কী চমৎকার দেখা গেল।
নাম দেয়া হয়েছে, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার কমিটি। গালভরা নাম। সংবিধানে কি এই ধরনের কোন কমিটি করার বিধান আছে ?
বলা হয়, আমাদের দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন। তাহলে বিচারাধীন মামলা থেকে কোন এক কমিটি কিভাবে আসামীর নাম বাদ দেয় ? একটি কমিটি করেই দিলেই কি সেটা আইনত গ্রহণযোগ্য ? সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার বলে যা খুশি তা করার কোন লাইসেন্স কি আছে সরকারের ? এভাবে দুর্নীতি মামলাসহ মামলা প্রত্যাহার করার মাধ্যমে সরকার পরবর্তী সকল সরকারকে এই ম্যাসেজ দিল যে, সরকারে থাকলে মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে নিজের অতীত কুকর্ম থেকে নিজের চামড়া বাঁচানো খুবই সহজ। পরবর্তীতে যারাই রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাবে, তারা এই উদাহরণ টেনে সকল অতীত কুকর্ম কবর দিয়ে ফেলবে।
বলা হল, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার কমিটি। কিন্তু এই কমিটি দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহার করে চলেছে। যত মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তার বেশির ভাগ দুদকের দায়ের করা। দুর্নীতি মামলা কোন গল্পের উপর ভিত্তি করে হয় না। দুর্নীতি কেউ প্রকাশ্যে করে না। কঠোর গোপনীয়তা ও কৌশল করেই দুর্নীতিবাজরা দুর্নীতি করে থাকে। সেই দুর্নীতিবাজকে শাস্তি দিতে হলে প্রচুর প্রমাণ লাগে। দুদকের পক্ষে সেগুলো যোগাড় করতে প্রচুর কাঠ খড় পোড়াতে হয়। তাই এসব মামলা রাজনৈতিক হওয়ানিমূলক বলাটা কতটা যুক্তিপূর্ণ সেটা ভেবে দেখা দরকার। দুদক কি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ?
মামলা প্রত্যাহার চলছে। হয়রানিমূলক মামলা করা কি আইনত ঠিক ? যদি কেউ হয়রানিমূলক মামলা করে, তার বিরুদ্ধে কি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কোন বিধান নাই ? রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার নাম দিয়া যেসব মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে, সেগুলোর বাদী দুদক ও পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া উচিত না ? নাকি হয়রানিমূলক মামলা করা বৈধ ? তারা কি কেবল রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধেই হয়রানিমূলক মামলা করেছে ? কোন নিরীহ আম-জনতার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা হয়নি তার নিশ্চয়তা কী ? সে ক্ষেত্রে সেই আম-জনতা কী করবেন ? হয়রানির শিকার হবেন ? তার হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নাই বলে সে একটি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় জেল খাটবে ? সে রাষ্ট্রের কোষাগারে রাজস্ব দিলেও তার কোন দাম নাই ? মামলা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে তো স্বীকার করেই নেয়া হয়েছে যে, দুদক ও পুলিশের হয়রানিমূলক মামলা করার অপচেষ্টা আছে, এই অপচেষ্টা বন্ধ করার উচিত নয় কি ? নাকি আম-জনতা হয়রানির শিকার হলে তার দায়-দায়িত্ব রাষ্ট্রের নয় ?
তারা এই সব মামলা করেছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে। এখন এসব মামলা প্রত্যাহারও চলছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে। মামলা দায়ের ও মামলা প্রত্যাহারে ব্যবহার হয়েছে রাষ্ট্রের অর্থ, কর্মঘণ্টা, লোকবল ও সিদ্ধান্ত। এতো দেখা যায়, পুকুর কাটা ও পুকুর ভরার মতো অবস্থা। একবার মামলা করার মাধ্যমের রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অপচয় হয়েছে। এবার মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে আবার রাষ্ট্রীয় অপচয় চলছে। এভাবে রাষ্ট্রকে অনর্থক কাজে যারা জড়িত করছে তাদের কি জবাবদিহি করার কোন জায়গা নাই ?
সবচেয়ে মজার ব্যাপার, রাজনৈতিক হয়রানির শিকার কেবল আওয়ামী লীগের লোকজনই হয়েছে। অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা এসব হয়রানিমূলক মামলার শিকার হননি। আওয়ামী লীগের লোজন ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে কোন হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের হয় নি। সেই মামলাগুলো সঠিক । একই দেশে কেবল রাজনৈতিক দল ভিন্ন হওয়ার কারণে বা ক্ষমতার কাছাকাছি ও ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে রাজনীতিবিদদের মধ্যেই এত বৈষম্য থাকলে আমরা আম-জনতা কেমন বৈষম্যের শিকার ? আমরা তো ধর্তব্যের মধ্যেই পড়ি না।
আজকের পত্রিকায় দেখলাম, একটি মামলায় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও হারিস চৌধুরীকে আসামী হিসেবে রেখে অন্য আসামীদের নাম প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে তারা কেউ রাজনীতিবিদ নন - তারা আমলা। এত দিন শুনেছি, এই কমিটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা থেকে রাজনীতিবিদ তথা আওয়ামী রাজনীতিবিদদের বাঁচাবে। এখন দেখছি আমলাদেরও বাঁচানোর কাজে নেমেছে এই কমিটি। কিন্তু বিরোধী দল করেন বলে মির্জা আব্বাস ও হারিস চৌধুরীর বাঁচার কোন পথ নাই।
Click This Link
এই প্রত্যাহার কমিটি করার মাধ্যমে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে হয়রানিমূলক মামলা করে যে কোন ব্যক্তিকে ফাঁসিয়ে দেয়া সম্ভব।
যারা হয়রানিমূলক মামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, তাদের হয়রানি করার ক্ষমতা বৈধ। তারা যাকে খুশি তাকে যখন খুশি তখন বাঁশ মারার অধিকার রাখেন।
আমলাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেয়ার সুপারিশের মাধ্যমে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, যে কেউ রাজনৈতিক মামলা থেকে নিজের নাম বাদ দেয়ার সুপারিশ পেতে পারে। একই মামলায় কেউ কেউ আসামী, কেউ কেউ নির্দোষ। কোন নিয়মকানুন নাই। স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, রাজনৈতিক হয়রানির শিকার কোন আম-জনতা হননি। কেননা তারা তো রাজনীতিবিদ না। আর তারা হয়রানির শিকার হলেও সেই ঘোরপ্যাঁচ থেকে বাঁচার কোন রাস্তা নাই। তারা নির্দোষ হলেও জেল খেটে প্রমাণ করতে হবে, তারা নির্দোষ।
স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, রাজনৈতিক হয়রানির শিকার কেবল সরকারী দলের লোকই হন। বিরোধী দলের লোকজন সত্যি মামলার আসামী।
স্বীকার করে নেয়া হয়েছে, একই দেশে সরকারী দল ও বিরোধী দলের জন্য আইন আলাদা। আর আম-জনতার কোন বেইল নাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ৯:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



