somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।। একটি অদ্ভুতুড়ে ঘটনা ।। (সত্য ঘটনা )

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি যেই ঘটনা টার কথা বলতে যাচ্ছি সেটা ঘটেছে প্রায় ৮-৯ মাস আগে। ঘটনাটা যার সাথে ঘটেছে তিনি আমাদের পাড়াতেই থাকেন। আগে তার সম্পর্কে কিছু বলে নেই।



ছেলেটির নাম নজরুল। আমরা তাকে কবি ভাই বলেও ডাকি। খুব হাসি খুশি আর মজার মানুষ নজরুল ভাই। আড্ডা দিতে অনেক পছন্দ করেন। আড্ডা জমলে তাকে ১-২ বেলা খাবার না দিলেও চলবে। নাজ্রুল ভাইয়ের সব চেয়ে প্রিয় বন্ধুর নাম পলাশ। স্কুল লাইফ থেকে উনাদের ফ্রেন্ডশিপ। বলা যায় ১ আত্মা ২ শরীর। পলাশ ভাইও নজরুল ভাইকে ছাড়া কিছু বুঝেন না। মাঝে মাঝে আমাদের বিরক্ত লাগত। সারাদিন সুপার গ্লু এর মত একজন আরেকজনের সাথে লেগে আছে। আমরা মাঝে মাঝে ফাজলামি করে বলতাম, আপনারা মনে হয় জামাই বউ। একজনের জন্ম আরেকজনের জন্য। যাক, এইবার মূল ঘটনায় আসি।



আকবর পলাশ ভাই গিয়েছিলেন ময়মনসিংহে উনার এক আত্মীয়ের বাসায়। বলা বাহুল্য, নাজ্রুল ভাইও গেলেন তার সাথে। অজ পারা গাঁ। খাবার পানির খুবই সমস্যা। বাজারও বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কি মি দূরে। যেদিন গেলেন তার দুদিন পর থেকেই পানির কারনে তাদের পেতে সমস্যা দেখা দিল। তখন তারা ঠিক করলেন বাজার থেকে মিনারেল ওয়াটার কিনে আনবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। ২ বন্ধু মিলে রওনা দিলেন বাজারের দিকে। ভাবলেন কথা বলতে বলতে চলে যাবেন। কিন্তু রৌদ্রের মধ্যে ৩ কি মি রাস্তা হেঁটে যাওয়া আসলেই কষ্টের। ২ জনে গরমে ঘেমে অবস্থা করুন। যাক শেষ পর্যন্ত বাজারে পৌঁছলেন। কিন্তু এই এলাকার মানুষ মনে হয় মিনারেল ওয়াটার থেকে পান, বিড়ি, সিগারেট বেশি খায়। যাক অনেক হেঁটে একটা দোকান থেকে মিনারেল ওয়াটারের বোতল পাওয়া গেলো। ২ লিটারের মাত্র ২ টা বোতল ছিল দোকানির কাছে। যাক একটু বেশি দাম দিয়ে ২ টা বোতলই কিনে ফেললেন পলাশ ভাই। একটা তো সাথে সাথে খুলে খাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। ঠিক তখন এক মহিলা, বয়স আনুমানিক ৭০-৭৫ বছর হবেন, কোথা থেকে এসে যেনও হাজির হলেন। তিনি নজরুল ভাইয়ের কাছে একটু পানি চাইলেন। একে তো ভর দুপুর তার উপর এতো গরম, নজরুল ভাই একটু বিরক্ত হলেন। মনে মনে ভাবলেন, এতো পানির তৃষ্ণায় নিজেদের জান যায় যায় আবার নিজের কেনা পয়সার পানি ফাউ দিবেন নাকি? মাথা খারাপ? পলাশ ভাই তো বলেই ফেললেন যে, খালাম্মা কোত্থেকে উদয় হলেন? এতখন তো দেখছিলাম না। মাটি ফুরে বের হলেন নাকি? টেকা পয়সা চাইলে কিন্তু দিতে পারুম না। মহিলাটা বলল, না না বাবা। একটু পানি দাও। আর কিছু লাগব না। নজরুল ভাই বললেন, আমরা আগে খেয়ে নেই এরপর বোতল সহ দিয়ে দিবো। মহিলাতা দাঁড়িয়ে এক দৃষ্টিতে তাদের পানি খাওয়া দেখতে লাগলো। অবশেষে নজরুল ভাই খেয়ে বাকি পানিটা মহিলাকে বাড়িয়ে দিলেন। পানির বোতলটা নিয়ে মহিলাটা কোথায় যেনও চলে গেলেন। এরপর নজরুল ভাই আর পলাশ ভাই একটা রিকশা ঠিক করে বাড়িতে চলে এলেন। সেখান থেকে ফিরে ১ মাসের মাথায় পলাশ ভাই একটি সি এন জি দুর্ঘটনায় মারা যান।



নজরুল ভাইয়ের কান্না সেদিন কেউ থামাতে পারলো না। আমরাও অনেক কষ্ট পেলাম। কয়েকদিন পর আমরা কষ্টটা ভুলে গেলাম। কিন্তু নজরুল ভাই এর পর থেকে প্রায়ই তার কবরের পাশে গিয়ে কাদতেন। ২-৩ সপ্তাহ পর থেকে নজরুল ভাই যেনও কেমন হয়ে গেলেন। তার চোখের নিচে কালি পড়ে গেলো। ঘটনা কি জিজ্ঞেস করলে তিনি এড়িয়ে যেতেন। আগে যেই লোকটা রাত ১০ টার আগে ঘরে ধুঁকতেন না তিনি এখন সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হন না। অনেক চাপাচাপির পর নজরুল ভাইয়ের চাচাতো ভাই এর কাছ থেকে জানতে পারলাম, নজরুল ভাই আজকাল প্রায়ই পলাশ ভাইকে দেখতে পান। পলাশ ভাই তাকে ডাকেন। সন্ধ্যার পর একদিন নাকি তিনি সরাসরি নজরুল ভাইয়ের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর ২-৩ দিন নজরুল ভাইয়ের অনেক জোর ছিল। এই ঘটনা শোনার পর সবাই মিলে পানি পড়া এনে খাওয়ালাম নজরুল ভাইকে। এরপর প্রায় সব ঠিক। মাস দুই পর নজরুল ভাই সুস্থ হতে লাগলেন। কিন্তু পলাশ ভাইকে খুব মিস করতেন। মাস দুয়েক পর তার খালার অসুস্থতার খবর পেয়ে নজরুল ভাইয়ের মা বাবা গেলেন তাকে দেখতে। বাড়ি খালি হয়ে যাবে ভেবে নজরুল ভাই রয়ে গেলেন। রাতে যথারীতি খাওয়া দাওয়ার পর একটু টিভি দেখে নজরুল ভাই শুয়ে পড়লেন। মাঝ রাতে তার ঘুমটা হটাত ভেঙ্গে যায়। উনার নিজের কাছে শরীরটা একটু ভারি ভারি মনে হল। তন্দ্রার ঘোরে তিনি দেখলেন পলাশ ভাই আসছে। পলাশ ভাই তাকে বললেন, চল, তোকে আমি নিতে এসেছি। আমি আর একা থাকতে পারছি না। আমি আগেও চেষ্টা করছিলাম, তুই আসিস নাই। আজকে তোকে নিয়েই যাবো।



নজরুল ভাই বললেন, আমি যাবো না। এরপর অনেক্ষন টানাটানি চলল। প্রথমে পলাশ ভাই তাকে খাট থেকে টেনে নামালেন, এরপর দরজার দিকে টেনে নিয়ে চললেন। নজরুল ভাই শত চেষ্টা করেও আটকাতে পারলেন না। তার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। শেষ মুহূর্তে নজরুল ভাই যখন বাঁচার আশা ছেড়ে দিলেন তখন কোথা থেকে যেনও সেই মহিলা এসে হাজির হল। মহিলাটা পলাশ ভাইয়ের হাত ছাড়িয়ে দিলেন। সাথে সাথে নজরুল ভাইয়ের শরীরটা হাল্কা হয়ে গেলো। নজরুল ভাই তখন মহিলাটাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি যখন আমাকে বাঁচালে তখন আর আগে বাঁচালে না কেন? এতো কষ্ট তো পেতাম না। তখন মহিলাটা বলল, বাবা তুমিও তো আমাকে পানির কষ্ট দিয়েছিলে। তখন আমি তৃষ্ণায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। কিন্তু সাথে সাথে তো দাও নি। মহিলাটি এই বলে গায়েব হয়ে গেলো। নজরুল ভাইয়ের সাথে সাথে ঘর কেটে গেলো। তিনি নিজেকে ঘরের সামনে আবিষ্কার করলেন। তখন আজান হচ্ছিল। তিনি দেখলেন, তার সাড়া গায়ে নঝের আঁচড়। এরপর তাবিজ এনে দেয়া হল, এবং সাড়া ঘোরে পানি ছিটিয়ে দেয়া হল। মিলাদ পড়ানো হল। অনেকদিন নানাবিধ অসুখে ভোগার পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন।

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:২৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×