somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের টপ ৩টি ১৫০সিসি বাইক

১৬ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে অনেক ১৫০ সিসির বাইকই রয়েছে । এর মধ্যে বিভিন্ন ভিউ থেকে বিভিন্ন মানুষ ইউনিক কোন বাইককে বেছে নেয় । তো , আমার মতে , বিভিন্ন ভিউ থেকে বাংলাদেশের সেরা কয়েকটি বাইকের মধ্যে আমি রেখেছি ৩ টি বাইককে । বাইক ৩ টি হল :

1. Yamaha R15

2. Hero Honda Hunk

3. TVS Apache RTR 150

এখন , আমার মতে এই তিনটি বাইক বিভিন্ন ভিউ থেকে দেখলে বাংলাদেশের সেরা বাইকগুলোর ভেতরই পড়বে । তো আপনাদের অ্যরকম মতামতও থাকতে পারে । সেটা আপনারা শেয়ার করতে পারেন । তো , চলুন , আজ আমরা এই ৩ টি বাইক কেন সেরা বা কীইবা এদের বিশেষ বৈশিষ্ট তা দেখে নিই ।

৩. TVS Apache RTR 150 :
বাইকটি বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক মানুষেরই নয়নের মনি হয়ে গেছে এর পারফরমেন্সের দ্বারা । বাইকটির সুন্দর ইউনিক লুক , হিংস্র একটা ভাব নেওয়া হেডলাইট , ডিজিটাল স্পীডোমিটার , সুন্দর টেইল ল্যাম্প , ফুয়েল ট্যাঙ্কের সাথে সুন্দর পাখনা সহ সবকিছু মিলিয়ে বাইকটি একটা চরম লুক নিয়েছে । শুধুই লুকিং নয় , পারফরমেন্সের দিক থেকেও বাইকটি বস । এটার একটা ১৫০ সিসির ইন্জিন রয়েছে যেটা ১৪ বিএইচপি শক্তি ও ১২.২ N/m টর্ক উৎপন্ন করতে পারে । বাইকটি ৪.১৭ সেকেন্ডে ৬০ কিমি./ঘন্টা স্পীড তুলতে সক্ষম । ফলে এক্ষেত্রে বাইকটি বাংলাদেশের যেকোন বাইক থেকে এগিয়ে আছে । বাইকটির টপ স্পীড হল ১২০+ কিমি./ঘন্টা । এটা শহরে ১ লিটার জ্বালানীতে ৩৫-৪০ ও হাইওয়েতে ৫০-৫৫ কিলোমিটার যেতে পারে



বাইকটির চাকাগুলো টিউবলেস ফলে লিক হবার কোন সম্ভাবনা নেই এবং চাকার শেপটা দারুণ যেটা আপনাকে কোন অবস্থাতেই নীচে পড়তে দেবে না । এবং বাইকটি ড্রিফট রাইডিং এবং স্টান্ট এর জন্যও পারফেক্ট । এর সামনের চাকায় একটি সুন্দর ডিস্কব্রেক ও পেছনের চাকায় একটি ড্রাম ব্রেক রয়েছে যেটা ১৫০ এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাস্তার জন্য পারফেক্ট ।

বাইকটির সাউন্ডও খুবই সুন্দর এবং এটা খুব হাই স্পীডেও কোন নয়েজ সৃষ্টি করে না বা ভাইব্রেট হয় না ।

এসব বৈশিষ্ঠ বিবেচনা করে আমরা বলতে পারি এই বাইকটি বাংলাদেশের সেরা একটা ১৫০ সিসির বাইক ।

২. Hero Honda Hunk :
হিরো হোন্ডা হাঙ্ক বাইকটি বাংলাদেশের বাজারে বহুল প্রচলিত একটা বাইক এবং এর সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছুই নেই । আমার মনে হয় বাংলাদেশের সবথেকে কমফর্টেবল ১৫০ সিসির বাইক হল হিরো হোন্ডা হাঙ্ক । বাইকটি হিরো হোন্ডার একটা মার্কেট কাপানো বাইক । এটার লুক এতই সুন্দর ও রুচিশীল যে বর্তমানে অন্যান্য বাইকগুলো এর স্টাইল ফলো করা শুরু করেছে । এটার ক্রিস্টাল ক্লিয়ার হেডলাইট আপনাকে রাতে সূর্যের আলোর মত ঝলকানি দেবে এবং দিনের বেলায় সূর্যের আলো রিফ্লেক্ট করবে ।এটার মাসকিউলার বডি ও সুন্দর ফুয়েল ট্যাঙ্ক এর লুকটাকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে ।

এটার ইন্জিন হল ১৫০ সিসি এয়ার কুলড । এয়ার কুলড ইন্জিন হলেও এটা লং ড্রাইভে ও হাই স্পীডেও কোন সমস্যা করে না বরং বাইটি লং ড্রাইভের জন্য খুবই উপযুক্ত । এর ইন্জিনটি ১৪.২ বিএইচপি শক্তি ও ১২.৮ N/m টর্ক উৎপন্ন করতে পারে যেটা খুবই শক্তিশালী । এটার পিকআপ টা হল সবথেকে ভাল এবং খুব কম সময়ে বেশী স্পীড তোলায় এর কোন জুড়ি নেই । এবং অনেক বেশী স্পীডেও এটা কোনরকম ভাইব্রেট করে না । এর আরেকটা সবথেকে বড় সুবিধা হল এর সাউন্ড । এটি মিডিয়াম স্পিডে তেমন কোন সাউন্ডই ক্রিয়েট করে না এবং এটার্ উপর রাইড করলে আপনি এর সাউন্ড শুনে আরও স্পীডে রাইড করতে চাইবেন ।



বাইকটির ব্যাকসীটটাও খুবই আরামদায়ক এবং ২ জন বসার জন্য বাইকটি একদম পারফেক্ট । বাইকটির সামনে ও পেছনের চাকায় ডিস্ক ব্রেক রয়েছে যেটা আপনাকে ডায়নামিক কন্ট্রোল এনে দেবে । অবশ্য বৃষ্টির দিনে পেছনের চাকার ডিস্ক ব্রেক কখনও কখনও বিপদজনক হতে পারে । তবে এর ব্রেকিং সিস্টেম আপনাকে ৮০ কিমি./ঘন্টা থেকে ৩৫ মিটারের মধ্যেই থামিয়ে দেবে ।

বাইকটির টপ স্পীড হল ১২০+ কিমি./ঘন্টা এবং এটা ১ লিটার জ্বালানীতে প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার যায় । বাইকটি মূলত লং ড্রাইভ ও গ্রামাঞ্চলের রাস্তায় চলার জন্য বেস্ট এবং এটা এর আরামদায়ক সিটিং পজিশন ও ইনস্ট্যান্ট পিকআপ স্মুথ রাইডিং ইত্যাদির জন্য বাংলাদেশের সেরা ১৫০ সিসির বাইকের মধ্যে একটি অন্যতম বাইক ।

১. Yamaha R15 :
এটা বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম সেরা একটা রেসিং বাইক এবং বলা যায় এটাই একমাত্র ভাল রেসিং বাইক । এটা নিয়ে বাইক প্রেমীদের কৌতুহলের শেষ নেই । কত মানুষ যে এর উপর একবার চড়ার জন্য মুখিয়ে বসে আছে সেটা আর বলার কোন অপেক্ষা রাখে না ।

বাইকটির সুন্দর স্টাইলিশ হেডলাইট ও ফ্রন্ট এবং এর ফুয়েল ট্যাঙ্কের স্টাইল , বসার সিট , পেছনের বিশাল উচু বসার সিট , সুন্দর টেইল লাইট সবকিছূ মিলিয়ে বাইকটিকে একটা চরম রেসিং লুক দিয়েছে । এটার হ্যান্ডেলিং সিস্টেমটা আমার সবথেকে ভাল লাগে । এত সুন্দর হ্যান্ডেলিং সিস্টেম আমি আর কোন বাইকে দেখিনি । এটার ডিজিটাল স্পীডোমিটার বাইকটিকে আরও সুন্দর একটা লুক দিয়েছে । দেখলেই যেন মনে হয় চরম গতিতে ছুটে চলার জন্য প্রস্তুত বাইকটি ।

বাইকটিতে একটা ১৫০ সিসির লিকুইড কুলড ইন্জিন রয়েছে যেটা অত্যান্ত হাইস্পীডে ও অনেক লং রোড রাইডিংএর পরও বাইকের ইন্জিনটিকে গরম হতে দেয় না । এই বাইকটির ইন্জিনকে বাংলাদেশের যেকোন ১৫০ সিসির ইন্জিনের থেকে এগিযে রাখা যায় । এটা যেমন দ্রুত স্পীড তুলতে পারে বাংলাদেশের কোন বাইক এত দ্রুত এক্সেলেরেট করতে পারে বলে আমরা মনে হয় না । এটা ৬০ কিমি স্পীড তুলতে টাইম নেয় মাত্র ৪.৮৯ সেকেন্ড এবং বাইকটির টপ স্পীড হল ১৩০ কিমি./ঘন্টা । বাইকটি সর্বোচ্চ ১৬ বিএইচপি শক্তি ও ১৫ N/m টর্ক উৎপন্ন করতে পারে । ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি বাইকটির ইন্জিনও বেশ পাওয়ারফুল এবং এরকম কনফিগারেশনএর ইন্জিন বাংলাদেশে আর নেই । এর ইন্জিনে একটি ৬ স্পীড গিয়ারবক্স রয়েছে ।



বাইকটির ফুয়েল ট্যাঙ্কে ১২ লিটার জ্বালানী ধরে এবং এটি ১ লিটার জ্বালানীতে গড়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার যেতে পারে । বাইকটির চাকাগুলো টিউবলেস ও রেসিং ও হাইস্পীডে টার্ণিংএর জন্য পারফেক্ট । এর সামনের ও পেছনের দুই চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক রয়েছে যেটা আপনাকে বাইকটিকে ৬০কিমি./ঘন্টা স্পীড থেকে মাত্র ১৮ মিটারের মধ্যেই থামাতে সাহায্য করবে ।

এটার বসার সিটটা খুবই কমফরটেবল এবং এটার পেছনের বসার সিটটাও খুবই সুন্দর ও স্টাইলিশ । আপনার পেছনে কেউ বসে তাকলে আপনার সেটা মাথায়ই থাকবে না যে একজন আাপনার পেছনের সীটে বসে রয়েছে ।

সব মিলিয়ে খুবই কুইক পিকআপ , সুন্দর লুকিং , বেস্ট ব্র্রেকিং সিস্টেম , হাইস্পীডে সুপার ব্যালান্স প্রভৃতি মিলিয়ে বাইকটিকে বাংলাদেশের টপ ১৫০ সিসির বাইকের মধ্যে টপে নিয়ে গেছে ।

বাংলাদেশের টপ ১২৫ ও টপ ১০০ সিসির বাইক সম্পর্কে জানতে ভিজি করুন bikebd.com এ ।

বাংলাদেশের বাইক সম্পর্কে তথ্য ও লেটেস্ট আপডেট পেতে চোখ রাখুন bikebd.com এ । এবং বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের প্রাইস সম্পর্কে জানতে চোখ রাখুন Motorcycle Price in Bangladesh
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:৩৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×