somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ খন্ডন শুনানি শুরু বায়বীয় অভিযোগের ভিত্তিতে কোন বিচার হতে পারে না -এডভোকেট তাজুল

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের কথিত মানবতা বিরোধী অভিযোগের বিপরীতে অভিযুক্ত পক্ষের শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানির প্রথম দিনেই মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। বায়বীয় বা ঢালাও অভিযোগের ভিত্তিতে কোন বিচার হতে পারে না। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সব আইনেই স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, অপরাধের সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান থাকতে হবে। এই মামলায় তা অনুপস্থিত থাকায় মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে বাস্তবে কোন অভিযোগ নেই। এটাই ধরে নিতে হবে। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।



গতকাল বুধবার পুরাতন হাইকোর্ট ভবনস্থ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি শুরু হয়েছে। বিচারপতি নিজামুল হক, বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির ও একেএম জহিরের সমন্বয়ে গঠিত


ট্রাইব্যুনালে সকালে মাওলানা সাঈদীর উপস্থিতিতে এই শুনানি শুরু হয়ে টানা আড়াই ঘণ্টা চলে। আগামী রোববার আবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শুনানি চলাকালে গুরুতর অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ মাওলানা সাঈদী প্রাকৃতিক প্রয়োজনে টয়লেটে গেলে তিনি মোবাইল ফোনে কারো সাথে কথা বলেছেন বলে সরকার পক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর মতে এমন অভিযোগ অসত্য। এ ঘটনা নিয়ে দু'পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। হৈ চৈ করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে আদালত কিছুক্ষণের জন্য শুনানি মুলতবী রেখে সবাইকে চুপ থাকতে বলেন। ৬/৭ মিনিট নীরবতার পর আবার শুনানি শুরু হয়। বেলা ১টা পর্যন্ত শুনানি চলার পর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবী করা হয়। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের আনীত ৩৮টি অভিযোগ খন্ডনের জন্য এডভোকেট তাজুল ইসলাম ৭৯টি যুক্তি সম্বলিত ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন যার কিছু যুক্তির ওপর গতকাল শুনানি হয়েছে। আরো কয়েক কার্যদিবস লাগতে পারে এই অভিযোগ খন্ডনের শুনানি শেষ হতে।

গতকাল সকাল ১০টা ৩৪ মিনিটে ৩ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এজলাসে বসেন। তার ১০ মিনিট আগে মাওলানা সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় নিয়ে আসা হয়। এরও এক ঘণ্টা পূর্বে তাকে জেলখানা থেকে নিয়ে আসা হয় ট্রাইব্যুনালের নীচতলার হাজতখানায়। অসুস্থ মাওলানা সাঈদী পুলিশের ঘাড়ে ভর করে উপরে ওঠেন এবং নামেন। বিচারিক কার্যক্রমের শুরুতেই গতকাল অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী পূর্বে দায়েরকৃত একটি আবেদনের শুনানি করেন। চূড়ান্ত অভিযোগ পত্রে আছে অথচ অভিযোগ আমলে নেয়ার আগে তা আদালতে দাখিল করা হয়নি- এমন সব ডকুমেন্ট যা ভলিউম-২ আকারে পরে দাখিল করা হয়েছে সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে এই আবেদনটি করা হয়। শুনানিকালে এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ৩৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দী দেয়া হয়েছে ভলিউম-২ এ। অথচ তা অভিযোগ আমলে নেয়ার আগে আদালতে দাখিল করা হয়নি। যা দাখিলই করা হয়নি তার উপরে কগনিজেন্স হতে পারে না। সুতরাং, অভিযোগও হতে পারে না অভিযোগ শুনানিও হয় না। এই আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন প্রসিকিউটর এস হায়দার আলী। পরে ট্রাইব্যুনাল প্রদত্ত আদেশে বলা হয়, আমাদের কাছে যেসব ডকুমেন্ট দেয়া হয়েছিল আমরা তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে অভিযোগ আমলে নিয়েছি। আদালত আবেদন খারিজ করে দেন। ২৫ মিনিট চলে এই আবেদনের ওপর যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও আদেশ প্রদান করতে। পরে বেলা ১১ টায় শুরু হয় অভিযোগ গঠনে অভিযুক্ত পক্ষের শুনানি।

প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী গতকালের শুনানিতে এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্টে রুলের ২০ ধারা মতে সাক্ষীর পরিচিতি থাকতে হবে। কিন্তু যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে তাতে সাক্ষীর কোন পরিচিতি নেই। এই ডকুমেন্ট অসম্পূর্ণ। এর ওপরে কোন অভিযোগ গঠন হতে পারে না। বাংলাদেশের সিআরপিসি, সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও কতিপয় নজীরের উদ্ধৃতি দিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, আইনে আছে যে অপরাধ সংঘটনের সুনির্দিষ্ট সময়, তারিখ ও স্থান থাকতে হবে। কি অপরাধ করেছেন তাও নির্দিষ্ট থাকতে হবে। কিন্তু যে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়েছে তাতে তা একেবারেই নেই। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে অপরাধ সংঘটনের ১৯ কথা বলা হয়েছে যা একেবারেই ভেগ। বায়বীয় কোন অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার কার্য চলতে পারে না। সুতরাং এটাই ধরে নিতে হবে যে মাওলানা সাঈদী কোন অপরাধ করেননি। তিনি নির্দোষ।

তাজুল ইসলাম বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে বাংলাদেশ আইসিসিপিআর মানতে বাধ্য। বাংলাদেশও ঐ আইনের একটি স্বাক্ষরকারী দেশ। সেখানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং অভিযোগের সঙ্গায়নের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ হতে হবে সুনির্দিষ্ট। তা না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করবে কিভাবে। বাংলাদেশ সংবিধান, ফৌজদারী দন্ডবিধিতেও এটা উল্লেখ আছে। এ পর্যায়ে আদালত জিজ্ঞেস করেন যে আমেরিকা তো এরূপ করছে। তাজুল তার জবাবে বলেন, আমেরিকা তো জোর করে অনেককেই ফাঁসি দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে কি করার আছে। একটি পার্টির সেক্রেটারি জেনারেলকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে এটা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রেই বা আমরা কি করতে পারি।

১৯৭১ সালে পিরোজপুরে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপনের অভিযোগ খন্ডন করতে গিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, সারাদেশেই রাজাকার ক্যাম্প হয়েছিল সত্য। তবে ক্যাম্প হলেই অপরাধ হয়েছে এমনটি সত্য নয়। সর্বোপরি সেই ক্যাম্পে আমার মক্কেল কি অপরাধ করেছেন তা সুনির্দিষ্ট করে অভিযোগে বলা হয়নি।

পরে প্রেসব্রিফিং-এ এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, স্টিফেন র‌্যাপসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বলেছে যে অপরাধ হতে হবে সুনির্দিষ্ট। আগে অপরাধ চিহ্নিত করতে হবে। তারপর অপরাধের স্থান, তারিখ, সময় সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সাক্ষীদের নাম ঠিকানাও থাকতে হবে অভিযোগপত্রে। এখানে তাও নেই। আমরা এই বিষয়গুলোই আদালতে গতকাল উল্লেখ করে বলেছি যে, এ ধরনের বায়বীয় অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার কার্য চলতে পারে না।

প্রেসব্রিফ্রিং-এ চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, অভিযোগ যেভাবে আনা দরকার সেভাবেই আনা হয়েছে। তার ব্যত্যয় ঘটেনি। অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×