somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধুচন্দ্রিমা

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সামনেই বিয়ে৷ বিয়ের যাবতীয় তোড়জোড়, পোশাক, ভেনিউ, ফোটোগ্রাফার, মেক-আপ আর্টিস্ট, তত্ত্ব, কেটারিং-এর সেরাটা খুঁজে বের করা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই৷ এত কিছুর মাঝে হয়তো মধুচন্দ্রিমার প্ল্যানিংটা করা হয়েই ওঠেনি৷ জীবনের সবচেয়ে মেমোরেবল ট্রিপ-এর প্ল্যানে অনেকেই বেশ বেগ পান৷ বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, ভারতেই এমন ডেস্টিনেশন রয়েছে, যা শুধু এই স্পেশাল ট্রিপকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে৷ নিরিবিলিতে কাটিয়ে আসতে পারবেন কোয়ালিটি টাইম৷

গোয়া:



গোয়ার সৈকতের সঙ্গে নতুন করে আলাপ করানোর কোনও প্রয়োজন পড়ে না৷ রোমান্টিক থেকে হ্যাপেনিং- যেরকম বিচ চাইবেন, তেমনটিই পাবেন৷ কালাঙ্গুটে, বাগা, আরামবোল- তালিকা বিরাট৷ সঙ্গে চাইলে রয়েছে পর্তুগিজ স্থাপত্যের নিদর্শনও৷ নৈশভোজের পর ঘুরে আসতে পারেন টিটোস ও মাম্বোস নাইট ক্লাব, চাইলে বিচ সংলগ্ন শ্যাকেও কাটাতে পারেন সময়৷ চাপোরা ফোর্টে সূর্যাস্ত দেখতে একেবারেই ভুলবেন না৷ হানিমুনের মতো রিল্যাক্সড ট্রিপে নিতে পারেন স্পেশাল মাসাজও৷
কী খাবেন:
কন্টিনেন্টাল, অথেনটিক গোয়ানিজ খাবার ট্রাই করুন৷ বিয়ার এখানে জলের চেয়েও সস্তা৷ লোকাল ক্যাশিউ বা কোকোনাট ফেনি ট্রাই করুন৷ চিকেন, মাটন ভুলে সিফুডে মজে থাকুন৷
কোথায় থাকবেন:
তাজ এক্সোটিকা গোয়া, দ্য লীলা গোয়া, গোয়া ম্যারিয়ট রিসর্ট অ্যান্ড স্পা, ভিভান্তা বাই তাজ, হুইসপারিং পামস বিচ রিসর্ট৷
কীভাবে যাবেন:
কলকাতা থেকে ফ্লাইটে পৌঁছে যান ডাবোলিম এয়ারপোর্ট৷ মুম্বই হয়ে কানেকটিং ফ্লাইটে সময় লাগবে ছ’ঘণ্টা৷ এছাড়া অমরাবতী এক্সপ্রেসে পৌঁছে যান গোয়া, হাওড়া থেকে ভাস্কো দা গামা পৌঁছতে সময় লাগবে ৩৭ ঘণ্টা৷
কী কিনবেন:
বিভিন্ন ধরনের মশলাপাতি, লোকাল লিকার, ড্রেস, হরেক স্মারক দ্রব্য৷

উদয়পুর:



নিরিবিলিতে রাজার মতো বহাল তবিয়তে কয়েকটা দিন কাটানোর জন্য পাড়ি দিন উদয়পুর৷ সেখান থেকে ড্রাইভ করে পৌঁছে যান মাউন্ট আবু৷ ঘুরে আসুন সানসেট পয়েন্ট৷ নাক্কি লেকের এই অ্যামবিয়েন্স দারুণ রোমান্টিক৷ উদয়পুরের সিটি প্যালেস ও উদয়পুর ঘিরে থাকা লেকের সৌন্দর্য অবর্ণনীয়৷
কী খাবেন:
অথেনটিক রাজস্থানি খাবার লাল মাস অবশ্যই চেখে দেখুন৷
কোথায় থাকবেন:
দ্য ওবেরয় উদয়ভিলা, তাজ লেক প্যালেস, রামাডা উদয়পুর রিসর্ট অ্যান্ড স্পা৷
কী কিনবেন:
মিনাকারি গয়না, জেমস্টোন পেন্টিং, অক্সিডাইজড জুয়েলারি, তামার জিনিস, মার্বেলের জিনিসপত্র, অ্যাণ্টিক উডেন ফার্নিচার, বাঁধনির শাড়ি ও দোপাট্টা৷
কীভাবে যাবেন:
কলকাতা থেকে মুম্বই অথবা দিল্লি হয়ে কানেকটিং ফ্লাইটে সময় লাগবে ৫ ঘণ্টা৷ অনন্যা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ও শালিমার-উদয়পুর সিটি উইকলি এক্সপ্রেস৷ ২টি ট্রেনই ছাড়বে শিয়ালদহ থেকে৷ এছাড়া আরও ট্রেনও রয়েছে৷

কুমারাকোম:



কেরলের কোট্টায়ামের কাছে ছোট্ট গ্রাম কুমারাকোম৷ এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখ-ধাঁধানো৷ ছিমছাম, নিরিবিলি প্রকৃতির কোলে প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ৷ সাইট সিয়িং, বোটিং, ফিশিং-এর ব্যবস্থা রয়েছে এখানে৷ শীতে এখানে উড়ে আসে নানান পরিযায়ী পাখি৷ এখান থেকে ফেরিতে ঘুরে আসতে পারেন আলেপ্পি৷
কোথায় থাকবেন:
কুমারাকোম লেক রিসর্ট, দ্য জুরি কুমারকোম, তাজ গার্ডেন রিট্রিট, হুইসপারিং পামস৷
কী খাবেন:
আপ্পাম, কাপ্পা, কারিমিন (এক ধরনের মাছ), চিংড়ি, কাঁকড়া, স্কুইড৷
কী কিনবেন:
হ্যান্ডক্রাফটেড মার্কেডাইজ, ক্যামেল বোন কার্ভিং, গ্রাস ম্যাট৷
কীভাবে যাবেন:
কলকাতা থেকে ফ্লাইটে পৌঁছে যান এর্নাকুলাম৷ সেখান থেকে গাড়িতে পৌঁছতে হবে কুমারাকোম৷ এছাড়া ট্রেনে কোট্টায়াম হয়ে পৌঁছতে হবে কোট্টায়াম৷

কুর্গ:



‘স্কটল্যান্ড অফ ইন্ডিয়া’ নামে খ্যাত এই জায়গা হানিমুন ডেস্টিনেশন হিসেবে আদর্শ৷ কুর্গের চারপাশে জুড়ে রয়েছে ঘন সবুজ প্রকৃতি, অরণ্য, পাহাড়ের গা ঘেঁষে ছড়িয়ে থাকে মশলা ও কফির প্ল্যানটেশন৷ কুর্গের মাদিকেরি অবশ্যই ঘুরে দেখুন৷ একসময় ব্রিটিশ শাসনে থাকা এই জায়গায় এখনও ছড়িয়ে আছে লাল-টাইল-এর বাংলো৷ এখানকার কফি চাষ শুরু হয় ব্রিটিশ আমলে৷ দেখে আসুন অ্যাবি ফলস, নামড্রোলিং মনাস্ট্রি, নাগারহোল জাতীয় উদ্যান, ইরুপ্পু ফল ও মাদিকেরি কেল্লা৷
কীভাবে যাবেন:
কলকাতা থেকে সরাসরি কুর্গের কোনও ট্রেন নেই৷ মাইসোর হয়ে পৌঁছতে হবে কুর্গ৷ কুর্গের সবচেয়ে কাছের এয়ারপোর্ট ম্যাঙ্গালোর৷
কোথায় থাকবেন:
মাদিকেরিতে রয়েছে কুর্গ ক্লে স্টে, কার্নি কুটির, জঙ্গল ট্রেলস হোমস্টে৷ এছাড়া হোটেল রয়েছে বিভিন্ন রেঞ্জের৷ অরেঞ্জ কান্ট্রি রিসর্ট, হোটেল কুর্গ ইন্টারন্যাশনাল৷
কী খাবেন:
কোডাভা এখানকার লোকাল কুইজিন৷ এখানকার এক ধরনের সুগন্ধী চাল সান্নাক্কি চেখে দেখুন৷ স্টিমড ফিশ (পাট্টুস), পর্ক, কাঁকড়ার নানারকম পদ৷
কী কিনবেন:
এখানকার কফি, বিভিন্ন ধরনের মশলা, কমলালেবু, চকোলেট ও হোমমেড ওয়াইন৷

ম্যাকলেয়ডগঞ্জ:



হিমাচলের ধর্মশালার কাছে নিরিবিলি হিলস্টেশন ম্যাকলেয়ডগঞ্জ৷ তিব্বতি ও ব্রিটিশ ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে অপূর্ব সুন্দর এই পাহাড়ঘেরা বসতি৷ বেশ কয়েকটি বিখ্যাত মনাস্ট্রি রয়েছে এখানে– যেমন নামগিয়াল মনাস্ট্রি, সুগলাগখাং মনাস্ট্রি৷ দেখে আসুন ভাগসু ফল৷ যেতে পারেন ৯ কিলোমিটার বিস্তৃত ট্রেকে, যাকে বলা হয় ট্রাইউন্ড৷ ১৮৫২ সালে নিও-গথিক স্থাপত্যের ধাঁচে তৈরি চার্চ অফ সেন্ট জনস ইন দ্য ওয়ান্ডারনেস দেখার মতো৷
কোথায় থাকবেন:
হোটেল মাউন্ট ভিউ, হোটেল স্যাফায়ার, বেলা হাইটস, হোটেল উড কাসল৷
কী খাবেন:
তিব্বতি কুইজিনের মোমো, থুকপা, টিঙ্গমো, বাকলেব (তিব্বতি শিঙাড়া)৷ এছাড়া বিভিন্ন বেকড আইটেম যেমন লেমন টার্ট, কেক, চকোলেট মুজ৷ রয়েছে প্রচুর ইতালীয় রেস্তোরাঁ৷
কীভাবে যাবেন:
কলকাতা থেকে ফ্লাইটে দিল্লি হয়ে সেখান থেকে অন্য ফ্লাইটে পৌঁছে যান ধর্মশালা৷ ধর্মশালা থেকে গাড়ি করে পৌঁছান ম্যাকলেয়ডগঞ্জ৷
কী কিনবেন:
তিব্বতি হ্যান্ডিক্রাফটস, সিলভার জুয়েলারি, অষ্টধাতুর জিনিস, মাস্ক৷
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×