আসলে আমার বিদ্যা-বুদ্ধি-জ্ঞান-গম্যি বিচিত্র রকমের দুর্দশাময়।তাই অনেকেই হয়তো সহজে যা স্বাভাবিক ভাবেই নিযে থাকে,আমার কাছে তা অনেক প্রশ্নের পাকচক্রে ঘুরপাক খায়।যেমন ১)বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালিত্ব যে রাজনৈতিক দলটির মূলমন্ত্র,স্বাধীনতা ও ক্ষমতার হাতিয়ার, তার নামের শব্দচয়নে কোন বাংলা শব্দের ঠাঁই মেলে নাই। আধিপত্যবাদি ধর্মাশ্রয়ী পাকিস্তানি উর্দু ‘আওয়ামী’ ও ঔপনিবেশিক ইংরেজী ‘লীগ’ সমন্বয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ইংরেজী-উর্দু খেদানো দলটির নাম ‘আওয়ামী লীগ’।ভাষাগত কি রাজনৈতিক পরিহাস!২)ইংরেজী ক্যালেণ্ডারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে লালিত পালিত হয়েও আমরা অনেক কসরতে পহেলা ও পঁচিশে বৈশাখ-এগারোই জৈস্ঠ্য-পহেলা ফাল্গুনকে খুঁজে পেলেও একুশে ‘ফেব্রুয়ারী’র ইংরেজী না হলে বাংলার ভাষাগত মহিমা যেন ‘স্মার্টনেস’ পায় না।৩)সেই একুশে ‘ফেব্রুয়ারী’র পাদপীঠ ইংরেজীর প্রেতাত্মার ছায়াচারী বাংলা ‘একাডেমী’র ভাগ্যে একচল্লিশ বছরেও একটা বাংলা শব্দ জোটে নাই,যিা কিনা ‘একাডেমী’র সিন্দাবাদের বুড়োটিকে ঘাড় থেকে নামাতে পারে।এটা কি ভাষার দীনতার উন্মোচন,নাকি এক দুঃসহ প্রতারণা?৪)ভাষাগত দেউলিয়াপনা নয়;ভাষাগত বেশ্যাপনার নিকৃষ
্টতম পরাকাষ্ঠা হলো বাংলা ভাষায় ‘শহীদ’ শব্দটির অপপ্রবেশ। ধর্মের নামে নিরীহ নিরপরাধ ভিন্নধর্মাবলম্বী বা ধর্মনিরাসক্তদের শুধু তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য বা নিজস্ব স্বাধীন ধ্যান-ধারণাকে লালন করার অপরাধে তাদেরকে নিষ্ঠুরতম কায়দায় হত্যা-লুণ্ঠন-নারী ধর্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে সেই মৃত্যুকে মহিমাময় করতে যে ‘শহীদ’ প্রবচনটি ব্যবহার করা হয়, দেশ-জাতির কল্যাণের লক্ষ্যে মহতি আত্মদানকে ধর্মীয় সংকীর্ণতায় আকীর্ণ সেই ‘শহীদ‘ প্রবচনটির তকমা লাগানোয় মহিমান্বিত করার বদলে, আমার মনে হয়, লাঞ্ছিতই করা হয়। যেখানে ইসলামিস্টরা ধর্ম রক্ষায় তাদের মৃত্যুক ইসলামের জন্য ‘শহীদ’ জ্ঞানে গর্বিত ধারণা করে সেখানে ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধ বা ইত্যাকার দেশ-জন-হিতৈষণার কারণে আত্মদানকে ‘শহীদ’ বললে তা আত্মলাঞ্ছনারই নামান্তর।ধর্ম নিরপেক্ষতার আদর্শের বা দেশ-জাতির মুক্তির লড়াইয়ের মৃত্যু ধর্মাশ্রয়ী ‘শহীদ’ আভিধায় গৌরবান্বিত করার সংস্কৃতি ভাষার দৈন্যকে প্রকটিত করে।গবেষকদের এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন ও উদ্যোগী হওয়া বাঞ্ছনীয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




