somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্কুল শিক্ষকদের প্রতি আমাদের কোন সামাজিক দায়িত্ব আছে কি ?

২৭ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





আমাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করার অভ্যাস নাই। আমরা মনে করি, সামাজিক দায়িত্ব মানে হল দান করা বা ভিক্ষা দেয়া। দান বা ভিক্ষার বাইরেও সামাজিক দায়িত্ব আছে।
করোনা হওয়ার পর আমরা বুঝতে পারলাম, আমরা আসলে কোন হাসপাতাল গড়িনি। ঢাকার বাইরে কোন হাসপাতালই করোনা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমরা আরও দেখলাম, বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালগুলো মূলত হাসপাতাল নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
করোনার মতো কোন জরুরী সমস্যা যদি শিক্ষাখাতে দেখা দেয়, আমরা দেখব, আমরা আসলে স্কুল কলেজও গড়িনি তেমন একটা। বেসরকারী খাতে যে স্কুল কলেজগুলো গড়া হয়েছ সেগুলোর বেশির ভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়।
আগে মানুষ ধনী হলে এলাকার মানুষের জন্য স্কুল কলেজ বা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করত। সম্পূর্ণ সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে মানুষের উপকারের জন্য ধনকুবেররা এই সব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেন। এখন ধনকুবেররা দেশের বাইরে টাকা পাচার করেন। স্ত্রী বা বাচ্চাদের কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড বা আমেরিকায় রাখেন। দেশ থেকে টাকা উপার্জন করেন এবং বিদেশে খরচ করেন।
এই রকম সামাজিক বাস্তবতায় আমাদের পর্যাপ্ত স্কুল কলেজ কখনও ছিল না, এখনও নেই। সরকারী স্কুল কলেজ আরও কম।
মূল প্রসঙ্গে আসি।
করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর স্কুল কলেজ বন্ধ। কবে খুলবে কেউ জানে না। স্কুল কলেজ বন্ধ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্কুল কলেজে ছাত্র বেতন দেয়াও বন্ধ। এবং আরও বেশি স্বাভাবিকভাবে সরকারী স্কুল কলেজ ছাড়া অন্যান্য স্কুল কলেজের শিক্ষকদের বেতনও বন্ধ।
আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত শ্রেণী হল স্কুল শিক্ষক। সামাজিকভাবে তাদের কোন সম্মান নাই। মেয়ের বিয়ে দেয়ার জন্য আমরা বিসিএস অফিসার খুঁজি , স্কুল শিক্ষক খুঁজি না।
যাই হোক, একজন স্কুল শিক্ষকের আয় খুব সীমিত। এ কারণে স্কুলের বাইরেও তাকে টিউশনি করতে হয়। কেউ কেউ কোচিং সেন্টার চালান। কোচিং সেন্টার চালানোর মতো বিষয় সবাই পড়ান না। তাদের কোচিং থেকে আয় করার সুযোগ নাই।
করোনার কারণে স্কুল কলেজের পাশাপাশি টিউশনি বা কোচিংও বন্ধ। ফলে শিক্ষকদের আয় করার সব রাস্তা বন্ধ।
কোন কোন স্কুল কলেজ অনলাইনে ক্লাস চালু করেছে। কিন্তু আমি যতটুকু জানি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস নেয়াটাকে পছন্দ করেন না। অন্য দিকে, অনেক শিক্ষক অনলাইনে ক্লাস নিতে অভ্যস্ত নন। এমনকি অনেকে ভালোভাবে ফেসবুকও চালাতে পারেন না।
তবে বাঙালি সমাজের একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য জানি। এরা অনলাইনে সানি লিওনের ভিডিও ঠিকই খুঁজে বের করতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় কোন তথ্য গুগল করে বের করতে পারে না। হাতে স্মার্ট ফোন থাকলেও তারা নিজেরা এই জায়গায় স্মার্ট না।
যাই হোক, ছাত্র বেতন বন্ধ। শিক্ষকদের বেতনও বন্ধ। অন্য কোনভাবে আয়ের ব্যবস্থাও নাই। এই লোকগুলো কিভাবে বাড়ি ভাড়া দিবে ? খাবে কী ?
এই অবস্থায় অনেক বেসরকারী স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক শিক্ষকের চাকুরি চলে গেছে। আমরা দেখেছি, উপায় না পেয়ে অনেক শিক্ষক হকারি করতে শুরু করেছেন। পেশা বদল করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন অনেকে।
অভিভাবকদের সামাজিক দায়িত্ব এখানে ছিল। কিন্তু তারা সেই সামাজিক দায়িত্ব পালন করবেন না। তারা স্কুলের বেতন দেবেন না। বরং আমি পরিষ্কার জানি, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল বহু অভিভাবক স্কুল খোলার পর ছাত্র বেতন মওকুফ বা কমানোর জন্য দরখাস্ত করবেন। ফলে স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।
করোনা না হলে আমরা ঠিকই স্কুল কলেজের বেতন দিতাম। করোনার জন্য এখন বেশির ভাগ মানুষের আয় রোজগার বন্ধ নয়। কিন্তু কেউ স্কুলের বেতন দেবে না।
একটা স্কুল বা কলেজ গড়া সহজ নয়। আজ যদি আপনার সন্তানের স্কুলটা বন্ধ হয়ে যায়, কয় দিন পর আপনিই বিপদে পড়বেন। ছেলে মেয়েদের পড়ানোর জন্য স্কুল কলেজ খুঁজে পাবেন না। সুতরাং আমরা ভিক্ষা বা দান নয়, নিজের দায়িত্বটা পালন করি। স্কুল কলেজের জমে থাকা বেতনগুলো আমরা পরিশোধ করে দিই। স্কুল কলেজগুলো টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এটা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। আমরা কি স্কুল শিক্ষকদের প্রতি আরও বেশি মানবিক হতে পারি না ?

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:০২
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবির গল্প, গল্পের ছবি

লিখেছেন আরেফিন৩৩৬, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৩:১৫



সজিনা বিক্রি করছে ছোট্ট বিক্রেতা। এতো ছোট বিক্রেতা ও আমাদের ক্যামেরা দেখে যখন আশেপাশের মানুষ জমা হয়েছিল তখন বাচ্চাটি খুবই লজ্জায় পড়ে যায়। পরে আমরা তাকে আর বিরক্ত না করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে লীগ আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে জামাত

লিখেছেন আরেফিন৩৩৬, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ৯:৪৬


বাংলাদেশে রাজনৈতিক ছদ্মবেশের প্রথম কারিগর জামাত-শিবির। নিরাপত্তার অজুহাতে উনারা এটি করে থাকেন। আইনী কোন বাঁধা নেই এতে,তবে নৈতিক ব্যাপারটা তো অবশ্যই থাকে, রাজনৈতিক সংহিতার কারণেই এটি বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালির আরব হওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা!

লিখেছেন কাল্পনিক সত্ত্বা, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১১:১০



কিছুদিন আগে এক হুজুরকে বলতে শুনলাম ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নাকি তারা আমূল বদলে ফেলবেন। প্রধানমন্ত্রী হতে হলে সূরা ফাতেহার তরজমা করতে জানতে হবে,থানার ওসি হতে হলে জানতে হবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেকালের পাঠকপ্রিয় রম্য গল্প "অদ্ভূত চা খোর" প্রসঙ্গে

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ১১:৪৩

সেকালের পাঠকপ্রিয় রম্য গল্প "অদ্ভূত চা খোর" প্রসঙ্গে

চা বাগানের ছবি কৃতজ্ঞতা: http://www.peakpx.com এর প্রতি।

আমাদের সময় একাডেমিক পড়াশোনার একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য ছিল। চয়নিকা বইয়ের গল্পগুলো বেশ আনন্দদায়ক ছিল। যেমন, চাষীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাসের কি প্রমাণ আছে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৩১



এক অবিশ্বাসী বলল, বিশ্বাসের প্রমাণ নাই, বিজ্ঞানের প্রমাণ আছে।কিন্তু অবিশ্বাসের প্রমাণ আছে কি? যদি অবিশ্বাসের প্রমাণ না থাকে তাহলে বিজ্ঞানের প্রমাণ থেকে অবিশ্বাসীর লাভ কি? এক স্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×