somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি দুর্ঘটনার গল্প...কিংবা, একটি গল্পের দুর্ঘটনা

২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকেও আকাশটা মেঘলা, সকাল থেকেই। ক্লাস-টাস বাদ দিয়ে বাসায় গিয়ে কাঁথামুড়ি দিয়ে ঘুমাতে পারলে ভাল হত। আজকের লেকচারটা শোনা নেহায়েতই জরুরি বলে কেটে পড়ছে না ধীরেন।

মানুষের চিন্তাধারা কিভাবে বদলায়...। একসময় মেঘলা আকাশ দেখে যে ধীরেন গল্প ফেঁদে ফেলতে পারত, সেই ধীরেন ভাবছে বাসায় গিয়ে ঘুমানোর কথা। অবশ্য ধীরেনকে ও দোষ দেওয়া যায় না। ও তো লিখতেই চায়। কিন্তু বছরখানেক হল গল্পরা যেন ওকে ছেড়েই চলে গেছে। কোনভাবেই মাথায় কিছু আসেনা। এই অলিখিত শত্রুতার কারণ ধীরেন বোঝেনি। আপনা থেকে না আসায় একসময় বিরক্ত হয়ে রীতিমত জোর করেই গল্প বানাতে বসেছিল। কিন্তু গল্প আর এলো কই...

অলস ভঙ্গিতে বসে ধীরেন ক্লাসটায় চোখ বুলাতে লাগল। এই পিরিয়ডটা অফ। এরপরের ক্লাসটা করেই ও নির্ঘাত বাড়ি চলে যাবে। একসময় এই ক্লাসরুম, কানে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের ছাড়া ছাড়া কথা- এসব নিয়েই হয়ত কিছু লিখে ফেলতে পারত ধীরেন।

ধীরেনের লেখার হাত ছোটবেলা থেকেই ভাল। অবশ্য এই ছোটবেলা মানে ঠিক শিশুকাল নয়। ১২/১৩ বছর হবে তখনকার কথা। হ্যা, এর আগেও যে বাচ্চাদের ছড়া কি গল্প লেখেনি এমন না, তা ওইগুলো বাদই দিলাম নাহয়। বড় হতে হতে লেখায় দখল আরও বাড়তে লাগল ধীরেন এর। পত্রিকায়, বেশ কিছু লিটল্ ম্যাগাজিনে গল্প ছাপা হতে লাগল ওর। বন্ধুমহলে লেখক ধীরেনের জনপ্রিয়তা তখন তুঙ্গে। ধীরেনের মাথায় তখন প্লট গিজগিজ করে...যা দেখে তাকেই গল্প বানিয়ে ফেলতে চায় সে। কিন্তু হঠাৎ করেই একসময় ও আবিষ্কার করল যে, কেন যেন আর গল্প আসছেনা। প্রথমে ব্যাপারটাকে খুব একটা আমল দেয়নি ও। ও তো আর মেশিন না যে গল্প একের পর এক লিখে যেতেই থাকবে... ঠিক হয়ে যাবে নিশ্চয়ই। কিন্তু ঠিক হয়নি। এবং এই ঠিক না হওয়ার মেয়াদের দীর্ঘতা দেখে ধীরেন সত্যিই বিচলিত হয়ে উঠেছিল। বন্ধুদের প্রশ্ন, সান্তনা আর উপদেশের ফাঁকে যেই কথাটা বেশি মাথায় আসত তা হল, গল্পরা কি তবে ছেড়ে যাচ্ছে?

আজ কী একটা গল্প নিয়ে ভাবা যায় না? অনেকদিন পর ধীরেন ভাবে এই কথা। ধরি আমারই গল্প...এই যে, এই গল্প লিখতে না পারা...লেখকের এই তৃষ্ণা, কিছু সৃষ্টি করার আপ্রাণ চেষ্টা, আকুলতা...এ ও কি লেখা যাবেনা? একটা গল্পও কি আসবে না আর! ধীরেন ভাবে। ক্লাসের এক কোণে বসে নিবিষ্ট মনে ভেবে চলে ধীরেন। ওর এই মৌনী সাধুর মত রূপ দেখেই যেন বা, ওর বন্ধুরা ওকে ঘাটায় না। কিছু সময় যায়। ধীরেন তখনও স্থির বসা। হ্যা, কিছু একটা আসছে ওর মাথায়...হয়ত...।

সবটুকু প্লট না গুছিয়ে লেখেনা ধীরেন। মাথায়ই আগে মোটামুটি একটা খসড়া করে নেয়। ভাবতে ভাবতেই ক্লাস রুম থেকে বের হতে থাকে ধীরেন। লেকচার চুলোয় যাক। মাথায় আর কিছুই ঢুকাতে চায় না সে। কেবল এই গল্পটা, আর কিচ্ছু না। 'এই শমী, আমি গেলাম। নোটগুলা টুকে রাখিস, পরে নেব নে।' বন্ধুকে বলে বের হয়ে আসে ধীরেন। 'গেলাম মানে! কই যাস তুই? ক্লাস না করবি বললি?' প্রশ্ন আসে। 'পরে, পরে..পরে বলব।' বলেই হাঁটা দেয় ধীরেন।


চলবে...

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৫৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×