somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডায়রির পাতা..

০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডায়রিটা হাতে এসেছিল অনেক আগে, ২০০৭ সালে। আমার বোন যখন বাসা বদলেছিল তখন নতুন বাসার একটা ঘরের কোণে জমে থাকা পুরানো পত্রিকা আর ম্যাগাজিনের গাদার মাঝে সেটাও ছিল। ডায়রির মালিক কে জানা নেই। ব্যক্তিগত তথ্যে তিনি শুধু নিজের নামটাই লিখেছিলেন, গোপনীয়তা রক্ষা করতেই বোধহয় (পরে যে ওনার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে বা ওনার ডায়রি পড়ে ওনার সম্পর্কে জানতে পারিনি তা না, তবে সেই বৃত্তান্তে যাবনা)। ডায়রি একান্তই ব্যক্তিগত জিনিস, হুট করে কারও ডায়রি পড়া উচিত ও না। কিন্তু অচেনা- অজানা একজন মানুষের ডায়রির পাতায় লুকিয়ে থাকা রহস্যের হাতছানি উপেক্ষা করা কঠিন ছিল। তাই পড়ে ফেলেছিলাম সেই দিনলিপি। আজকি বহুদিন পর সেই ডায়রি উল্টে-পাল্টে দেখছিলাম, তখন মনে হল এর একটি অংশ এখানে তুলে ধরা যায়...কিংবা বলা উচিত তার চিন্তা- ভাবনার এই দিকটি তুলে ধরা জরুরি।


8 August 2004
Sunday
12:10 a.m.

Dear diary,

আজকে মন ভাল নেই। খুব অস্থির লাগছে। আমি আসলে ক্লান্ত...আমার আশেপাশের মুখোশধারী মানুষদের দেখতে দেখতে ক্লান্ত। আজ হঠাৎ কিছু ঘটনা আমায় নতুন করে ভাবাচ্ছে, নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে পুরানো ঘটনা। মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই মানুষটার কথা, যে বাসায় স্ত্রীর ওপর শারীরিক- মানসিক নির্যাতন করত, অথচ বাইরে গিয়ে কথা বলত নারীমুক্তির। তার প্রতিটা কথায় কী প্রবল আত্মবিশ্বাস! কে বলবে যে সেসবের কিছুই তার ভেতর থেকে আসেনা!

কিংবা আমার সেই বন্ধু, যার সাথে আমার হয়ত বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি কিছু ছিল। মনে পড়ে তার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা, তার কথা শোনা...। ঘুণাক্ষরেও জানতে পারিনি যে কী পরিমাণ মিথ্যা সে আমায় বলেছে...নির্দ্বিধায, নির্লিপ্তভাবে। কী নিপুণ তার মিথ্যা বলার কায়দা! মুখোশের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে সে আমার সামনে এসেছিল, আজও জানিনা তার আসল চেহারা কোনটা। বিশ্বাসভঙ্গ হলে কেমন লাগে তা আমি সেদিন প্রথম জেনেছিলাম। এদেরকেই কি বলে হিপোক্রেট?

মনে পড়ছে আমার কলেজের সেই বান্ধবীর কথা, যে পুরো ক্লাসটা হাসি- ঠাট্টায় মাতিয়ে রাখত। যাকে কখনো গোমড়া মুখে দেখিনি সে একদিন ক্লাস শেষে আমার কাঁধে মাথা রেখে আমার জামার ডান দিকটা চোখের জলে ভিজিয়ে দিয়েছিল। বাসার রোজকার অশান্তি আর বাইরে এসে এই খুশি থাকার একঘেয়ে ক্লান্তিকর অভিনয় যে ওকে দিয়ে আর হচ্ছিলনা...। সচক্ষে যা দেখি তা আমরা সহজেই বিশ্বাস করি। কিন্তু যা দেখি তার সবটাই কি সত্যি?

আমি ভেবেছিলাম যে এসব কথা ভুলেই গেছি...কিন্তু এখন দেখছি দিব্যি মনে আছে...আজকের ছোট্ট ঘটনাটা বন্ধ দরজা খুলে সব বের করে আনল। সে ঘটনার কথা তোমাকে জানাতেই কলম হাতে বসা..অথচ কেন জানি লিখতে খুব বাঁধছে...মাঝপথে থেমে যেতে চাইছে কলমটা। সব কথা বোধহয় জানানোর জন্য না। থাক নাহয়, এ কথাটা আমার নিজের কাছেই থাক...। ভাল থেক, পরে লিখব আবার, কোন একদিন। আপাতত বিদায়...।

(না, কোন ডায়রি আমার হাতে আসেনি। আমি সহজেই বলতে পারতাম উল্লিখিত সব ঘটনা ও চরিত্র কার্ল্পনিক। কিন্তু এমনও তো হয, তাইনা...)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:৫২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×