somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তবে আমরা কেন পারব না!

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯১০ সাল। করোলি টাকাক্স, হাঙ্গেরির এক পরিবারে জন্ম নেয়া এক ছোট শিশু। যে ছেলে পরাজিত হতে শিখেছে কিন্তু কখনও হার মানতে শিখেনি। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন পিস্তল শুট্যার হবে, নিজের দেশের জন্য কিছু করবে। স্বপ্নপূরণের প্রথম লক্ষে যোগদান করে হাঙ্গেরিয় সেনাবাহিনীতে। করোলির তীব্র মনোভাব আর কঠোর পরিশ্রম তাকে নিজ দেশের সবচেয়ে বড় শুটার করে তোলে। হাঙ্গেরির জাতীয় স্বর্ণপদকসহ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে পদক অর্জন করেন। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি কারন স্বপ্ন যে ছিল দেশকে কিছু দেবেন। স্বপ্নটাকে আর একটু কঠিন করে নিলেন, সিদ্ধান্ত নিলেন ১৯৪০ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অলিম্পিকে পিস্তল শুটিংয়ে নিজ দেশের হয়ে লড়বেন।

করোলির স্বপ্নটা এতো সহজ ছিল না, গত কয়েকটা বছর খুব কঠোর পরিশ্রম করেছেন, নিজেকে কষ্টের চরম সহ্যসীমায় নিয়েগেছেন কিন্তু হার না মানতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অলিম্পিকের আর মাত্র কয়েক বছর বাকি। নিজেকে গড়ে তোলা প্রায় শেষ, এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

১৯৩৮ সাল। হাঙ্গেরিয় সেনাবাহিনীর একটা অপারেশনের দায়িত্ব দেয়া হলো তাকে। কে জানতো সেই দিনটা তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্নের উপর সবচেয়ে গভীর আঘাতটা হানবে। অপারেশনটাতে তাঁর ডানহাতে একটা গ্রেনেড ফেটে পুরো হাত উড়িয়ে নিয়ে যায়। যে হাত দেশের জন্য স্বর্ণপদক এনে দেয়ার অপেক্ষায়, সে হাত-ই চলে গেল। তাঁর সামনে দুটো পথ খোলা ছিল, হয় সারাজীবন কাঁদতে থাকো না হয় লড়াই করো। একমাস হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে শুরু করলেন লড়াই।

তাঁর যা ছিল সেটার কথা চিন্তা না করে যা আছে সেটা নিয়ে আবারও শূন্য শুরু করলেন; বেছে নিলেন নিজের বাম হাত। যে হাত দিয়ে কখনও কলম ধরতে পারতেন না সে হাতেই তুলে নিলেন পিস্তল, শুধু জানতেন তাকে অলিম্পিক জিততে হবে।

১৯৩৯ সাল। করোলি নিজের বামহাত নিয়ে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে গেলেন, কিন্তু কেউ জানত না তিনি গত একবছর কঠোর শ্রম দিয়ে নিজেকে আবার গড়ে তুলেছেন। ঐ দিন দেশের সবাইকে চমকে দিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। নিজেকে আবার গড়ে তুলতে থাকেন ১৯৪০-এর অলিম্পিকের জন্য।

১৯৪০ সাল। করোলির স্বপ্নপূরণের বছর কিন্তু আরেকটা আঘাত হানল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৪০-এর অলিম্পিক বন্ধ ঘোষনা করা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারনে। তিনি আশা ছাড়েন নি, এবার লক্ষ্য ১৯৪৪-এর অলিম্পিক। আর সেটাও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হলো। নিজের লক্ষ্যে একের পর এক বাঁধা, তিনি এবারও হাল ছাড়েন নি। লক্ষ্য ছিল একটাই, শুধু জিততে হবে।

১৯৪৮ সাল। দুইবার বন্ধ থাকার পর আবার অলিম্পিক শুরু হয়েছে। করোলির বয়স তখন ৩৮ বছর, এই বয়সে এসে লড়াই করা খুব সহজ ছিল না তবুও তিনি নিজের লক্ষ্যে অবিচল। এত বছর ধরে যে স্বপ্ন দেখেছেন তাকে মরতে দেননি করোলি। অলিম্পিক যেদিন শুরু হবে ঐ দিন তাঁর এক প্রতিদ্বন্দ্বী তাকে দেখে বলেছিল, "তুমি এখানে কি করছ?" করোলি বলেছিলেন, "আমি এখানে লড়াই করতে এসেছি, আমি জিততে এসেছি।" অলিম্পিকের ঐ আসর শেষ হয়ে গেল, কে জিতেছিল স্বর্ণপদক!..ঐ বামহাতি পিস্তল শুটার, করোলি টাকাক্স। শুধু তাই নয়, তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো পিস্তল শুটিংয়ে স্বর্ণ জেতেন যা এর আগে অলিম্পিক ইতিহাসে কেউ কখনও করতে পারেনি।

তবে আমরা কেন পারব না!

Writer- Anisul Islam Faisal
Info Help- Wikipedia

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:১৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাত কি আদতেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার রাখে?

লিখেছেন এমএলজি, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

স্পষ্টতঃই, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামাত। দুই পক্ষের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেমন সক্রিয়, একইভাবে ফেইসবুকেও সরব।

বিএনপি'র কিছু কর্মী বলছে, জামাত যেহেতু ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×