somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাইকের জন্য পেট্রোল নাকি অকটেন ? কোনটা ইউজ করা ভাল ?

১৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশে বাইকগুলোতে মূলত ২ ধরণের জ্বালানী ইউজ করা হয় । অকটেন এবং পেট্রোল । এখন , কথা হচ্ছে , আসলে এ ২ ধরণের জ্বালানীর ভেতর পার্থক্যটা আসলে কী বা কেনই বা আমরা ইউজ করি । অনেকে বলে থাকেন , অকটের পেট্রোলের থেকে ভাল পারফরমেন্স দেয় প্রভৃতি । তবে আসুন , আজ জেনে নিই আসলে এই দুটি জ্বালানী কঅ এবং কোনটা কোন সিচুয়েশনে ইউজ করা উচিৎ ?

আসলে আমরা মনে করি যে পেট্রোল ও অকটেন দুটি ভিন্ন ধরণের জ্বালানী । কিন্তু , আসলে ধারণাটা ভুল । এই ২ টা একই ধরণের জ্বালানী এবং এদের রাসায়নিক গঠনও একই (C8H18 ) । এই ধরনৈর জ্বালানীকে বলা হয় গ্যাসোলিন এবং ইন্টারন্যাশনাল ভাবে অকটেন নাম্বার দ্বারা যাকে RON ও বলা হয় , এটা দ্বারা এদের কোয়ালিটি পরিমাপ করা হয় । যেমন , অকটেনের RON 91 আর পেট্রোলের ক্ষেত্রে হল ৮৭ ।

এখন , এই অকটেন নাম্বার বা RON এর পরিমাপের স্কেল যখন ৮৬ এর বেশী থাকে তখন এদের জ্বালানী হিসেবে ধরা হয় এবং এদের ইন্জিন বুস্টিং ক্যাপাসিটি , কন্ট্রোলড কম্প্রেশন , বুস্টিং প্রভৃতির উপর ডিপেন্ড করে এদের জ্বালানীর মধ্যে রেটিং করা হয় । তো , বিদেশে বিভিন্ন পাম্পে যেকোন জ্বালানীর অকটেন নম্বর বা RON লেখা থাকে , ফলে ফরেন কান্ট্রিতে রাইডাররা তাদের ইচ্ছামত RON এর একটা জ্বালানী ইউজ করতে পারে । কিন্তু বাংলাদেশের কোন পাম্পে এসব RON বা অকটেন নম্বর লেখা থাকে না । তাই বাংলাদেশের মানুষ শুধুই ২ ধরণের জ্বালানী চিনে । পেট্রোল ও অকটেন ।

কখন পেট্রোল ?
আসলে পেট্রোলের RON বা অকটেন নম্বর হল ৮০ যেটা ইন্টান্যাশনালি বাইকে ব্যাবহারের জন্য স্বীকৃত নয় । কিন্তু এখানে আমাদের অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে । আসলে বাংলাদেশে কোন কোয়ালিটির বাইকগুলো বেশী ব্যাবহার হয় ? বাংলাদেশে প্রায় সব বাইকই ১৫০ সিসির নীচে এবং অনেক লো পারফরমেন্সের । ফলে এক্ষেত্রে আমরা পেট্রোল এর পরিবর্তে অন্য কোন বেশী অকটেন নম্বরের জ্বালানী ব্যাবহার করলে বাইকের পারফরমেন্স কতটা ভাল হবে সেটাও বিবেচনা করার বিষয় । আসলে পেট্রোলএর থেকে বেশী অকটেন নম্বরের জ্বালানী বাংলাদেশের বাইকগুলোর ক্ষেত্রে কোন সুফলই দেয় না । অর্থাৎ বাইকের পারফরমেন্স পেট্রোলেও যা থাকে , কোন হাইয়ার RON এর জ্বালানীতেও তাই থাকে । যেমন নীচের ডিসকভার ১২৫ এ আপনি কোন চিন্তা না করেই পেট্রোল ইউজ করতে পারেন ।



কখন অকটেন ?
এখন আমাদের মনে প্রশ্ন আসছে কখন বা কোন বাইকে আসলে অকটেন ব্যবহার করা উচিৎ ? আমাদের দেশে যেটা অকটেন নামে পরিচিত তার অকটেন নম্বর বা RON হল ৯৫ । যেটা ইন্টারন্যাশনালি ইউজ করার জন্য রিকমেন্ডেড । এখন বর্তমানে বাংলাদেশে কিছু হাই পারফরমেন্সের ১৫০ সিসি বা্ তারও অধির সিসির কিছূ বাইক আসছে বা এসেছে যেগুলোতে আসলে আমাদের অকটেন ব্যাবহার করা উচিৎ । কারণ ,এসব বাইক অনেক হাই পাফরমার এবং এদের ইন্জিন হাই কমপ্রেশন রেশিওতে ডিজাইন করা এবং অনেক ক্ষেতে ২ টা ভালবের বেশী ভালবযুক্তত ইন্জিন ওয়ালা বাইকও বাংলাদেশে আছে । সেসব বাইকের ক্ষেত্রে অকটেন ব্যাবহার উপযুক্ত । এবং শীতকালে অনেক সময় দেখা যায় অনেক শীত পড়লে বাইক সহজে স্টার্ট নিতে চায় না বা স্টার্ট মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায় । এসব ক্ষেত্রে আমাদের একটু হাইয়ার RON এর জ্বালানী দরকার এবং এসব ক্ষেত্রে আমরা অকটেন ব্যাবহার করতে পারি ।যেমন ইয়ামাহা আর ওয়ান ৫ এর ক্ষেত্রে আমরা অকটেন ব্যাবহার করতে পারি ।

কখন অকটেন ?
এখন আমাদের মনে প্রশ্ন আসছে কখন বা কোন বাইকে আসলে অকটেন ব্যবহার করা উচিৎ ? আমাদের দেশে যেটা অকটেন নামে পরিচিত তার অকটেন নম্বর বা RON হল ৯৫ । যেটা ইন্টারন্যাশনালি ইউজ করার জন্য রিকমেন্ডেড । এখন বর্তমানে বাংলাদেশে কিছু হাই পারফরমেন্সের ১৫০ সিসি বা্ তারও অধির সিসির কিছূ বাইক আসছে বা এসেছে যেগুলোতে আসলে আমাদের অকটেন ব্যাবহার করা উচিৎ । কারণ ,এসব বাইক অনেক হাই পাফরমার এবং এদের ইন্জিন হাই কমপ্রেশন রেশিওতে ডিজাইন করা এবং অনেক ক্ষেতে ২ টা ভালবের বেশী ভালবযুক্তত ইন্জিন ওয়ালা বাইকও বাংলাদেশে আছে । সেসব বাইকের ক্ষেত্রে অকটেন ব্যাবহার উপযুক্ত । এবং শীতকালে অনেক সময় দেখা যায় অনেক শীত পড়লে বাইক সহজে স্টার্ট নিতে চায় না বা স্টার্ট মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায় । এসব ক্ষেত্রে আমাদের একটু হাইয়ার RON এর জ্বালানী দরকার এবং এসব ক্ষেত্রে আমরা অকটেন ব্যাবহার করতে পারি ।যেমন ইয়ামাহা আর ওয়ান ৫ এর ক্ষেত্রে আমরা অকটেন ব্যাবহার করতে পারি ।


পেট্রোলের সাথে অকটেন ইউজ করা :

আমাদের দেশে যেটা রেগুলার হয়ে থাকে , সেটা হল বাইকের জ্বালানী হিসেবে পেট্রোলের সাথে অকটেন মিক্স করা । হ্যা , এটা অনেকের কাছেই ভাল বলে মনে হতে পারে । যেমন , পেট্রোলের RON 80 এবং অকটেনের 95 । ফলে ২ টার মিক্সারে একটা এভারেজ ভাল পারফরমেন্স পাওয়া । আইডিয়াটা ভাল । কিন্তু , ২টা আলাদা টাইপের RON বা অকটেন নম্বরের জ্বালানী একসাথে মেশাতে গেলে লক্ষ্য রাখতে হয় যে তারা একই টাইপের বুস্টার , ডিটারজেন্ট ও এন্টিঅক্সিডেন্ট দিয়ে কম্জেড করা কিনা । বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে , যেহেতু আমরা শিওর না , যে আমাদের জ্বালানী ১০০% পিওর কিনা , সেহেতু পেট্রোলের সাথে অকটেন মিক্সার দিয়ে বাইক রাইড না করাই ভাল । আর আপনি যদি শিওর হন যে পেট্রোলের RON 80 .এবং তার সাথে কেরোসিন বা অন্য কোন টাইপের ভেজাল মিশ্রিত নেই এবং অকটেনের ক্ষেত্রেও একই , তাহলে আপনি ৫০:৫০ রেশিওতে আপনার বাইকে এই ২ টা জ্বালানী ইউজ করতে পারেন ।

অকটেন কি ইন্জিনকে অতিরিক্ত গরম করে ?
হ্যা , এটা একটা ভাল প্রশ্ন । এক্ষেত্রে আপনাকে বাইকের পারফরমেন্স বিবেচনা করতে হবে । আপনার বাইকটি যদি ১৫০ সিসির নীচের হয় তাহলে আপনি আপনার বাইকের জন্য পিওর পেট্রোল ইউজ করতে পারেন । অন্যান্য ক্ষেত্রে ৫০%: ৫০% হিসেবে পেট্রোল ও অকটেন ইউজ করতে পারেন । আসলে হাইয়ার RON এর জ্বালানী গরমকালে প্রচন্ড তাপের সময় লং ড্রাইভে ইন্জিন ড্যামেজ করে দিতে পারে । তবে আপনি যদি একটা হাই পারফরমেন্সে বাইক ব্যাবহার করেন যেটা অনেক বেশী কমপ্রেশন রেমিও রয়েছে , তাহলে আপনি শুধু অকটেন ব্যাবহারও করতে পারেন যা RON 95 । সুতরাং , বিষয়টা হল লোয়ার সিসি বাইকের জন্য লোয়ার RON এর জ্বালানী এবং হাইয়ার সিসি বাইকের জন্য হাইয়ার RON এর জ্বালানী ব্যাবহার করাই ভাল ।

নতুন বাইকের ক্ষেত্রে কোনটা ভাল ?
অনেকে বলে থাকেন যে নতুন বাইকের ক্ষেত্রে সবসময়ই কম RON এর জ্বালানী অর্থাৎ পেট্রোল ব্যাবহার করা ভাল । কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল একটা ধারণা । বাংলাদেশের যেকোন বাইকে প্রথম ২০০০ কিলোমিটার অকটেন ব্যাবহার করাই সবথেকে ভাল । কারণ , এই সময় বাইক এর আরপিএম কম থাকে , বাইকএর ইন্জিনের প্রেশার অনেক কম থাকে , ফলে ইন্জিন গরমও হয় কম । ফলে এই সময় আপনি র্নিদ্ধিদ্ধায় অকটেন ইউজ করতে পারেন ।

লেখাটি bikebd.com থেকে বাংলায় অনুবাদ করা । এইরকম আরও টেকনিক্যাল রিভিউ জানতে প্রতিদিন ভিজিট করুন bikebd.com ।

বাংলাদেশের বাইক সম্পর্কে তথ্য ও লেটেস্ট আপডেট পেতে চোখ রাখুন . এ । এবং বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের প্রাইস সম্পর্কে জানতে চোখ রাখুন Motorcycle Price in Bangladesh
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৩:৩৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×