somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিষণ্ণতা

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিষণ্ণতা এক অদ্ভুত রোগ, যখন পেয়ে বসে, মানুষের মনটা কেমন স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়, কিছুই ভাল লাগে না, কিংবা ভাল লাগার অনুভূতি গুলো সাময়িকভাবে বিশ্রাম নিতে শুরু করে। কোন কারণ নেই, কোন ব্যাখ্যা নেই, তবুও এক ভূতা অনুভূতি কেমন করে চারপাশের সবকিছুকে কেমন বিরক্ত এবং অসহনীয় করে তুলে তা বলে বা লিখে বুঝনো কঠিন। মানুষ প্রাণিটি খুব জটিল, মস্তিষ্ক নামক এক স্লট মেশিন কয়েন ছাড়াও অবিরাম খেলে যায়। বসে থাকার মতো ক্লান্তি নেই, দরকারের অদরকারের সব চিন্তা সে করতেই থাকে। আধুনিক বিজ্ঞান বলে মন বলে আলাদা কিছু নেই, মস্তিষ্কেরই একটা অংশ কিন্তু আমরা মনকে আলাদাভাবেই ভাবতে পছন্দ করি। মনটা বড়ো বর্ণচোরা। নানা রকম বর্ণ ধারণ করতে পটু। এই রঙ হলুদ,নীল বেগুনী কিংবা আকাশী নয়, অদৃশ্য হাজার রকম রঙের খেলা করে মনে। আনন্দ মনকে ভাসিয়ে দেয় হাজার রঙের সমুদ্রে। দুঃখবোধ কেমন করে জানি সেই সমুদ্রকে ছোট করে করে নিয়ে আসে পুকুরের কাছে। বিষণ্ণতা আরো কঠিন অবস্থা। পুকুরের পানি একদম নীরব, ঢেউ খেলে না। বিষণ্ণতা ভাঙাতে কারো ঢিল ছোড়া চাই। কিন্তু এমন সব পরিস্থিতে ঢিল নিয়ে কেও বসে থাকে না বলেই এই সময় কেমন করে জানি ক্লাসিক্যাল পদার্থবিদ্যার সমস্ত সূত্রকে ভুল প্রমাণিত করে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। প্রতিটি মুহূর্তকে আলাদা আলাদা করে চেনা যায়। কোয়ান্টাম মেকানিকস এ এমন একটা ব্যপার আছে, পানির ধারাকে সরু করতে করতে এমন এক সময় আসে যখন তা আর ধারা থাকে না, ফোটায় পরিণত হয়, আলোর ব্যাপারটাও এমন, উৎস থেকে প্রবাহ সরু সরু করতে করতে এমন অবস্থায় আসে যখন আলোকে আর প্রবাহের ছকে ফেলা যায় না, তখন কণায় পরিণত হয়,যাকে ফোটন বলে এবং তখন এদেরকে গণা হয়, একটা আলো, দুইটা আলো এভাবে। বিষণ্ণতায় সময় গুলোকে এভাবে আলাদা আলাদা ভাবে গণা যায়। প্রতিটি সময়ের একক গুলোর বিস্তৃতি এতো এতো বিশাল যে প্রত্যেকটির মাঝে আরও অদ্ভুত সব ব্যাপার থাকে। প্রতিটি মুহূর্তেই অদ্ভুত সব চিন্তা রাজি তোমাকে হুল ফুটিয়ে যাবে, তুমি হয়তবা চিৎকার করবে মনে মনে, কিন্তু তোমার এই চিৎকার কেও বুঝতে পারবে না। তুমি হয়তবা আশা করবে, কেও তোমার সেই ছোট্ট পুকুরে ঢিল ছুড়ে প্রবাহের সৃষ্টি করবে, কিন্তু তা কখনোই হবে না, আরো কঠিন হতাশা সৃষ্টি হতে থাকবে। এ এক অদ্ভুত ব্যাপার। অথচ আনন্দের ব্যপার গুলোতে এই ব্যপার গুলো থাকে না। আইনস্টাইন ভর করে বসে আনন্দময় সময়গুলোর ঘাড়ে, বিশাল সময়ে বিস্তৃত সমুদ্রে তোমার নৌকা মুহূর্তেই অচিন্তনীয় দ্রুততার সাথে পার করিয়ে নিয়ে যায়, ঠিক বুঝেই উঠা যায় না, সময়ের প্রসারণ তখন উল্টে থাকে, অনেক বিশাল সময় কেমন করে এতো ছোট হয়ে যায় সেটাই আশ্চর্য। এ এক কঠিন ধাঁধাঁ।

মাঝে মাঝে মনে হয়, এই আমি, আমার অস্তিত্ব, অনর্থক। আমি বসে আছি, অযথা। তবে অস্তিত্ব এবং অনস্তিত্ব নিয়ে দ্বিধা থেকে জন্ম নেয় নতুন এক ধারণা। আমাদের এই অস্তিত্বের সমান্তরালে হয়তবা আছে আরও সব অস্তিত্ব। অস্তিত্ব সরলরেখার মতো এগিয়ে চলে অনস্তিত্বের সন্ধানে। এজন্য আমি আমার আমিকে কখনো দেখতে পাই না। নিজেকে বড়ো দেখতে ইচ্ছে করে। আমি হয়তবা বসে বসে গভীর বিষণ্ণ হয়ে অদ্ভুত সব ভাবছি, আর আমার দ্বিতীয় অস্তিত্ব হয়তবা আমার এই অবস্থা কিছুক্ষণ আগেই পার করে এসেছে, সুতরাং সে আগে থেকেই জানে, কিভাবে সময়ের অদ্ভুত প্রসারণ থামিয়ে দেওয়া যায়। তার কাছ থেকে জেনে নিয়ে আমিও থামিয়ে দেবো আমার প্রসারণ। কিন্তু আবার ভয়ও আছে, দুটি অস্তিত্ব সামনা সামনি দেখা হলে হয়তো নতুন অস্তিত্বের প্রবাহে সৃষ্টি হবে। নতুন অস্তিত্বে হয়তো, এই আমি নূতন হয়ে যাবো, আমার আমি তখন নতুন মাত্রা পাবে, কিন্তু আগের আমিটাকে খুব মিস করতে শুরু করবো। তখন শুরু হবে আবার নতুন সময়ের প্রসারণ। আবার সেই হুল ফুটানো আত্নচিৎকার। এই অদ্ভুত লোপ আরো কঠিন সময়ের মধ্যে নিয়ে আমাকে ফেলে দিতে পারে।

না, আর হচ্ছে না, অস্তিত্বের অন্তর্ঘাত খুবই অসহনীয়।

বিষণ্নতার কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে -

নিস্তব্ধতার আধার আর জেগে থাকার সারশূণ্যতায়
আমাকে ঘিরে ক্রমেই বেড়ে উঠছে এক বুক হতাশা।
বেচে থাকার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গগুলো ক্রমশ নির্জীব ধাবিত,
জাগতি আলোময় কোলাহল গুলো কেমন দূর থেকে
দূরে বহু দূরে যেতে যতে নিঃশেষ হতেছে প্রায়।
মাঝে মাঝে বেদনার হুলফুটানো আত্নচিৎকার ভেসে যায় দেহের প্রতিটি শিরা উপশিরায়।
আর ঘনকোয়াশার রঙহীন আকাশ মনের অজান্তেই
ফেলে আসা দিনের স্মৃতির মতো বাররার ঘিরে রাখে কোন অজানায়।
অলস ভাবনা গুলোর ক্লান্তিতে যেন বেঁচে থাকায় দায়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×