somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অমিত বসুনিয়া
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নে সমুদ্র পারি দেওয়া ছেলেটি জেগে উঠে দেখে সে মাত্র বিছানার এপাশ ফিরে ওপাশে শুয়েছে মাত্র

আমার প্রথম খুন করার গল্প

০৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ৯:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত দুইটা আঠার মিনিট ,
পুরো রংপুর শহর টাই এখন প্রায় নীরব । আশেপাশের ফ্লাট গুলোর লাইট আস্তে আস্তে নিভতে শুরু করেছে । রাস্তা ঘাট এখন একেবারেই খালি । মাঝে মাঝে একটা করে রিকশা যাচ্ছে । রিকশার বসার জায়গায় রাখা হয়েছে সদ্য বাজার করা হাটফেরত শাক,আলু,বেগুন জাতীয় কিছু জিনিস । এইগুলা নিয়ে বাড়ি রিকশাওয়ালা এখন বাড়ি যাবে , তার ঘুমন্ত স্ত্রী কে ডাকবে , আব্বাসের মাও ......
আব্বাসের মাও ।
আব্বাসের মা তখন ঘুমে অচেতন এদিকে রিকশাওয়ালার তখন মেজাজ চরমে । মেজাজ যতটা সম্ভব কন্ট্রোলে রেখে আবার ডাক দিবে আব্বাসে মা উঠ তারাতারি ।
আব্বাসের মা তখন উঠে বের হয়ে এত রাত করে ফেরার জন্য স্বামীর উপর চিল্লাচিল্লি করবে । কি দরকার এতো আইত করি বাড়ি আসির ?
- তুই বুঝবি না পাইসার কি দরকার , আব্বাস বড় হইলে কি অকো মুই ইকশা চালাবার দিম ?
- তাকি লাট সাহেব বানাইবেন ?
- দরকার হয় তাই বানাইম । এখন ভালো করি রান্ধেক , শাক ৪ আটি খালি ১০ টাকাতে পাইনু ।
তাদের এই গরিবীও রোমান্স শাক রান্না হওয়া থেকে ভাত খাওয়া পর্যন্ত চলবে ।
যাইহোক রাত এখন প্রায় আড়াই টা ,
আমি রংপুরের প্রেস ক্লাবের সামনে একটা সিগারেট ধরিয়ে একা বসে আছি । মাঝে মাঝে কিছু র‍্যাব পুলিশের গাড়ি ছাড়া এখন প্রায় কিছুই নাই । অনেক ক্ষন হয় রিকশাও দেখি নাই । এই রাতে কি রহমতুল্লাহ চৌধুরী বাসায় ফিরবে ?
যদিও তিনি সবসময় গভীর রাত করেই বাসায় ফিরেন , সব খোজ খবর আগে থেকেই নেওয়া আছে ।
রহমতুল্লাহ রংপুর শহরের নামকরা ব্যাবসায়ী । সিটি বাজারের তার একটা আরত আছে সেখানে একপাশ টায় চাল আরেক টায় কাচা বাজার বিক্রি হয় । সে সেইখান থেকে হিসেব নিকাশ করে রাত আড়াই টার দিকে তার বাসায় ফেরে । তার বাসাটা প্রেস ক্লাবের পাশের রাস্তা দিয়ে গেলে মাত্র দুই মিনিটের রাস্তা । পুরো প্রেস ক্লাব এড়িয়ায় তার বাসাটা দূর থেকেও চোখে পরে । ছিমছাম ৪ তলা একটা বাসা । পুরোটাই হলুদ রঙ করা । মনে হয় এই হলুদ রঙের কারনেই দূর থেকে চোখে পড়ে ।
আমার কাজ হচ্ছে এই রহমতুল্লাহ চৌধুরী কে খুন করা । হ্যা খুন করার জন্যই এখানে আমি বসে আছি । আমি অবশ্য পেশাদার খুনি না , তবে পেশাদার অপরাধী বলতে পারেন । গত মাসে আমার বিপরীত পার্টিকে রাতের বেলার গলির মধ্যে একা পেয়ে খুর চালাইছিলাম । উদ্দেশ্য ছিলো তাকে দুনিয়া থেকে সড়ায় দেওয়া , কিন্তু সফল হয় নাই । সফল হলে আজকে আমার বুক টা এতো ধক পক করতো না ।
অবশ্য আজকের খুন টা করতাম না , রহমতুল্লাহ লোক টা ভালো মানুষ । আর ভালো মানুষ বলেই আজকে তাকে মরতে হচ্ছে । আর আমি তাকে মাড়ছি কারন সে মরলে আরেকটা ভালো মানুষ বেচে উঠবে । ভালো মানুষ টি হচ্ছে টাউন হলের একজন চা বিক্রেতা । আমি যখন কোন মারামারি করে এসে টাউন হলে বসে সিগারেট খেতাম তখন সেই চা ওয়ালা এসে চা দিয়ে যেত । টাকা থাকলেও দিত না থাকলেও দিত । হাসি মুখে বলত কি বাবা আইজকেও মারামারি করিলেন ?
তার মুখভঙ্গী দেখে মনে হয় মারামারি যেন স্বাভাবিক ব্যাপার । সে মনে হয় জিজ্ঞেস করলো কি ব্যাপার বাবা সকালে ভাত খাইছেন ? কি দিয়া খাইছেন আলু ভর্তা নাকি পাটাশাক ?
সেই চা ওয়ালা এখন হাসপাতালে । রাস্তা পার হতে গিয়ে মটরসাইকেল তার পায়ের উপর দিয়ে গেছে । সে এখন পঙ্গুপ্রায় ।
সিগারেট টা শেষ করে আরেক টা ধরালাম রহমতুল্লাহ সাহেব এখনো নাই । কতক্ষন পর যে আসবে কে জানে । সিগারেট এখন প্রায় শেষ । পকেটে আছে মাত্র ১৩ টাকা । এখন আবার সিগারেটের দাম ও বাড়ছে । কপাল ভালো হলে এই ১৩ টাকায় একটা বেন্সন এন্ড হেজেজ পাইতেও পারি । অনেকে এখন ১৪ টাকা করে নেয় ।
সিগারেট টানতেছি হটাৎ দেখি একটা মোটরসাইকেলের শব্দ । কান খাড়া হয়ে উঠলো , সিগারেট টা কেমন করে হাত থেকে পড়ে গেলো জানিনা । ডান হাত টা চলে গেলো কোমর এর কাছে । লোহার জিনিস টা এতক্ষন ঠান্ডা লাগতেছিল , হঠাৎ কেমন যেন গরম গরম লাগতেছিল । আমি একটু এগিয়ে গিয়ে শিওর হলাম রহমতুল্লাহ সাহেব কি না । হ্যা রহমতুল্লাহই তার সাথে আছে একজন । এই লোক কে ? এর কথাতো কেউ বলে নাই । ভ্যাজাল মনে হয় হয়েই যায় । গরম হয়ে থাকা রিভলভার টা হাতে নিয়ে সেফটি ক্র্যাচ টানলাম । এরপর মাত্র তিন টা শব্দ এরপর শুধুমাত্র মটোর সাইকেল এর গোঙ্গানী ছাড়া আর কিছু নেই । ১০ সেকেন্ডের মত আমি নিস্তব্দ হয়ে ছিলাম । পুলিশের গাড়ির আওয়াজ এ সৎবিৎ ফিরে পেলাম । উলটা পাশের গলি বরাবর নিঃশব্দে ছুট দিলাম । আজকে একটা খুন করতে এসে নিজের অজান্তেই জোড়া খুন করে ফেললাম । এখন দরকার একটা পরিপূর্ন ঘুম । লীডার বলেছেন কোন অপারেশন শেষে যদি কেউ পারফেক্ট ঘুম দিতে পারে তাহলে সে বেচে যাবে , না হয় সেও মরবে ।
দেখা যাক আমার ভাগ্যে কি আছে .........।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ৯:০০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×