somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য
বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা পড়শি বসত করে, একঘর পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।

সামনে নির্বাচন; বিরাট ফাটাফাটি হবে

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১৯৭৮ সালে যখন বিএনপি গঠিত হয়, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত, আওয়ামী লীগবিরোধী লোকজন, উচ্চাভিলাষী এবং আধুনিক লোকজনকেই বাছাই করেন জিয়া। কট্টর আওয়ামী লীগাররা বিএনপিতে যাওয়ার কথা না। যদিও পরবর্তীতে শেখ হাসিনা দলটাতে যখন পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করেন, তখন অনেকেই বিএনপি বা জাতীয় পার্টিতে চলে যান। পরিণাম যে ভালো হবে না সেটা তখন বোঝেননি; মনে হয় না এখনও বোঝেন।

একই রকম ভুল তাঁর বাবা করেছিলেন। ১৯৭২ সালে যখন জাসদ গঠিত হয়, তখনই বোঝা গিয়েছিল তাঁর রাজনীতি কঠিন হয়ে যাবে। অথচ উনি চাইলেই জাসদের লোকজনকে ব্যালেন্স করে দলে রাখতে পারতেন। একটা দলে বিভিন্ন মতাদর্শের লোকজন থাকে না? শেষদিকে যেহেতু বামপন্থার দিকে ঝুঁকতেই হলো, আগে থেকে অনুমান করতে পারলে হয়তো বেঁচে যেতেন।

বিএনপি রাজনীতিতে বেশিরভাগ সময় জামায়াত বা তাদের সমমনাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাই তো দেখা যায় জামায়াতিরা আর কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে পছন্দ না করলেও জিয়াকে ঠিকই পছন্দ করে। মেজর ডালিম বা কর্নেল রশিদ, হুদাদেরও পছন্দ করে যেহেতু তারা শেখ পরিবারকে সমূলে ধ্বংসে আমেরিকার দেওয়া গুরু দায়িত্ব পালন করেছে।

এম এ জলিলও তাদের পছন্দ। কারণ ওই একটাই না যে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের লুটপাটের বিরোধিতা করেছেন। ভদ্রলোক মুক্তিযোদ্ধা হলেও তার আফসোস ছিল কেন পাকিস্তান ভাঙার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। তার মৃত্যু কিন্তু পাকিস্তানে হয়েছিল সম্ভবত কোনো একটা ধর্মীয় আয়োজনে গিয়েছিলেন।

তাহেরকেও তারা পছন্দ করত যেহেতু শেখ হত্যার প্রেক্ষাপট রচনায় তাঁর ও তাঁর দলের লোকজনের অবদান ব্যাপক। তবে তাকে নিয়ে আলোচনা কম। কারণ সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে জিয়া তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ছিলেন। তাহের ও তাঁর লোকজনের কপাল খারাপ। এতকিছু করেও ভাগে কিছুই পাননি। জিয়া উড়ে এসে জুড়ে বসে সব নিয়ে নিয়েছিলেন।

৫ই আগস্ট পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ আন্ডারগ্রাউন্ডে। এখনই সম্ভবত সবচেয়ে স্বাধীনমতো রাজনীতি করতে পারছে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্যরা। গ্যাঁড়াকলে শুধু আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও তাদের জোটসঙ্গীরা। জামায়াত বেশ কিছু জায়গায় সাফল্যও দেখাচ্ছে অবশ্য। যেমন তাদের ছাত্রসংগঠন শিবির ডাকসুতে জিতল। জাতীয় রাজনীতিতে কতটুকু ভালো করে সেটাই প্রশ্ন।

ডাকসুতে জেতা মিরাকল ছিল, এখানেই যেহেতু সফল হলো জাতীয় রাজনীতিতে ভালো করার সম্ভাবনা আছে। ৫ই আগস্টের পরপরই বা ৬ মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হলে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী হতো নিশ্চিত। এখন মনে হয় না সম্ভব হবে। কারণ তাদের ২০০১-২০০৬ সালের ইতিহাস ফিরে ফিরে আসছে নেতাকর্মীদের কাজকর্মে। চাঁদাবাজিসহ এহেন কর্ম নেই তারা করছে না।

জামায়াত কিন্তু জায়গামতো হাত দিয়েছে। তারা প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নজর দিয়েছে। আদর্শ যাই হোক, তারা কিন্তু নেতা নির্বাচনে সঠিক লোকই বাছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জাতীয় পার্টির মতো পারিবারিক বলয়ে নেই।

সামনে নির্বাচন; বিরাট ফাটাফাটি হবে সে কথা বলাই বাহুল্য। বিএনপির জন্য একটু মায়া লাগছে। কারণ তারা তো এতদিন বড় একটা দলের সাথে লড়াই করেছে। এখন তাদের নেতাকর্মীদের এমন লোকদের সাথে লড়তে হচ্ছে যারা তাদের নেতাদের অনুগ্রহে বাঁচতে হয়েছে। যাদেরকে তাদের নেতা আশ্রয় দিয়েছে, রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে তারাই এখন চোখ রাঙাচ্ছে। পাশাপাশি কচিকাঁচাদের বালখিল্যতাও সহ্য করতে হচ্ছে।

সমস্যা নেই। দুঃসময়ে অপমান গায়ে মাখতে নেই। নির্বাচনে জিততে পারলে সব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যাবে।

ছবি
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:৫৫
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×