বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘সংকল্প’ একটি অসাধারণ ভবিষ্যৎমুখী কবিতা। কবি ১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর থেকে আর সাহিত্য রচনা করতে পারেননি। এই কবিতাটা লেখা হয়েছিল অসুস্থ হবার বেশ আগে।
প্রথম কথাটা কেন বললাম আসুন বিশ্লেষণ করি। একটা লাইন আছে-
‘হাউই চড়ে চায় যেতে কে চন্দ্রলোকের অচিনপুরে’
চাদে অভিযানের কথা বলা হয়েছে এখানে। হাউই মানে রকেট। রকেটে করে কারা চাঁদে যেতে চায় কবি জানতে চান। প্রথম রকেট ব্যবহার করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, কবির অসুস্থ হবার পরে। মনে হয় তিনি সেটা বুঝে যেতে পারেননি। স্কুল পালানো এক ছেলে তার সমসাময়িক বিজ্ঞানের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে সামনের দিকে কল্পনা করে কবিতা লিখেছেন। ভাবতেই ভাল লাগে।
এর পরের লাইনঃ
‘শুনব আমি ইঙ্গিত কোন মঙ্গল হতে আসছে উড়ে’
ওয়াও!! ভাবনাকে একটু প্রসারিত করুন চিন্তা করতে যে এখানে কি বলা হয়ে থাকতে পারে। এখানে মঙ্গল মানে অবধারিতভাবেই মঙ্গল গ্রহ। তাহলে ‘ইঙ্গিত’ শব্দটা বিশ্লেষণ করলে প্রথমেই মাথায় যেটা আসে তা হল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি। মহাকাশ অভিযানের এবং মহাকাশের খবর রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন মাধ্যম। কবি মঙ্গল গ্রহ হতে ভেসে আসা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শুনতে চান। কারা পাঠাতে পারে সেটা?? মঙ্গলে কি তাহলে প্রানের অস্তিত্বের ধারণা তার মাথায় এসেছিল সেই সময়ে? স্বশিক্ষিত একজন বাঙালি কবির মাথায়?? একে কি ভবিষ্যতমুখী বলবেন না?
“বিশ্ব জগত দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে”
এর ব্যাখ্যায় আমি নিজে কিছু বলব না। আমাদের এক প্রফেসর এর একটা উদ্বৃতি দিই। ক্লাশ নিতে এসে বলেছিলেন, ‘আমি যখন স্মার্টফোনে দুনিয়ার সব খবরাখবর রাখি। গুগল ম্যাপস, আর্থ, আরও বিভিন্ন apps ব্যবহার করি, তখন নজরুলের কথা মনে পড়ে। মনে হয় সত্যিই তো, বিশ্বজগৎ কে তো নিজের মুঠোয় পুরে নিয়েছি আমরা!’
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



