
প্রাচীন বাংলার পুথিসাহিত্য থেকে শুরু করে আমাদের বাজারি অশ্লীল গল্পের বই সবার পরিচয় এক্টাই , এটা বটতলার বই / সাহিত্য । আজকে এই নিয়েই কিছু বলতে ইচ্ছা করতেছে ।
আসলে বট তলার সাহিত্য কি ?
বটতলার সাহিত্য হচ্ছে নিচু শ্রেণির মানুষ গুলোর সাহিত্য ।
এই বিশ শতকের গোড়ার দিকের কথা ধরেন । তখন বাজারে কিছু বই পাওয়া যেত এই ধরেন ১৫-৩০ পৃষ্ঠার মাঝে । বইগুলো কোন নামকরা প্রকাশনী থেকে ছাপানো হতো । বইয়ে কোন লেখকের পরিচয় দেওয়া থাকত না , একজন অখ্যাত , অজ্ঞাত কেউ সবার অগোচরে নিজের মনের কথাগুলো লিখে রাখতো । সেখানে থাকতো গ্রাম বাংলার মানুষের জীবন চিত্র ।
এই বটতলার সাহিত্য লেখকদের সাহিত্য মান ছিলো খুব একটা ভালো ছিলো না । হয়তো তাদের এই বইগুলো খুব করূণ অথবা খুব নগ্ন ভাবে গ্রাম বাংলার চিত্র তুলে ধরা হতো ।
আসলে এইসব লেখক রা কখনো নিজের প্রচারনার জন্য লিখতেন না , তাই এই সব লেখায় তাদের মনের কথাগুলো খুব সুন্দর ভাবে ফুটে উঠতে পেরেছিলো । অনেকে মনে করেন পুথি সাহিত্য হচ্ছে এই বটতলার সাহিত্যের অংশ ।
উনিবিংশ শতকের শেষের দিকে এই ধরনের সাহিত্যটার আবির্ভাব বা উত্থান বলা যেতে পারে । বিংশ শতকে এসে বটতলার সাহিত্যগুলো সুধী সমাজের লেখক দের কাছে গুরুত্ব পায় ।
এরপরেই শুরু হয় এই সাহিত্যের বিপ্লব । তখন প্রচন্ড হারে এই বইয়ের বাজার বাড়তে থাকে ।
চটি বই
বুঝেছি আপনার মাথায় এই মুহুর্তে কি খেলতেছে । হুম্ম অনেকে চটি বই বলতে এখন বুঝে অশ্লীল রগরগে যৌনকাহিনী সম্বলিত ২০ পৃষ্ঠার ছোট্ট বই । আসলে তা না । এই চটি বই এর নাম চটি হওয়ার কারন এর অশ্লীলতা বিশেষণ থেকে নয় এর সাইজ থেকে । আসলে এতক্ষন যে বটতলার সাহিত্য/বই এর কথা বলতেছিলাম সেটাই হচ্ছে এই চটি বই ।
প্রশ্ন আসতে তাহলে এই বটতলার সাহিত্য যদি চটিই হয় তাহলে সুধীসমাজে জায়গা পেলো কিভাবে ?
আসলে বটতলা/চটি বই প্রথম দিকে এতোটা রগরগে কাহিনীর বই ছিলো না । বিশ শতকের শেষের দিকে এসে এই সাহিত্য হঠাৎ করেই নগ্ন হয়ে যায় । তখন অশ্লীল ভাবেই প্রকাশ পায় এই বটতলার বই । ধীরে ধীরে হারায় সাহিত্যিক মর্যাদা ।
এখন কার ক্ষুদে ব্লগার , ফেবু লেখক বনাম আগের বট তলার সাহিত্য
আমার মনে হয় কি এখন যে আমরা বা আমি যে ধরনের লেখা লেখি সেটাও এক ধরনের বটতলার সাহিত্যের আপগ্রেড রূপ । এখন আমার এই ব্লগ টা হয়তো সারাজীবন অখ্যাতই থেকে যাবে অথচ আমি এখানে লিখেই যাবো । ঠিক অনেক টা সেই যুগের বটতলার বই গুলোর মত । লেখক /বই অখ্যাতই থেকে যাবে , তারপরেও এক ধরনের মানুষ এই রকমের বই প্রকাশ করতেই থাকবে । এই দৃষ্টি কোণ থেকে আমার মনে হয় এখন কার যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্লগ গুলো আছে , যেখানে সাহিত্য চর্চা হয় । যিনি লিখেন তার কাছে প্রানের চেয়েও দামি কিছু আর বাইরের মানুষের কাছে গরুর গোবর টাইপ কিছু হাবিজাবি লেখা ।
যে মানুষ টার লিখার প্রচন্ড ইচ্ছা অথচ সে সেইরকম সাহিত্যমান বজায় রেখে লিখতে পারে সে কি করবে ? হ্যা সে বটতলার সাহিত্যই লিখে যাবে , নিজের মনের মত , নিজের ভঙ্গীতে সেটা কেউ পড়ুক আর নাই পড়ুক । কেউ লেখক কে চিনুক আর নাই চিনুক ।
বইহাট ব্লগের সৌজন্যে
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৬ দুপুর ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



