somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ মাংস খেকো কিছু উদ্ভিদের কথা জানাবো ।

১১ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এতদিন আমরা জানতাম শুধু মানুষ আর কিছু পশুপাখিরাই বেঁচে থাকার জন্য মাংস খেতো। কিন্তু আশ্চার্য বিষয় হচ্ছে আফ্রিকা এবং দক্ষিন আমেরিকায় অনেক ধরনের মাংস খেকো গাছ এর সন্ধান পাওয়া গেছে যারা বিভিন্ন ধরনের পোঁকা মাকড়, ছোট প্রানী খেয়ে ফেলে। এমনও শোনা গেছে এমন কিছু গাছ আছে যারা নাকি আস্ত মানুষ গিলে ফেলতে পারে। সাধারণত যেটা ঘটে থাকে সেটা হচ্ছে প্রাণীরা জীবন ধারণের জন্য বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে। তারপর কোনও প্রকার রান্না বান্না ছাড়াই শিকার করা প্রাণীটিকে খেয়ে ফেলে তারা। একমাত্র মানুষই তেল লবণ আর মসলা সহযোগে সেগুলো রান্না করে খায়। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন উদ্ভিদরা খাওয়ার জন্য প্রাণী শিকার করছে? যারা একটু খোঁজখবর রাখ তারা হয়তবা মাংসখেকো উদ্ভিদের নাম শুনে থাকবেন। আর তোমরা যারা ছবির পোকা তারা টারজান, জুমানজি ছাড়াও বিভিন্ন চলচ্চিত্রে বিভিন্ন রকম মানুষ খেকো গাছ দেখা গেছে।


সেখানে দেখা যায় বিশাল একটা গাছের লতা আষ্টেপৃষ্টে মানুষ বা বিভিন্ন প্রাণী জড়িয়ে ধরে তাদের খেয়ে ফেলছে। সেটা দেখে আপনাদের ধারণা হতে পারে বাস্তবে বুঝি মানুষ খেকো উদ্ভিদ আছে। কিন্তু সত্যি কথা হলো মানুষ খেয়ে ফেলে এমন কোন উদ্ভিদের দেখা এখনো পায়নি উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা। তবে কিছু উদ্ভিদ আছে যারা ছোট ছোট পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে । এদের বলে মাংস খেকো গাছ বা মাংসাষী উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদগুলো পোকামাকড়কে ধরার জন্য নানা ধরনের ফাঁদ পাতে। আর বোকা পোকামাকড়ও সেই ফাঁদে সহজেই ধরা পড়ে। যেমন কলস উদ্ভিদের কথাই বলা যাক। এই গাছটি দেখতে অনেকটা কলসের মতো। তাই এর নাম কলস উদ্ভিদ। এই কলসের উপরের দিকে ফুলের মতো দেখতে লাল রঙের চমৎকার একটি অংশ থাকে। এই অংশে মধুর মতো রস নিংসৃত হয় যা পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে। মধুলোভী পোকামাকড় এই কলসের উপরে বসে মধু সংগ্রহ করতে গেলেই ঘটে যায় বিপত্তি। কারণ পিচ্ছিল কলসের উপর বসার কিছুক্ষনের মধ্যেই সে পা পিছলে কলসের মধ্যে পড়ে যায়। এরপর কলসের ভেতরের এক ধরনের বিষাক্র রস এই পোকাটিকে আটকে ফেলে। তারপর কলস উদ্ভিদ আরও কিছু রসের সাহায্যে পোকাটাকে হজম করে ফেলে।
তবে সেরা মাংস খেকো উদ্ভিদ সম্ভবত ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। আমেরিকার সাউথ ও নর্থ ক্যারোলিনায় এই উদ্ভিদগুলো ব্যাপকভাবে বিভিন্ন প্রকারে পাওয়া যায়। উদ্ভিদগুলো প্রায় এক ফিটের মতো লম্বা হয়।


ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত মাংসাশী গাছ। এই গাছটির বেচে থাকার জন্য দরকার প্রচুর নাইট্রোজেন। ভেজা মাটিতে তাদের জন্ম বলে পোকা শিকার করে সেই প্রয়োজন মিটায় তারা। এসব গাছ দেখতে পাওয়া যায় আমেরিকার উত্তর দক্ষিন ক্যারোলিনার সামুদ্রিক এলাকাগুলোতে। ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের রয়েছে ৬ ইন্সি লম্বা পাতা যা দেখতে দুই ভাগে বিভক্ত চোয়ালের মত। যখন কোন পোকা মাকর এক চোয়ালে এসে বসে তখন অন্য চোয়াল অনুভতি পাওয়া মাত্র পোকা সহ চোয়ালের সাথে লেগে যায়। তবে এ ঘটনা ঘটে মাত্র আধা সেকেন্ডের মধ্যে । পাতায় থাকে এক ধরনের লালা গ্রন্থি। পাতার লালা গ্রন্থি থেকে বের হওয়া লাল তরল গ্রাস করে নেয় পোকাটিকে। পোকাটিকে খেতে পাতার সময় লাগে দশ দিন । দুই অংশ আবার আলাদা হয় নতুন শিকারের আশায়। আবার অবশ্য অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ভেনাস ট্র্যাপ অন্যান্য উদ্ভিদের মতো নয় কেন ? তারা জল হাওয়া না খেয়ে পোকামাকড় খায় কেন ? এই প্রশ্নগুলোর একটা উত্তর দেওয়া যায় এইভাবে যে এই গাছের স্বভাবটাই এই রকম। তাই ওরা পোকামাকড় ধরে খায়। কিন্তু তাতে আসল ব্যাপারটা পাশ কাটিয়ে যাওয়া হবে। আসলে ভেনাস ট্র্যাপের বেঁচে থাকার জন্য প্রচুর নাইট্রোজেন প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই উদ্ভিদ জন্মে সাধারনত জলাভূমিতে। জলাভূমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ এমনিতেই খুব কম থাকে। তাই এই উদ্ভিদকে নাইট্রোজেন যোগাড় করতে হয় পোকামাকড় খেয়ে।আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশেও এই মাংস খেকো গাছদের দেখা মিলে। এদেরকে মূলত পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায়। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের কিছু কিছু বনে এই মাংস খেকো গাছ এর কিছু কিছু প্রজাতি দেখা যায়।যদিও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত আস্ত মানুষ খেয়ে ফেলতে পারে এমন কোন গাছ বা উদ্ভিদের সন্ধান পায়নি তাছাড়াও দক্ষিন আমেরিকার এ্যামাজন বনে অনেক মাংস খেকো গাছ বা উদ্ভিদের দেখা মেলে। সেই উদ্ভিদগুলো আস্ত পোঁকা মাকড় এবং ছোট ছোট প্রানী খেয়ে ফেলে।

তথ্যসূত্র ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:২১
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×