somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাচতুর্থীতেই বাঙালির পুজো হপিং শুরু(সংগৃহিত)

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকে কাঠি, ধূপের গন্ধ আর বাঙালির পরনের রংবেরঙের পোশাক জানান দিচ্ছে, পুজো এসে গিয়েছে৷ স্কুল, কলেজ, অফিসে চতুর্থীর বিকেলেই ছুটির ঘণ্টা বেজে গিয়েছে৷ আর তাই আজ থেকেই দেবীদর্শনে বেড়িয়ে পড়েছেন অনেকেই৷ সপ্তমী, অষ্টমীর দিনগুলোয় তো ভিড় বাড়বে৷ তাছাড়া, নতুন পোশাকটি আর কতদিনই বা আলমারিতে তুলে রাখা সম্ভব৷ তাই চতুর্থী থেকেই শুরু হয়ে গেল পুজো পরিক্রমা৷ সন্ধে যত গড়াচ্ছে মণ্ডপে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে৷ আর সেই সঙ্গে ভিড় বাড়ছে মেট্রো আর বাসে৷ রাস্তার যানজটকে তোয়াক্কা না করে, বৃষ্টিমুক্ত সন্ধেতে তিলোত্তমায় মানুষের ঢল নেমেছে৷

চতুর্থীতে দক্ষিণের মতোই উত্তর কলকাতাতেও জনসমাগম ঘটেছে৷ শুধু শহরবাসীই নন, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন কলকাতার পুজো দেখতে৷ প্রতিবারের মতো এবারও সেজে উঠেছে হাতিবাগান নবীনপল্লির পুজো৷ মণ্ডপে রঙিন কাঠের আলমারির সমাহার সর্বত্র৷ এক একটি পাল্লার মধ্যে লুকনো রয়েছে অনেক গল্প৷ হিন্দু পুরাণ থেকে শুরু করে দেশের আদি-অনন্ত সংস্কৃতির কাহিনি৷

বিশেষ ধরনের পুতুল দিয়েই পুজোপ্রাঙ্গণ সাজাচ্ছে হাতিবাগানের নলিল সরকার স্ট্রিট সর্বজনীন৷ ৮৪ তম বর্ষে পা দিয়ে তাদের শারদ অর্ঘ্য সেই পুতুল৷ তাদের থিমের নাম ‘পুতুল ও প্রতিমা’৷ সেখানেও দর্শনার্থীদের ভিড় কম নয়৷ দেখে নিন কীভাবে সেজে উঠেছে মণ্ডপের আনাচে-কানাচে৷

শিল্পায়ন ও সবুজায়নের যুগলবন্দির সামনে দাঁড়িয়ে এক অনন্য সামাজিক বার্তা দিতে চলেছে কলকাতার হাতিবাগানের কাশী বোস লেন দুর্গাপুজো কমিটি৷ থিমমেকার প্রদীপ দাসের সৃজনে ৭৯ তম বর্ষে কাশী বোস লেনের নিবেদন ‘এসো মুক্ত করো’৷ কেমন হল তাদের এবারের পুজো, দেখে নিন ক্লিক করে৷

এদিকে আহিরীটোলা সার্বজনীনের মণ্ডপ একটা গোটা স্টুডিওয় পরিণত হয়েছে৷ সর্বত্র বিভিন্ন ছবি, ভাস্কর্য দিয়ে শিল্পীর শৈলিকে তুলে ধরা হয়েছে৷ তবে এখানে সবকিছুই অসম্পূর্ণ৷ অর্থাৎ শিল্পীর অসম্পূর্ণ শিল্পকর্মকেই রূপক হিসাবে এখানে সাধন ভূমির মধ্যে দেখানো হচ্ছে৷ তাদের এই অসম্পূর্ণতার সম্পূর্ণ ছবি ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায়৷

অন্যান্য মণ্ডপের মতোই ভিড় জমতে শুরু করেছে হাতিবাগান সার্বজনীনেও৷ আজ যদি অন্যদিকে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে মোবাইলের এক ক্লিকেই এই মণ্ডপের দর্শন সেরে ফেলুন৷

সমাজের অন্তর্নিহিত সেই অশুভকেই দশে মিলে বিনাশ করার প্রয়াস করছে দমদম পার্ক তরুণ সংঘ৷ ৩১ তম বর্ষে পা দিয়ে এবারের শারদোৎসবে তাদের নিবেদন- ‘দশে ১০’৷ থিমমেকার অমর সরকারের সৃজনে দশে মিলে শুভশক্তির সূচনায় মেতেছে তরুণ সংঘ৷

বহু বছর আগে মিশরীয় সভ্যতায় এসেছিল ফিলিগ্রী শিল্পের ব্যবহার৷ সোনা ও রুপোর সরু তার দিয়ে গয়না বা কারুকার্য তৈরির শিল্পকেই বলা হয় ফিলিগ্রী৷এই ফিলিগ্রী শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের শিল্পীরা৷এবার এই ফিলিগ্রী শিল্পকে পুজোমণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছেন থিমশিল্পী সঞ্জীব সাহা৷ ষোড়শতম বর্ষে পা দিয়ে দমদম পার্কের ভারতচক্র ক্লাবের থিম ফিলিগ্রী৷

রাজস্থানের কথা ভাবলেই প্রথমেই যে যে জিনিসগুলি বাঙালির মাথায় ঘোরে সেগুলি হল, ধু ধু মরুপ্রান্তর, রাজস্থানি লোকশিল্প এবং অবশ্যই সোনার কেল্লা৷থিমমেকার দম্পতি শুভদীপ ও সুমি মজুমদারের যুগলবন্দিতে এবার একটুকরো রাজস্থানকে পাওয়া যাবে মুদিয়ালির পুজোপ্রাঙ্গণে৷

এবছর ৮০ বর্ষে পা দিয়েছে শিবমন্দিরের পুজো৷ আর এবার তাদের নিবেদন ‘চৌখুপি’৷ থিমশিল্পী বিমল সামন্তর সৃজনে চৌখুপিতে বাজিমাত করতে চায় শিবমন্দির৷
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৫:০১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×