somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী মুক্তি, নারী অধিকার এবং রোকেয়া

১২ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সাম্প্রতিক সময়ে রোকেয়া নিয়ে এদেশে একপ্রকার ঝড় বইছে, ঘটনার মুল কারন আমি জানতাম না, আজ সকালে এক ছোট ভাই আমাকে বলল স্যারের রোকেয়াকে নিয়ে পোষ্ট দেখেছি কি না, সাথে নিচে আপলোড করা ছবিটা আমাকে দিল । পরে বিষয়টা এক বন্ধু জানাল 'স্যার রোকেয়াকে কাফির মুরতাদ এরকম কিছু একটা বলেছেন' ।

আমি খবরের কাগজের কাটিং এ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বলা কথা দেখে রীতিমত অবাক হয়ে গেলাম ।
রোকেয়াকে মুরতাদ কাফির বলার সাথে উস্কানিমুলক বক্তব্য, রোকায়াকে অবমাননা, বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ধর্মকে অপব্যাখ্যা করে নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা, রোকেয়ার নাম কাজ আদর্শকে ভয় পাওয়া, বিভ্রান্তি ছড়ানো এসবের কি সম্পর্কে ? এসব কেন আসছে ?

চলুন এবার জেনে আসি কাফির কাকে বলেঃ কাফির শব্দটি কুফর থেকে উৎকলিত। ‘কুফর’ শব্দের অর্থ হচ্ছে অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা অথবা গোপন করা। বাংলাতে ‘কাফের’ শব্দের অর্থ করা হয় অবিশ্বাসী । যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত দ্বীন ইসলাম বা ইসলামের কোন অংশকে, ক্বুরানুল কারীম বা এর কোন আয়াত, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম অথবা কোন একজন নবী অথবা রাসূলকে অস্বীকার করে, ইসলামি আকিদাহ বা এর মৌলিক কোন ধর্মীয় বিশ্বাস বা অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমানিত ইসলামের কোন বিধি-বিধানকে অস্বীকার করে, অবিশ্বাস করে, প্রত্যাখ্যান অথবা এইগুলো নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বা অবজ্ঞা করে, নিঃসন্দেহে সে ব্যক্তি একজন কাফের। কাফের চির জাহান্নামী, সে কোনদিন জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবেনা। অনন্তকাল সে জাহান্নামে কঠিন শাস্তি পেতে থাকবে।
উদাহরণঃ ইয়াহুদী ও খ্রীস্টানরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কে ‘রাসুল’ বা আল্লাহর দূত হিসেবে বিশ্বাস করেনা, ক্বুরানুল কারীম ‘আল্লাহর কালাম’ বিশ্বাস করেনা, একারণে তারা কাফের, তারাও চির জাহান্নামী যদিওবা তারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। অনুরূপভাবে নাস্তিক যারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনা তারাও কাফের। সোর্সঃ কাফের কাকে বলে? - সালাফি ফোরাম
এবার জেনে আসি মুরতাদ কাকে বলেঃ ঈমান আনয়নের পর কুফরীতে ফিরে যাওয়াকেই মুরতাদ বলে। প্রকাশ্যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে গালি দেয়া, শরী‘আতের কোন অংশকে অস্বীকার করা, প্রকাশ্যে স্বজ্ঞানে বড় শিরক করলেই একজন মুমিন কাফির হয়ে যায়, যাকে মুরতাদ বলে। সোর্সঃ মুরতাদ কাকে বলে?- মাসিক আল ইখলাস

রোকেয়াকে কাফির, মুরতাদ বলা হলে কিভাবে উস্কানিমুলক বক্তব্য বা অন্য যা তারা বলেছে তা কিভাবে হয় ? স্যারের তাকফির সঠিক না ভুল তা আলেম সমাজ বিবেচনা করবে, যদি ভুল হয় তা সংশোধনের দায়িত্ব তাদেরই, সেটা তো যারা ইসলাম পালন করে না তাদের দায়িত্ব না ।
আবার এই নারী পরিষদ বলেছে ধর্মকে অপব্যাখ্যা করে নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা, রোকেয়ার নাম কাজ আদর্শকে ভয় পাওয়া, বিভ্রান্তি ছড়ানো । আমরা দেখতে পাচ্ছি ইসলাম এর ওপরে বেসিস করে স্যার কাফির মুরতাদ বলেছে । ইসলাম যদিও প্রচলিত ধর্ম না ইসলাম দ্বীন । অর্থ দাড়াল ইসলামকে অপব্যাখ্যা করা হয়েছে কি হয়নি সেটা ক্ষতিয়ে দেখবে আলেম সমাজ, যারা ইসলামের কিছুই জানেনা তারা দাবি করছে ধর্মকে অপব্যাখ্যা । এইটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয় ।

চলুন এবার জেনে আসি এই বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সম্পর্কেঃ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১৯৭০ সালে বেগম সুফিয়া কামালের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি নারীর সমঅধিকার, ক্ষমতায়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। যৌতুক বিরোধী আন্দোলন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন, পুনর্বাসন কেন্দ্র (*রোকেয়া সদন*) স্থাপনসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সোর্সঃ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ - বাংলা পিডিয়া
তাহলে আমরা জানলাম নারী পরিষদ কি কি বিষয়ে কাজ করছে । আমি তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েব সাইট বিগত প্রায় ১ বছরের December 14, 2024 থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ফেসবুক পেজ এবং ওয়েব সাইটে ঘুরাঘুরি করে যা বুঝতে পারলাম এরা শুধু সেমিনার, মানবন্ধন আরো কি কি নিয়ে পড়ে আছে ।
তারা নারীর অধিকারের জন্য, নারীর নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য কি কি করেছে তা দেখতে পায়নি । আমার পোস্টে বিভিন্ন সময়ে নারীর ওপরে নির্যাতন, ধর্ষন সম্পর্কে লিখেছি । এসব খবর কি তাদের কাছে পৌছেছিল না ? নাকি তারা দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে ?
যারা রোকেয়াকে নবীর আসনে বসিয়েছে তারা আসলেও কেউ ইসলাম জীবন বিধান হিশেবে পালন করেন কি না জানিনা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বেশীর ভাগ সদস্য পালন করে না ( তারা পর্দা করে না, খাম্বা পুজা করছে ) । তাহলে রোকেয়াকে কাফির মুরতাদ বলা হলে তাদের কি সমস্যা ?
নাকি রোকেয়াকে মুসলিম হিশেবে উপস্থাপন করে নারী জাগরনের অগ্রদুত বলে কিশোর, কিশোরী, নারীদের বিভ্রান্তীর মধ্যে ফেলে ইসলাম থেকে দূরে রাখা তাদের উদ্দেশ্য ?
আসলে বাংলার মানুষের কাছে মুসলিম হিশেবে উপস্থাপন করলে সমাজের ভেতরে পশ্চিমা এজেন্ডা সহজে পুশ করা যাবে, এটাই তাদের হাতিয়ার । তাদের সংঘর্ষ আসলে আদর্শিক ইসলাম বনাম পশ্চিমা ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিথ্যাচার : একটি শক্তিশালী অস্ত্র

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২

মিথ্যাচার : একটি শক্তিশালী অস্ত্র



আমরা ছোট বেলায় পড়েছি,
মিথ্যা বলা মহাপাপ, তা করলে কঠিন শাস্তি পেতে হয় ।

আর এখন জেনেছি , মিথ্যা বলা একটি অন্যতম কৌশল
যা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক দুই তিন, 'না'-এ ভোট দিন

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪০


১.
সকল নাগরিক
গণভোটে 'না' দিক

২.
জনগণ রাগের চোটে
'না' দেবে গণভোটে

৩.
হয় দেব না ভোট
নাহয় দেব 'না' ভোট

পুনশ্চ:
গণভোট ও নির্বাচন...
'না' না জিতলে প্রহসন ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রিয় একজন শিক্ষক।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৫



জাফর ইকবাল স্যার:
এই দেশের মাটিতে পা দিয়ে বুঝলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো বিবর্ণ হয়ে গেছে।বিবর্ণ ঘাসের প্রতিটি ক্যাম্পাসে উট প্রজনন সেন্টার খোলা হয়েছে।দলে দলে মেধাবীরা সেক্সোলজি ও পর্ণোগ্রাফি চর্চা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লিমেরিক

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০১

ধান লাগাতে গিয়ে খোকার একী হল হাল
কাদা জলে হোঁচট খেয়ে চিড়ে গেলো গাল
না পারে আর কইতে
না পারে আর সইতে
টক মিষ্টি যাহাই খাচ্ছে সবই লাগে ঝাল। ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ হবে দেখা নিশ্চয়ই =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫০


জম্পেশ খানা শেষে তোরা করিস চায়ের আয়োজন
আজ একত্রে কাটাবো সময় আমরা প্রিয়জন,
ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে আমরা ক'জন
গল্প আড্ডা আহা সেকি মধুর গুঞ্জরন।

জেনে যাবো কেমন ছিলে, আছো কেমন তোমরা,
কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×