বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে গেছে। আমাদের কয়েকজনের মন খারাপ। সংস্কৃত পরীক্ষা খুব খারাপ দিয়েছি। বোধহয় এবার পাশ করতেই পারবোনা।
পন্ডিত মশায়ের বাড়ি গিয়েছিলাম। পন্ডিতমশায় প্রথমে আমাদের পাত্তা টাত্তা দিলেনই না। বার বার যাবার পরে পন্ডিত মশায় বললেন তোদের কি খবররে? সব জানিয়ে টানিয়ে পন্ডিত মশায়ের পায়ে পড়ে গেলাম। হিতে বিপরীত হয়ে গেল। পন্ডিত মশাই আমাদের সবকটার ওপর ক্ষেপে গেলেন। যাও একটু পাশ করার আশা ছিল তাওও বোধহয় হলনা । আমরা খেলার মাঠে যাওয়া ছেড়েই দিলাম। কাউকে যে মুখ দেখাতে পারবোনা। ফল বের হবার দিন যত এগিয়ে আসছে ততই উত্কন্ঠা বেড়ে যাচ্ছে। খাওয়া দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিলাম।
একদিন রাজাদা সন্ধ্যেবেলায় আমাদের খোঁজ নিতে চলে এলেন। সব শুনে টুনে বললো তোরা এবার ভালভাবে পাশ করবি। আর সংস্কৃতেতো ভালই নম্বর পাবি। আমরা ভাবলাম রাজাদা কি করবে। পরীক্ষাতো দিয়েছি আমরা। রাজাদাতো স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে গেছে কবে।
ফল বের হবার দিন বাড়ি থেকে ঠিক সময়ে বেড়িয়ে গিয়ে সোজা ষ্টেশনের ওভার ব্রীজের ওপরে মন খারাপ করে বসে রয়েছি। স্কুলে যাইনি। বাড়ি যাবার প্রশ্নই নেই।
দুপুরের দিকে ছুটতে ছুটতে রাজাদা এসে বললো তোরা এখানে? আমি কখন থেকে খুঁজছি তোদের। তোরা সবাই ভালভাবে পাশ করেছিস। চল স্কুলে চল। পন্ডিতমশাই তোদের খুঁজছেন। আমরা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।
গল্পটা রাজাদার কাছে সন্ধ্যেবেলায় শুনলাম। রাজাদা বললো তোদের কাছে ফেল করার কথা শুনে সোজা কুন্ডুর কাপড়ের দোকান থেকে একজোড়া 'থান' কাপড় কিনে সাইকেলটা নিয়ে সোজা পন্ডিত মশায়ের স্ত্রীকে 'থান' কাপড় জোড়া দিয়ে বলে দিলাম কাকে কাকে পাশ করাতে হবে। নইলে এই থান কাপড় আপনাকে সারাজীবন পড়তে হবে। ব্যস কেল্লা ফতে, তোরা সবাই পাশ করে গেলি।
আমি অবশ্য হায়ার সেকেন্ডারী পরীক্ষায় সংস্কৃতে 'লেটার মার্কস' পেয়েছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



