদা V আকারের দাগ আছে। এই ভাল্লুক Moon bear নামেও পরিচিত। এই ভাল্লুক বিভিন্ন প্রকার। এশিয়া ও আমেরিকা মহাদেশের ভাল্লুকের প্রজাতি আলাদা।আইইউসিএন প্রধানত বনায়ন ধ্বংস এবং এদের দেহখণ্ডের জন্য শিকারের কারণে এদেরকে সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করে।বাংলাদেশে কালো ভাল্লুক মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত এবং বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।


মেরু ভালুক Ursus maritimus এক প্রজাতির ভালুক। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম শ্বাপদ। একটি পুরুষ মেরু ভালুকের ওজন ৪০০-৬৮০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে, অন্যদিকে একটি মাদী মেরু ভালুকের ওজন হয় একটি পুরুষ মেরু ভালুকের প্রায় অর্ধেক। উত্তর মেরুর বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। এই ভালুক সাদা রঙের হয়। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে এই ভালুক বিপন্ন।বিভিন্ন জলচর ও স্থলজ প্রানী, যেমন, বিভিন্ন প্রজাতির শীল এদের খাদ্য। এছাড়াও মৃত তিমি সহ হরেক রকম মাংসাদি এরা খায়। এরা অন্যান্য ভালুক দের মত আধা নিরামিষাশী নয়। এরা পুরোপুরি ভাবে মাংসাশী। অর্থাৎ মাংসাদি বস্তুই এর খাবার।উত্তর মেরুতে এদের দেখা মেলে। উত্তর মেরুর Arctic Circle এ এদের মূলত দেখা যায়। এরা এ অঞ্চল এর হীমশীতল পরিবেশে বাঁচার জন্য একদম উপোযোগি।এদের চামড়া পুরু। এদের লোম সাদা। এদের চামড়ার নিচে পুরু চর্বিস্তর থাকে। এসব কারনে এরা প্রচণ্ড ঠান্ডায়ও টিকে থাকতে পারে। শীতের শুরুতে এদের চামড়ার চর্বিস্তর আরও বেড়ে যায়। এরা চমৎকার সাঁতারু। এদের থাবা অনেক বড়। এরা প্রচণ্ড ঠান্ডায় পানিতেও মানিয়ে নিতে পারে।


শ্লথ ভালুক বা কালো ভালুক Sloth Bear, শ্লথ ভাল্লুক ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। এই জীব কালো রংএর হয়। এই জীব মুলত নিশাচর।আইইউসিএন এদেরকে সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশে কালো ভাল্লুক মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত হলেও সম্ভবত বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এবং বাংলাদেশের ১৯৭৪ ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১০:৫৮
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৫



আমার এক বন্ধু আছে। ধরা যাক, নাম তার করিম। করিমকে একদিন চায়ের দোকানে একজন বলল, “আপনি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?” করিম চায়ের কাপ নামিয়ে বলল, “ভূয়া হলে লাভটা কী?” লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×