
শহরের বুকে তখন আমি উস্কোখুস্কো চুলে অহেতুক ব্যস্ততা দেখানো ছা-পোষা এক তরুণ। যার পকেট জুড়ে হাহাকার। মেধাসর্বস্ব আমার উপরের চাকচিক্যে হারিয়ে গেছে ভেতরের মুষড়ে পড়া বকুল ফুলের কষ্ট।
মাথা নিচু করে পথের ধুলো গুণে হনহনিয়ে হেঁটে যাওয়া আমার পথে যে কতবার তুমি অপেক্ষায় ছিলে তা দারিদ্রের খাতিরে ফিরে দেখা হয় নি। তোমার মলিন শাড়ির ভাঁজ আমার মনকে নাড়াতে পারে নি একটি বারের জন্যেও। প্রতিটা দিনের শুরু হতো সমাপ্তির আকাঙ্ক্ষায়।
তোমার শরীরে বাড়তে থাকা বয়সের ছাপ। কতশত যুবক হয়তো আগ্রাসী হয়েছে। হয়তো অস্পৃশ্য চিন্তায় তোমায় নগ্ন করেছে। তবু আমি আমার স্বপ্নঘোর একলা আকাশ বিলিয়ে দিয়েছি সস্তা বিড়ির টানে।
তোমার গায়ের গন্ধে আমি বেলি ফুল খুঁজি নি। কিছু অবহেলিত সন্ধ্যামালতী তুলে নিয়েছিলাম। তোমার খোঁপায় তার স্থান করে দিতে নয় বরং কোন ঘুমহীন রাতে তোমার কল্পনায় কিছু রঙ ঢেলে দিতে।
এতো কাছাকাছি তবু কতো দূরে। তোমার চৌকাঠ পেরিয়ে আমার শোবার ঘর। কতরাত যে আধপেটা খেয়ে কাটিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। ভাতের থালা সামনে আমার চিন্তায় তোমার কপালে যে ভাঁজ পড়তো। তা না দেখলেও আমি ঢের টের পেতাম।
আজ ঠিক করেছি। সাহস করে বলবো। ঠিক তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে। না। আমার গলা কাঁপবে না। আমি বলবোই। বলবো...
নীলাদ্রিতার আলু ভর্তা দিয়ে দুমুঠো ভাত দেবে। গরম ভাত।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





