somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আমি দেলোয়ার
অনুভূতিকে অনুভব করার জন্য কাউকে চোখে দেখা বা তার কথা কানে শোনা বা পরিচয়ের প্রয়োজন পরে না। একজন লেখক তার অনুভূতি লেখার মাধ্যমেই প্রকাশ করে থাকে যা যে কোন অনুভুতিশীল ব্যাক্তির অনুভব করার জন্য যথেষ্ট

যাদু

০৪ ঠা জুন, ২০১৬ রাত ১:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যাদু হল এমন কোন বিষয় যা মানুষকে আকৃষ্ট করে। যা মানুষকে বোঝায় যা সে দেখছে বা শুনছে তা সঠিক। যা মানুষের অন্তরকে কেড়ে নিতে পারে। যা মানুষের অন্তরে কোন কিছুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাতে পারে। যা মানুষের চিন্তা, ভাবনা, চেতনা, কথা, কর্ম বাহ্যিক-অভ্যন্তরীণ এ দুই বিষয়েই নিজ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। এটাই হল যাদু। আর যে যাদু করে তাকে বলে যাদুকর।

কবি বা লেখককেও যাদুকর বলা যেতে পারে। তারা হলেন একধরনের যাদুকর। এই কারণেই পাঠকরা তাদের লেখার মায়ায় জরিয়ে পড়ে। বলতে গেলে একপ্রকার সম্মোহিত হয়ে পড়ে তারা। সুন্দর সুন্দর লেখার মাঝে তারা হারিয়ে যায়। কাল্পনিক হোক বা বাস্তব, লেখার প্রতি তারা মন্ত্রমুগ্ধ হয় যেমনটা হয়েছিল হ্যামিলিয়নের বাঁশি-ওয়ালার সেই বাঁশির সুরে হ্যামিলিয়নের ছেলে মেয়েরা। তাদের লেখাগুলো পাঠকের মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এবং তাদেরকে বিশ্বাস করায় যা ঐ লেখার মধ্যে ছিল। যার অক্ষর জ্ঞান যত বেশী পাঠকের উপর তার প্রভাব তত বেশী ফলে। পাঠক একসময় বিশ্বাস করতে শুরু করে এই লেখাটাই তার জীবনের একটি অংশ। তখন সে কল্পনা করতে থাকে। ঐ লেখার মাঝে নিজের কোন এক চরিত্রকে খুঁজে পায়। নিজেকে ভাবতে থাকে সে রকম করে। লেখক তখন সক্ষম হয় পাঠকের অন্তরে প্রবেশ করতে। পাঠক তখন জাদুমন্ত্রে সম্মোহিত একজন।

দুইজন কবি বা লেখকের উদাহরণ দিতে চাই এখানে। কাজী নজরুল ইসলাম যাকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়। তিনি লেখার এই যাদুকে আয়ত্ত করতে পেরেছিলেন। তার লেখা কবিতা, গল্প এখনো মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে। এখনো তার কবিতাগুলো পড়লে শীতল হয়ে যাওয়া রক্ত গরম হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের আরেকজন লেখক যাকে বলা হয় নন্দিত কথা সাহিত্যিক। তিনি হলেন হুমায়ূন আহমেদ। তার সৃষ্টি হিমু বাস্তব কেউ না হলেও তা এখনো পাঠকের মনে জায়গা করে রয়েছে। নিজেকে হিমু ভাবে বা হিমুর চরিত্রকে নিজের সাথে মিলিয়ে নিয়েছে এমন পাঠক অনেকেই আছে। এইগুলো যাদুকরের যাদু ছাড়া আর কি!

পরিশেষে বলতে চাই, লেখার এই যাদু যতটা মঙ্গলজনক তততাই বিপদজনক। কারণ এই যাদু, লেখক কতটা সঠিক এবং কতটা ভুল তার উপর বিবেচনা করেই মঙ্গল অথবা অমঙ্গল ডেকে আনে। লেখার যাদু জানে এমন কেউ সহজেই পাঠকের মস্তিকে প্রবেশ করতে পারে এবং পাঠককে তাই চিন্তা বা বিশ্বাস করাতে পারে যা সে করাতে চায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১৬ রাত ১:৩৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×