আমাদের দেশের বেশিরভাগ ছাত্রের অভিভাবকরা এমনটা ভাবে যে, আমার সন্তান একটা ভালো চাকরি করবে। গরিব দেশতো তাই। স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং সৃষ্টিশীলতার কোন লক্ষণ তাদের মাঝে নাই। এর একটা প্রভাব আমাদের ছাত্র/ছাত্রীদের উপর পড়ছে।
যে কারনে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ভাবে, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বিষয়ের উপর পরীক্ষা দেব যেটাতেই হয়। তবুও আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। না হলে ভালো চাকরি হবে। আর ভালো একটা লাইফও হবেনা।
বুয়েটে মারে প্রথম, না হইলে মেডিকেল , তাও না হইলে ভার্সিটিতে অনার্স।
এই সুযোগ সন্ধ্যানি সভাবের বাস্তব প্রতিফলন দেখাগেলো এবার বিসিএস এ । প্রশাসনে আর ফরেনে যারা প্রথম হইছে সেই দুইজনের ছবি পত্রিকায় ছাপা হইছে ঘটা করে। বলা হচ্ছে বাজিমাত।
আসলেই বাজিমাত।
পাবলিকের কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে জীবনের প্রথম ধাপেই এমন সুযোগবাজির খেলায় যে সফল হতে, এমন করে যে ডিগবাজি খেতে পারে তার এই সফলতাকেতো বাজিমাত বলাই লাগে।
আমি বলছিনা যে সে প্রশাসনের জন্য উপযুক্ত নয়। আমার ধারনা সে অবশ্যই প্রশাসনের উপযুক্ত। তবে সমস্যা বাঁধে সেখানে যখন সে একসময় বিদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বা কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়ে চলে যাবে তখন এই পদের আবার শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তখন ...?
প্রশাসনে চাকড়ি করা নিশ্চয় তার স্বপ্ন ছিলোনা। মাঝ পথে স্বপ্ন বদল হলো। এটি কি কারনে? এর কারণ সুযোগ পাইলাম, নিয়ে নিলাম।
আবার ধরি প্রশাসনে চাকরি করা তার ইচ্ছা ছিলো। তাহলে বলবো বুয়েটে ভর্তি হয়ে একটি সিট দখল করে অন্য একজনের পড়ার সুযোগ নষ্ট করার কোন মানে হয়নি এবং পাবলিকের ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করারও কোন মানে ছিলোনা।
অন্য একজন পড়লো মাইক্রোবায়োলজিতে, আর ক্যাডার হবে ফরেনের। পড়া লেখার বিষয়ের সাথে চাকরির একটা সমন্বয় থাকা দরকার নয়কি। না হলে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফেলাহোক। আর কোন বিষয় পড়ানো হবেনা। খালি ইনিঞ্জিনিয়ারিং। চাপরাশি থেকে কবি বাউল থেকে রাষ্ট্রনায়ক সবাই ইন্জিনিয়ার।
স্পেশালাইজেশনের কোন দরকার নাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



