
এই প্রথম একটানা দশবার জাতীয় বাজেট পেশ করে রেকর্ড গড়তে চলেছেন আমাদের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কাকু। আজ ৭ই জুন, বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন মুহিত কাকু। দেশের ৪৭তম এই বাজেট হবে আবুল মাল আবদুল মুহিত কাকুর টানা দশম এবং নিজের ১২তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপন। এর আগে সর্বোচ্চ ১২টি বাজেট পেশ করেন সাইফুর রহমান। তবে তার একটানা ৫টির বেশি বাজেট উপস্থাপনের সুযোগ হয়নি। এবারের বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সাইফুর রহমানের রেকর্ডেও ভাগ বসাবেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে মুহিত ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ দুই অর্থবছরে বাজেট পেশ করেছিলেন। এরপর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে অর্থমন্ত্রী মুহিত ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সরকারের টানা দুই মেয়াদে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা মুহিতের চলতি (২০১৭-২০১৮) অর্থবছরে তা ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। আর আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসে তার পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে বাজেট পেশকারীর সংখ্যা ১১ জন। তারা হলেন- তাজউদ্দীন আহমেদ, ড. আজিজুর রহমান, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, ড. এম এন হুদা, এম. সাইফুর রহমান, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এম সায়েদুজ্জামান, মেজর জেনারেল এম এ মুনিম, ড. ওয়াহিদুল হক, শাহ্ এএমএস কিবরিয়া ও ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম।এর মধ্যে তাজউদ্দীন আহমেদ ১৯৭২-৭৩, ১৯৭৩-৭৪ ও ১৯৭৪-৭৫, ড. আজিজুর রহমান ১৯৭৫-৭৬, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৬-১৯৭৭, ১৯৭৭-৭৮ ও ১৯৭৮-৭৯, ড. এম এন হুদা ১৯৭৯-৮০, এম. সাইফুর রহমান ১৯৮০-৮১ ও ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে এবং ১৯৯১-৯২, ১৯৯২-৯৩, ১৯৯৩-৯৪, ১৯৯৪-৯৫, ১৯৯৫-৯৬ পর্যন্ত টানা ৫ বার এবং ২০০২-০৩, ২০০৩-০৪, ২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বাজেট পেশ করেন।তাছাড়া এম সায়েদুজ্জামান ১৯৮৪-৮৫, ১৯৮৫-৮৬, ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৭-৮৮, মেজর জেনারেল এম এ মুনিম ১৯৮৮-৮৯ ও ১৯৯০-৯১, ড. ওয়াহিদুল হক ১৯৮৯-৯০, শাহ্ এএমএস কিবরিয়া ১৯৯৬-৯৭, ১৯৯৭-৯৮, ১৯৯৮-৯৯, ১৯৯৯-২০০০, ২০০০-০১ ও ২০০১-০২ এবং ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করেন।

এবারের বাজেটে দাম কমছে যেসব পণ্যের সেগুলো হলো গুঁড়ো দুধ, দেশে তৈরি মোবাইল এবং মোটরসাইকেল, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার, হাইব্রিড গাড়ি,টায়ার-টিউব, পোল্ট্রি-মৎস্য এবং দুগ্ধজাতীয় খাবার।অন্যদিকে দাম বাড়ছে, সিগারেট-বিড়ি, স্যানিটারি সিরামিক পণ্য, ইলেকট্রিক বাল্ব, পলথিন এবং প্লাস্টিকের ব্যাগ, এনার্জি ড্রিংক, প্রসাধন সামগ্রী, এগারশ বর্গফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দাম, আসবাব পত্র।এবারের বাজেটে কর্পোরেট কর কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত আড়াই লাখ টাকাই থাকছে।অন্যদিকে হেলিকপ্টার সেবায় ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ডে-কেয়ার হোম সেন্টার, স্কুল বাস আমদানি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেশের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি। ব্যক্তিগতভাবে অর্থমন্ত্রীর ১২তম বাজেট। এর মধ্য দিয়ে টানা দশবার বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী।এর আগে মন্ত্রিপরিষদ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে অনুমোদন দেয়। বাজেট ঘোষণার আগে সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ বৈঠকে মন্ত্রিসভা বাজেটে এই অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার এ বিশেষ বৈঠক হয়।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী বাজেটের আকার সংশোধিত বাজেট থেকে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি।বাজেটে ব্যয় মেটাতে সরকারি অনুদানসহ আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। মোট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে (এডিপি) ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ধরা হয় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। সরকারের অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা আছে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।উন্নয়ন বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত অনুন্নয়ন বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

