somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতীয় ভিসা পেতে কত টাকা লাগে?

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতীয় ভিসা এখন সোনার হরিণের চেয়েও দামি। তারচেয়েও বেশি দামি এদেশের অনলাইনে ভিসার এপ্লিকেশন করে সেখান থেকে সাক্ষাৎকারের ডেট পাওয়া। আমরা যেই হই না কেন! এদেশের ভিসা পেতে হলে এই অনলাইন নামক ভিসা এপ্লিকেশন ফর্মটা পূরণ করে তা থেকে ডেট পেয়েই তা ভিসা প্রসেসিং সেন্টারে সাবমিট করতে হবে।

সিস্টেমটা সুন্দরই ছিল; কারণ এই সিস্টেমের আগে হাতে লেখা ফর্ম পূরণ করে ভিসার অফিসগুলোর সামনে টানা তিনদিন দাঁড়িয়ে থেকেও ভিসা সেন্টারে ঢোকা যায়নি এমন রেকর্ড আছে। মধ্য থেকে ভিসা প্রার্থীরা ঝড়, বৃষ্টি, শীত মাথায় নিয়ে অফিস গুলোর সামনে টানা দিন-রাত দড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে যেত। টাকাও খরচ হত অনেক; আর পুলিশ-দালালের হাতে হ্যারাজমেন্টের কথা না হয় বাদই দিলাম। আর এতে সবচেয়ে বেশী ভোগান্তির শিকার হত নিরীহ, গরীব আর দূরের মানুষ গুলো। কুকুরের মত সারারাত শুয়ে থাকতো তারা রাস্তায়। আর মাঝে মাঝে খেত দালালের উসকানিতে পুলিশের লাঠির মার!

কিন্তু এখন ভাল করতে যেয়ে সমস্যা এমন দাঁড়িয়েছে যে, আমরা ভিসা চাওয়ার অধিকারই হারিয়ে ফেলেছি। অনেকে এটাকে ডিজিটাল সমস্যা বলে কিন্তু আমি মনে করি এই সমস্যা ডিজিটালের না; সমস্যা হল ডিজিটালের মিস ব্যবহারের! ভারতীয় ভিসার ‘অনলাইনে ই-টোকেন সিস্টেম’টা ঠিকই ছিল কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো ই-টোকেনে সাক্ষাৎকারের (Appointment) ডেট পাওয়া নিয়ে।

আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি- আমরা বাঙালি যেখানে আছি; সেখানে দুর্নীতি আছেই। বিদেশিরাও আমাদের সাথে মিশে তাতে জড়িয়ে পড়ে। এই যেমন- আপনি হাজারবার চেষ্টা করেও ভিসার অনলাইন ফর্ম ফিলআপে Appointment ডেট পাবেন না! কারণ সেটা সাম হাউ বন্ধ করা থাকে। হ্যাঁ! আপনি এটা পাবেন তখনই যখন আপনি দালালকে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা দিবেন প্রতিটা ডেটের জন্য। অর্থাৎ এই টাকা ভাগ হয়ে সেই অনলাইন অপারেটরের কাছে যাচ্ছে তারপর সেই দালাল ডেট পাচ্ছে ভিন্ন পথে সাধারণের অজানা টাইমে। তবে সেই দালাল কিন্তু আপনাকে ভিসার গ্যারান্টি দিচ্ছে না। ভিসার গ্যারান্টি পেতে হলে দিতে হবে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

এখন ধরুন- ভারত ২,০০০ জন বাংলাদেশিকে ভিসা দিচ্ছে প্রতিদিন; এখন যদি প্রতি ভিসার জন্য ২,০০০ টাকা করে দালালকে দিতে হয়; তাহলে দিনে দিতে হয় ৪০ লক্ষ টাকা; যার বেশির ভাগই ভিসা অ্যাপ্লিকেশন প্রসেসের সাথে জড়িত দেশি–বিদেশিরা পাছে। তাহলে এ খাত থেকে মাসে কত টাকা তারা পাচ্ছে? এবং বছরে? এর পুড়োটাই দুর্নীতি যা আসলে ছিনতাই এরই নামান্তর। ডাকাতরা অস্ত্র ধরে টাকা নেয় আর এরা নিচ্ছে ডেট না দিয়ে; ডিজিটালি।

এই লেখার মাধ্যমে, আমি ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই- ভিসা প্রার্থীদের হয়রান না করে, ঝামেলাবিহীন ভাবে অন্তত ভিসার আবেদন করতে দেওয়া হোক! পাশাপাশি এক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করা হোক; যাতে ভারতের নাগরিকরাও জড়িত আছে বলে মনে করি।

সবশেষে নিবেদন জানাই, বাংলাদেশের মানুষকে আগামী দিনগুলোতে যেন দোকানে, দালালের কাছে যেয়ে বলতে না হয়, “ভারতের ভিসার ডেট” পেতে কত টাকা লাগে ভাই? যা এখন ওপেন সিক্রেট।

ধন্যবাদ !!!
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×