somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভুমিকম্পে করণীয়

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প সংঘটিত হতে যাচ্ছে-এরকম কথাবার্তা ফেসবুক, নিউজ চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে।

কখন ভূমিকম্প আঘাত হানে, এটার নিশ্চয়তা নাই। কপালে মৃত্যু থাকলে বাঁচারও উপায় নাই। তবে যতক্ষণ হায়াত আছে, চেষ্টা করতে ক্ষতি নাই।

ছবিতে একটা ফ্ল্যাটের ছবি দিসি। ভাড়া বাসা অথবা এপার্টমেন্ট এ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফরমেশনটা হয় এরকমঃ সিঁড়ির দুই/তিন/চার পাশে ফ্ল্যাট। ছবিতে সিঁড়ির দুইপাশে ফ্ল্যাট - এরকম বিল্ডিং এর এক পাশের ফ্ল্যাটের চিত্র আঁকসি। ফ্ল্যাটে প্রবেশের পথ "দরজা" লিখা। কালো রেখাগুলো দিয়ে বীম (বিল্ডিং এর প্রধান কাঠামো, দেওয়াল/ছাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ভূমিকম্পসহনশীল) বুঝানো হয়েছে।

বিল্ডিং এর বাইরের দিকের দেয়ালে জানালা থাকে। তাও চিহ্নিত করা আছে।

কথা হচ্ছে, ভূমিকম্পের সময় কোন রূমটা বেশি নিরাপদ?

প্রথমেই বলি, বিল্ডিং যদি ৩-৫ তলা হয়, তাইলে ভূমিকম্পে হেলে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। আর যদি ১০ তলা বা আরো বেশি হয়, তাহলে একই সাথে হেলে ও মাটির নিচে গেঁথে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই, বেশি উঁচু ভবনের আশেপাশে খালি স্থান থাকলে নিচের দিকে যাবেন, নয়তো উপরের দিকে। তবে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই যা করার করতে হবে। ভূমিকম্পের সময় সিঁড়িই সবার আগে ধ্বসে যায়।

যাই হোক, হেলে পড়াটা যেহেতু প্রধান সমস্যা, তাই ফ্ল্যাটের মাঝামাঝি (উপরে বীম আছে, এমন) জায়গায় অবস্থান করা উচিত। যেদিকে হেলবে, তার বিপরীতে দ্রুত যাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যাবে।

তবে! সিঁড়ি ব্যতীত বাকি তিনদিকে যাওয়াটা বোকামি হবে কারণ হেলে পড়লে ঐ তিনদিকের যেকোন একদিকেই পড়বে। তাই সিঁড়ি সংলগ্ন রুম বেশি নিরাপদ।

রুমের মধ্যিখানে থাকাটা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ছাঁদের মধ্যাংশ প্রথমে বীম থেকে ছুটে যাবে।

সিঁড়ি সংলগ্ন রুমে থাকবেন। সিঁড়ির দেয়াল ঘেঁষে থাকবেন। অনেকে জানালার কাছে থাকতে পরামর্শ দেয় কেননা উদ্ধার কাজে সুবিধা পাওয়া যায়। তবে, যদি এরকম হয় যে আপনি যে জানালার পাশে আছেন, সেদিকেই বিল্ডিং হেলে পড়সে, তাইলে কি হবে নিজেই ভেবে দেখেন।

তাই জানালা থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

জাপানে ভূমিকম্পের একটা ভিডিও দেখলাম। রুমে একটা বুকশেলফ ছিল, দৈর্ঘ্য যতটুকু, প্রস্থ আরো কম কিন্তু উচ্চতা এত বেশি যেন ছাঁদ ছুঁইছুঁই! এরকম আসবাব (৫ ফুটের বেশি উঁচু ও ভারী) থেকে সাবধানে থাকবেন। বিল্ডিং ধ্বসে না পড়লেও এগুলা গায়ের উপর পড়লে মৃত্যু ২০-৪০% নিশ্চিত হয়ে যাবে।

সর্বোপরি, কোথায় আশ্রয় নেবেন তা পোস্ট পড়ে ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নিন। ভূমিকম্পের সময় আশ্রয়স্থল খোঁজার সময় পাবেন না। হুরোহুরি না করে ফ্ল্যাটের মাঝামাঝি বীমের দেয়াল ধরে থাকুন/বীমের নিচে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়ান। যেদিকে হেলবে, তার বিপরীত দিকের জানালার কাছে চলে যান। গ্রীল আঁকড়ে ধরুন।

পুনশ্চঃ

১) অনেকেই ভবন থেকে নিচে নেমে যাওয়ার তালে থাকে। এটা ভয়াবহ সমস্যা। নিজের ফ্ল্যাটে আপনি ১টা বিল্ডিং এর চাপা খাবেন। নিচে নামলে মিনিমাম দুইটা বিল্ডিং এর।

২) যদি এমন হয় যে "জানালা" লিখা শব্দের সাইড এবং এর বিপরীত সাইড- উভয় সাইডে বিল্ডিং আছে, তাহলে উভয় পাশের জানালাই ক্ষতিকর হয়ে ওঠবে। সেক্ষেত্রে ফ্ল্যাটের মাঝামাঝি বীমের নিচই ভরসা।

৩) এটা পুরান কথা। মাথার সেইফটি আগে। হাতের কাছে শক্ত যা পাওয়া যায় তাই দিয়ে মাথা গার্ড দিতে হবে। আমার সাজেশন- ঐ মুহূর্তে মাথা কাজ করবে না যে কি দিয়ে মাথা গার্ড দিলে ভাল হবে, তাই আগেই সাইকেল/মোটরবাইকের হেলমেট কিনে রাখেন অথবা ডাইনিং টেবিলটা সিঁড়ি সংলগ্ন রুমের দেয়াল ঘেঁষে রাখেন। সময় হলে নিচে বসে পড়বেন/হেলমেট পরে ফেলবেন


কারটেসি :আসিফ ভাই
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১১:৫৪
১৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×