বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের ব্যাবসায়ী সমাজ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সমন্বয় রক্ষার জন্য সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনের পরিবর্তে এক দিন এবং ঐ দিন যেন রোব বার হয় এই দাবি করছেন । কিন্তু সচেতন মুসলিম সমাজ শুক্রবারের বদলে রোব বার সাপ্তাহিক ছুটির বিরোধিতা করছেন । এবং কেন করছেন , কারন হিসেবে বায়তুল মোকারমের খতিব সাহেব থেকে শুরু করে আলেম সমাজের নেতারা শুক্রবার ছুটির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন । বাংলাদেশ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র । শুক্র বার মুসলমানদের কাছে অতি পবিএ , যেমন রোব বার খ্রিস্টান দের কাছে পবিএ। রোব বারে ছুটি ঘোষনা করেছে, এমন মাএ কয়েকটি মুসলিম রাষ্টের উদাহরন দেয়া হচ্ছে । এই সিদ্্বান্ত হয়েছিলো ব্রিটিশ আমলে চাপিয়ে দেয়া , যা পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে এখনো কিছু মুসলিম রাষ্ট্র জনগনের ইচ্ছার বাহিরে বহাল রেখেছে । মধ্য প্রাচ্য সহকারে অধিকাংশ মুসলিম দেশে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র বার পালিত হচ্ছে। তা ছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে আমাদের সময়ের পার্থক্য ক্ষেএ বিশেষে দশ থেকে বার ঘন্টা । অর্থাৎ ওদের দেশে দিন আর আমাদের দেশে রাত । তা হলে রোব বার সমর্থক দের দাবি অনুযায়ী আমাদের দেশে অফিসের সময় রাতেই হওয়া উচিৎ নয় কি?
দুই যুগ আগে গৃহীত সিদ্ধান্ত বদলিয়ে দেশের অধিকাংশ মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কহীন অন্য আরেকটি সিদ্ধান্ত নেয়া অযৌক্তিক ।এতে বিতর্ক ও প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক এবং এই প্রশ্নে জর্জরিত হবেন , সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার । অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে সব কথা বলে রোববার এর প্রস্তাব আসে , তাও যুক্তি গ্রাহ্য নয় । কারন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ক্ষেএে রাজনৈতিক সহিংসতা,পর্বতসম দুর্নীতি এবং দেশ প্রেম হীন কর্মকান্ডই দায়ী । এ ক্ষেএে শুক্র বার টেনে আনা হাস্যকর । আমাদের দেশের মতো দরিদ্র দেশে এক দিনই ছুটি হওয়া উচিৎ । এবং ঐ দিন শুক্র বার হওয়া উচিৎ । যারা রোব বার ছুটির দাবি তুলেছেন , তারা নিজস্ব প্রতিষ্টানে এই ছুটি কার্যকর করতে পারেন । তবে এত বড় একটি সিদ্ধান্ত পুরো জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবেনা ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:৩২