somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমি অনি
এক জন গর্বিত ভারতবাসী। মোহনবাগানের মেয়ে।সহ শ্রম কমিশনার, স্বঘোষিত নারীবাদী, জননী, স্ত্রী, কন্যা এবং পুত্রবধূ। আপন খেয়ালে চলি, মনের কথা বলি। আমার ব্লগ amianindita.blogspot.in

সহযাত্রী পর্ব-২

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শিলালিপির স্বর্গীয় মাতামহ রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণায় প্রথমা কন্যার নাম রেখেছিলেন উর্বশী। এই নিয়ে মাতামহের সাথে ওনার মাতা ঠাকুরানীর তীব্র বিবাদ হয়, অপ্সরার নামে ভদ্র পরিবারের মেয়ের নাম রাখা সেই প্রাচীনপন্থী মহিলার মতে ছিল নিতান্তই “অলপ্পেয়ে” ব্যাপার স্যাপার। জাই হোক কয়েক বৎসর পর যখন শিলালিপির মাসিমণির জন্ম হল, তখন সেই মহিলা জেদ ধরলেন নাতনির নাম রাখতে হবে রম্ভা। মাতামহ হয়তো অন্য কোন শ্রুতিমধুর নাম কল্পনা করেছিলেন, কিন্তু বৃদ্ধার জেদের সামনে অস্ত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হন। যাইহোক রম্ভার জন্মের পর ঠাকুমা খুব অল্পকালই জীবিত ছিলেন, ওনার মৃত্যুর পর যতবার রম্ভার নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টা হয়েছে, প্রতিবার রম্ভা তা ব্যর্থ করতে সক্ষম হয়েছে। বৃদ্ধ পিতামহী মৃত্যুর পূর্বে যেন তাঁর সমস্ত জেদ এবং ব্যক্তিত্ব ঐ ক্ষুদ্রিকাকে দিয়ে গিয়েছিলেন, বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কেউ রম্ভার নাম নিয়ে ফাজলামি করার সাহস পায়নি। উর্বশী এবং রম্ভা সহোদরা হলেও চরিত্রগত ভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত । শিলালিপির মা স্বভাবত বেশ মিষ্ট এবং কোমল, সর্বংসহ প্রকৃতির রমণী। কেন্দ্র সরকারের মাঝারি শ্রেণীর কর্মচারী। রম্ভা ততোধিক দৃঢ়, রূঢ় বলাই বাহুল্য তীব্র ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। কেন্দ্র সরকারের অডিট সংক্রান্ত দপ্তরের বেশ দরের অফিসার। জামাই বাবু অর্থাৎ শিলালিপির বাবার সাথে ওনার ব্যক্তিত্বের সংঘাত নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। উভয়েরই ব্যক্তিত্ব প্রবল। তবে দিদি বা শিলালিপির প্রতি ওনার ভালবাসায় কোন খাদ নেই। শত ব্যস্ততার মধ্যেও দিনান্তে একবার উনি দুরাভাষ মারফৎ খবরাখবর নিয়েই থাকেন। যদিও ওনার সর্বদাই মনে হয়, উর্বশী তাঁর মেয়েকে অতিরিক্ত আদরে একটি “আব্দেরে আলু ভাতে” তৈরি করেছে। সেদিন যখন উনি শুনলেন, শিলালিপি অফিস যায়নি, তীব্র বিরক্তির সাথে উনি জিজ্ঞাসা করলেন, “অফিস যায়নি কেন?”
উর্বশী ভয়ে ভয়ে বললেন, “না, আসলে কাল এত ক্লান্ত হয়ে ফিরেছিল, তাই আজ আর ঘুম থেকে উঠতেই পারেনি।”
“ঘুম থেকে উঠতে পারেনি বলে অফিস যায়নি???”
“ভালো হয়েছে দূরে পোস্টিং হয়েছে, এবার তোর ঐ ন্যাদোশ মেয়েটা মানুষ হবে। ট্রেনে করে যাতায়াত করতে হলে চটপটে হতেই হবে। এ তোমার কলকাতা হাওড়ার বাস নয়, যে পাঁচ মিনিট পর পরই পাওয়া যাবে। কাল ও যদি না যায়, তো বলিস পরশু ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব আমার।”
শিলালিপির বাবা এত ক্ষণ ভালো মানুষ সেজে কাগজ পড়ার ভান করে স্ত্রী এবং শ্যালিকার কথোপকথন শুনছিলেন, বলাই বাহুল্য শ্যালিকাকে উনি খুব একটা পছন্দ করেন না, তবে স্ত্রীর ভয়ে সহ্য করতে বাধ্য হন। আড়ালে আবডালে রম্ভাকে উনি কলাবতী বা কলা বলে সম্বোধন করেন। কাল শিলালিপি অফিস না গেলে পরশু রম্ভা আসবেন, এত বড় গসিপ হজম করা ওনার পক্ষে অস্মভব। উর্বশী দেবী বলার আগেই, উনি কাগজ বগলে দৌড়লেন, শিলালিপির ঘরে, বিছানার ওপর কাগজটা আছড়ে বলে উঠলেন, “হল তো!” কৌতূহলী শিলালিপি বোকা বাক্স থেকে মুখ ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল, “ আমি অত ডাকলাম, উঠলি না। এবার কলা এসে তোর ঘুম ভাঙাবে। আসছেন তিনি। ”
কলা অর্থাৎ রম্ভাকে বড় ভয় শিলালিপির। শিক্ষা দেবার জন্য রম্ভা করতে পারেন না, এমন কিছুই নেই। নিজের একমাত্র পুত্রকে একবার তিনি নিজের হিশি নুন দিয়ে চাটিয়েছিলেন। বারংবার নিষেধ সত্ত্বেও টুবাই রাতে বিছানা ভেজাত।
অগত্যা বস এবং কলাবতী অর্থাৎ মাসিমণির যুগ্ম আতঙ্কে পরদিন থেকে শুরু হল শিলালিপির ডেইলি পাষণ্ডগিরি। প্রাতঃকালে মায়ের হাতের ডাল ভাত খেয়ে, যত্ন করে গুছিয়ে দেওয়া দুই সেট টিফিন ব্যাগে পুরে, দুর্গা নাম নিয়ে বেড়িয়ে পড়ল শিলালিপি। বাবা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে বাসে তুলে দিলেন। দাশনগর স্টেশন থেকে ১১৩ নং মেদিনীপুর লোকাল। ট্রেন আসার কথা ৮টা ১১এ। পরের ট্রেনের সময় হয়ে এলেও তেনার দেখা নেই। প্লাটফর্মে কারো যেন কোন তাড়া নেই। যে যার মত, মুঠো ফোন নিয়ে ব্যস্ত। কোন টিকিট পরীক্ষক বা রেল পুলিশের পাত্তা নেই। কাকে জিজ্ঞেস করা যায়? অগত্যা বাবাকেই ফোন লাগাল শিলালিপি, “ট্রেন তো এল না বাবা। কি করি?”
“আসবে আসবে, অপেক্ষা কর। সাউথ ইস্টার্ন রেলের নাম আগে ছিল, বি এন আর। বেঙ্গল নাগপুর রেলয়ে।আর স্থানীয় লোকজন কি বলত জানিস, ‘ বি নেভার রেগুলার’। মাত্র আধ ঘণ্টায় হতাশ হয়ে পড়লে হবে?” কৌতুকের সুরে জবাব দিলেন বাবা।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৩৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×