বন্দনা:
শত প্রনাম আমার "প্রকৃতিকে"। এই মাটি, বৃক্ষ, আকাশ-বাতাস, সূর্য, তারাদের। এ আমার প্রাণের ধন, ইশ্বরের ইশ্বর। আমার শূণ্যতায়, অস্তিত্বে এবং বিলীনতায় সে নিখাদ যুক্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে। আমি চাইলেই কি অগ্রাহ্য করতে পারি তাকে? তার সুধা ধারা যে আমার প্রাণ সঞ্চারী। আমার জীবনে, শিল্পে, সংস্কৃতিতে উত্স, নাভীমূল আমার প্রকৃতি। সেতো আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, স্বর্গ এবং নরক! তার চরনেই আমার নত মস্তক।
এই নগরে এই সুখ ছিল এবার কোথা যাই রে :
আমার জন্ম নগরেই, চার দেয়ালে বন্দি দশা। মানুষগুলিও মুখোশ আঁটা। কুতসিত, কদর্য। শৈশবের শহরতলীকে কোন দৈত্য সুনিপুন গিলে খেয়েছে নির্মমভাবে। পরিকল্পিত নগরায়ন, আকাশচুম্বী ভবন, জাপানি গাড়ি, সিটিং গেইটলক মিনিবাস, হাজারো মোহ সব ভাওতাবাজি। মানুষ এসেছে, আসছে আরো আসবে। জলাশয় হয়েছে ভরাট, খালগুলি ভরাট, নর্দমা, বিষাক্ত বুড়িগঙ্গা, দূষিত বায়ু, ধোয়াচ্ছন্ন আকাশ, জ্যাম-যান-জট, বস্তি, অসম অর্থনীতি, বিকলাঙ্গ মধ্যবিত্ত, সত্য। যেন চিরন্তন সত্য! দ্রব্যমূল্য চড়া মানুষের দাম নিম্নগামী। হাজারো সমস্যায় মানুষ চায় ত্রাণ।
তাক দুম তাক দুম বাজে বাংলাদেশের ঢোল? :
এসবের মাঝেও উত্সব আসে। বলা হয় প্রাণের উত্সব। নিজস্ব সংস্কুতির শেকড় সন্ধান। ১ লা বৈশাখ। খুশির ধোম লেগে যায় আকাশে বাতাসে। লাগে শাড়ি, পান্জাবী কেনার হিড়িক। পান্তা ইলিশ ভন্ডামী। মাসখানেক গলা সেঁধে তৈরি শিল্পীবৃন্দ। এবার হবে টু পাইছ ইনকাম। সকালে রমনা, সন্ধ্যায় ক্লাবে ক্লাবে। সাথে হুইস্কি, বিয়ার, বোদকা।
এক মায়ার জাদুকর হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা সেজে আমাদের খাওয়ায় হ্যামলকের বিষাক্ত রস। সে আর কেউ না বিশ্বায়নের মাল্টিন্যাশনাল। তারই রঙ্গে কি বিহঙ্গে বাঁশি বাঁজে.....। রবীন্দ্রনাথ হয়ে যায় রবি "জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে।" এ জ্বলার কি জ্বলুনী টের পাবা হে বাপধন। ব্যাপার না। তার পেছনে অর্থও কম না। দেও হাত তালি বোগল বাঁজাও।
গারোদের সাথে গাঢ় হতে চাওয়া:
এসব ব্যবসায়ী ফন্দি ফিকির ছেড়ে আমরা রবীন্দ্রোত্তর কতিপয় যুবা চলি ক্যামেরা হাতে ময়মনসিংহের ভালুকায়। গারো পল্লীতে। খ্রীষ্টান চার্চের ছত্রছায়ায় তাদের যাপিত জীবনে। নিম্নবর্গের হিন্দু আর সচ্ছ্বল খ্রীষ্টান মেলেমিশে একাকার। উত্সবে তারা পান করে চুয়ানী সাথে শুয়রের মাংস। আমরাও মিশে যেতে চাই তাদের সাথে। সেখানে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এখনো বসায়নি পুরুষতান্ত্রিকতার মারাত্নক কোপ। জেনে এবং দেখে খুশি হই।
চড়কের চক্করে:
চড়ক পূজা। পাশে গ্রামীন বৈশাখী মেলা। মেলার জিলাপী, গামছা, বেলুন। প্রাচীন কৃষিজীবি সমাজের নিম্নবর্গীয় পূজা আর্চনা। দেখে মনে হয় দেখলাম কিছু! এতই প্রচন্ড তা! কিন্তু পশু বলি আর চড়কের ভয়াবহতা আমাদের এক প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করায়। আমরা কতিপয় মূহুর্তে রুপান্তরিত হই উল্টানো তেলাপোকায়।
আমাদের ভিডিও ডকুমেন্টরী সাথেই ট্যাগ করে দেয়া হল।
ভাবনায়-নির্মানে
আখলাকুজ্জামান খান হিমেল, এনামুল হক কবির, জহির রায়হান, শরদেন্দু চক্রবর্তী
সম্পাদনায়
এনামুল হক কবির, আখলাকুজ্জামান খান হিমেল
কৃতজ্ঞতায়
সাগর সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম জার্নাল
এবং সকল গারো আদিবাসিদেরকে
কারিগরি সহায়তা
দুই শালিক মিডিয়া প্রডাকশন লি:

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


