somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুজোর লড়াই, করছে বড়াই

১০ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোথাও বজ্র আঁটুনি৷ কোথাও গুন্তচরবৃত্তির ভয়৷ আবার কোথাও আউটসোর্সিং এবং সমাজসেবা চলছে একসঙ্গে সেই এপ্রিল থেকেই৷ কলকতার পুজো পরিক্রমা করলেন সুদেষ্ণা গোস্বামী

পুজোর আনন্দ নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকা যায় সারা বছর৷ কারন পুজো কেন্দ্রিক জল্পনা-কল্পনার কোনও সীমা নেই৷ বয়সও নেই৷ সোশ্যাল মিডিয়া দেখুন৷ কলকাতার বাঙলিরা এই ভীষণ ডেঙ্গির বাজারেও আকাশের ছবি তুলে হয় শরত্ না হলে বোনাস নিয়ে কাব্যি করছে৷ মনে-মনে কতকিছুই তো আমরা করি--- কিন্ত্ত ঘুরে-ফিরে একটা কথাই আসে বারবার--- শহরবাসীর চোখ ধাঁধাবে কোন পুজো, কোন প্যান্ডেল, কোন মূর্তি৷

সেই উত্তরের সন্ধানে উঠে এলো কয়েকটুকরো ছবি৷

চন্দননগরের প্রতিমা

মুদিয়ালি ক্লাবের প্রতিমা আসছে চন্দননগর থেকে৷ সেখানকার জগদ্ধাত্রী প্রতিমার নিখুঁত কারিগরি দর্শকের মন জয় করবে৷ মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পুজো নাকতলা উদয়ন সংঘেও থাকছে নতুন চমক৷ থিম ভাবনায় বাংলার 'মা'কে খুঁজে পাবে মানুষ৷ সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের আয়োজকরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর নিশ্চিত ধ্বংসকে নিয়ে সচেতনতাই তাদের থিম৷ অনেকটা 'টার্ন দ্য ক্লক ব্যাক'৷

আর সর্বত্র যেটা মিলছে, তা হল--- নিশ্ছিদ্র গোপনীয়তা৷ উদ্যোগক্তারা এক সংকটে৷

নানা ধাঁচের চুরি

কলকাতা মাতানো পুজো-কমিটি সদস্যদের এখন একটাই ভয় দিবা-রাত্র তাড়া করে ফিরছে৷ থিম চুরির ভয় তাদের একটা 'রাজকীয় থিম' ভেঙে অন্য ছুটকো-ছাটকা ক্লাবগুলো পুজোয় নাম কিনে নেয়, এটাই চালু ধারনা৷ থিম চুরির ক্ষেত্রে আইনত কোনও শাস্তির বিধান এখনও পর্যন্ত নেই বলেই ভয় এতো বেশি৷ রাতের ঘুম, দিনের অফিস--- সব বন্ধ দিয়ে প্রায় প্যান্ডেল পাহারা দেওয়ার জোগাড়৷ অবৈধ গোপন প্রেমের মতোই শহরের পুজো কমিটি সদস্যদের এ অভিসার অব্যহত৷ সর্বত্র রাখো-রাখো ঢাকো-ঢাকো৷ কোথাও অতি যত্ন তো কোথাও অতি সচেতনতা নিয়ে চলছে এ-বারের পুজোর প্রস্ত্ততি পর্ব৷ বেহালা নস্করপুর সার্বজনীনের এক উদ্যোক্তা শুধুই বললেন, 'রাজার ঘরে রানির খেয়া, তবু ডোবে রাঘব-বোয়াল৷'

বাবুবাগানের পুজোয় আবার পুজো কমিটির সদস্যরাই নাকি থিম কী হচ্ছে তা এখনও পর্যন্ত কিছুই জানেন না৷ তাঁদের শিল্পী একাই জানেন৷

তবুও কথায় আছে 'বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো'৷ এর মধ্যেই কখন চেতলা অগ্রণী ক্লাবের 'সিক্রেট-ভাবনা' হাতে এসে গেলো৷ পুজো আয়োজক ও প্রতিবেশীদের মতে, 'দক্ষিণ কলকাতায় এবারে অন্যতম আকর্ষণের প্রাণবিন্দু হবে চেতলা অগ্রণী ক্লাব৷'

চেতলার গোপনীয়তা

চেতলা অগ্রণী ক্লাবের এক প্রতিবেশির মুখে শোনা গেল কিছুটা আক্ষেপের সুর৷ বলছেন, 'থিম পুজোর হিড়িকে আজকাল দেখি সবটাই গোপন করে৷ প্যান্ডেল বা ঠাকুর কেমন হবে, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমরা কিছুই আন্দাজ করতে পারছি না৷ বাঁশের মন্ডপের সঙ্গে লোহা ঝালাই-পেটাইয়েরও কাজ চলছে৷ তবে বাইরে থেকে দেখে বুঝতে পারছি সম্ভবত একটা অর্ধ-গোলকের মতো স্ট্রাকচার থাকবে৷ তার মধ্যে মা বসবেন ক্লাবের দিকে মুখ করে৷ আর তার পিছন-দিকটায় একটা লম্বা টাওয়ার আকৃতির কাঠামো হবে৷' অন্যজন হাসতে-হাসতে বললেন, 'ববি-দা (ববি হাকিম) প্রত্যেক বছরই একটা চমক দেন৷ আশা করি সেইমতো এ-বছর ভবতোষ সুতার সবার চোখ ধাঁধিয়ে দিতে পারবেন৷'

থিম পুজোর ঘরানায় অন্যতম কারিগর ও শিল্পী ভবতোষ সুতার এবার দায়িত্ব নিয়েছেন চেতলা অগ্রণীর৷ চেতলা অগ্রণী ক্লাবের থিমের গুরুত্ব যাই হোক না কেন, মূল ভাবনা হল খোলা হাওয়া৷ প্যান্ডেলের পরিকল্পনা ও কাঠামো এমন ধাঁচে বাঁধা হয়েছে যেন সর্বত্র বইবে ঝিরিঝিরি হাওয়া৷ বাইরে হাওয়া, মানষের আনাগোনা, বয়ে আসবে অন্দরমহলে৷ আর অন্দরমহলের প্রতিমার শক্তি, সৌন্দর্য ও পুজোর ফুলের গন্ধ--- সবটা বাইরের পরিবেশে মিশে যাবে৷ অর্থাত্, এক-প্রকার বহির্মহল ও অন্দরমহলের মধ্যে মেলবন্ধন৷ শিল্পীর আশা, যার রেশ হয়তো দর্শকদের মনেও পড়বে৷ কোথাও গিয়ে মানুষের নিজের মন ও বাস্তব পরিবেশের একটা সমন্বয় সাধন হওয়া দরকার৷ শিল্পীর ভাবনার সঙ্গে মানুষের একাত্মতাই কোনও সৃষ্টিকে মহত্ করে তোলে৷ কাজেই চেতলা অগ্রণী ক্লাব পরিদর্শনে শহরবাসীর প্রতিক্রিয়া পুজোর ক'দিনেই একমাত্র বোঝা যাবে৷ তাছাড়া প্রতিমা প্রাচীন ভাস্কর্যের স্টাইলে তৈরি হচ্ছে, তার মধ্যে সাবেকিয়ানার লেশমাত্র নেই বললেই চলে৷ এবং প্রতিমা উপবিষ্ট ভঙ্গিমায় থাকবে৷

লোহাপট্টীর সমাজসেবা

উত্তর কলকাতার অন্যতম বিগ-বাজেট পুজোর মধ্যে একটা মানিকতলা চালতাবাগান লোহাপট্টি৷ সেখানকার ক্লাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট অশোক জয়সোয়াল প্রথমেই বললেন, 'উত্তর কলকাতার রীতি বলতে বনেদী-ঘরানার পুজো৷ কিন্ত্ত আজকাল থিমের জমানায় আর এতো কম্পিটিশনের যুগে দুর্গা পুজো একটা গর্ব করার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ কার পুজো কত সেরা!' থারপর একটু থেমে চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, 'দেখুন, বারোয়ারিগুলোতে বড়-বড় শিল্পীদের হাতে থিম পুজোর জন্ম হচ্ছে৷ আর সত্যি কথা বলতে, দক্ষিণ কলকাতাতেই সব আর্টিস্টদের জমায়েত৷ এবার সনাতন দিন্দার কাজ থাকছে না বটে, কিন্ত্ত ওদিকে ভবতোষ সুতারের কাজ দেখতে তো মানুষ ভিড় করবেই৷'

'তবে কি টক্কর লাগবে দক্ষিণের চেতলা অগ্রণী ক্লাবের সঙ্গে উত্তরে মানিকতলা চালতাবাগান লোহপট্টির?'

জবাবে চালতাবাগানের কর্মকর্তা আশোকবাবু আরও জোর দিয়ে বলে উঠলেন, 'অবশ্য সেদিক থেকে আমরাও বা কম কিসে৷ প্রতিবারের মতো এবারেও লোহাপট্টির প্যান্ডেল-সজ্জা করছেন কাঁথির শিল্পী সুতনু মাইতি৷ প্রতিমা করছেন বাদল চন্দ্র পাল৷ মোটের উপর কম-বেশি মিলিয়ে আমাদের পুজোর বাজেট তিরিশ লাখ৷ আমরা কম টাকায় একটা ইউনিক প্রেজেন্টেশন দেওয়ার চেষ্টা করি৷ আমাদের শিল্পী এপ্রিল মাস থেকেই কাঁথিতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন৷ পুজোর এক-দেড়-মাস আগে এখানে এসে ফাইনাল টাচ-টুকু দেবেন৷ তারপর বাকিটা তো সারপ্রাইজ থাকলো৷'

ত্রয়োদশীর দিন এক-ঝাঁক চিত্র-তারকাদের সঙ্গে সিঁদুর-খেলা এই পুজোর বাড়তি আনন্দ৷ উদ্যোগক্তারা চান সেই আনন্দ দর্শকের সঙ্গে ভাগ করে নিতে৷

চালতাবাগান লোহাপট্টির আয়োজকদের ভাবনা-চিন্তায় সামগ্রিকভাবে একটা মানবিক দিক ধরা পড়ল৷ ওখানকার ভাইস-প্রেসিডেন্ট আরও বললেন, 'ব্যবসা করতে গিয়ে আমরা জানি রোদগার করা কত কষ্টের৷ আমরা সে-কথা মাথায় রেখেই কাঁথির শিল্পীকে দিয়ে কাজটা করাই৷ ফলে শিল্পীর সঙ্গে ওখানকার গরিব মানুষরাও কিছু কাজ পায়৷ দুর্গা পুজোর আগে তাঁদের হাতেও একটু পয়সা আসে৷'

এখন কলকাতাবাসীর শুধুই রইল অপেক্ষার ধাবমানতা৷ আনন্দের শ্বেতস্পর্শ কখন আসবে৷ আর সব শেষে, কোন পুজো দেবে সব চেয়ে বড় টক্কর৷ কে জিতবে এ লড়াই৷
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৫:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিরবিদায়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শায়িত ডা. খায়রুল ইসলাম – Regional Director for South Asian Countries, WaterAid UK

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪




২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে সকালে উঠতেও দেরি। আগের দিন দুপুরে বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য চলে যাবার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×