somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অণুগল্প অথবা গালগল্পো : রফিক শেহমান ও তার বহমান তত্ত্ব

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আইজ কাইলকার প্রাণীগুলান বড়ই অদ্ভূত দৃষ্টিতে উনার দিকে চাইয়া থাকে। রফিক শেহমান বুঝবার পারেন না এইসব অবোধ প্রাণীরা ক্যান তার দিকে ইদানিং ফ্যালফ্যালাইয়া চাইয়া থাকে। হালকা-পাতলা শরীর নিয়া তার অবশ্য বেশ গর্ব রয়া গ্যাছে। তিনি ভাবেন, তার এমন শরীরে হরেক রঙের প্রেমলীলা চালান যায়, নো ফ্যাক্টর।
হাতের পাশে ফোনখানা বাজতাছে। ধরতে ইচ্ছা করতাছে না। বাড়িতে আবার তার বউ ছালেয়া শেহমান নাই। অতএব গর্তে লুকায়া থাকনে কাজ নাই বুইঝাই অনিচ্ছাস্বত্বেও ফোন ধরলেন রফিক শেহমান।
-হ্যালো
-রফিক ভাই, আমি রমিত সাবিব কইতাছি।
শেহমান প্রমাদ গোনেন।
-কি ব্যাপার, পয়সা তো পাইয়া যাইবা।
-না, আসলে পয়সার লাইগ্যা না। আপনের ডাক শুইনা তো পয়সার দিকে চাইয়াই আপনার লগে আইছিলাম। শেষ বেলায় তো আর শ্যাষ রক্ষা হইলো না। অহন একখান দয়া যদি করেন।
মনে বল ফিরা পায় শেহমান। পিঁপড়ার মতোন শরীর লয়া বাঘের মতোন কণ্ঠ করেন
-কি দয়া?
-রফিক ভাই, আমগোরে নাহয় খেদাইছেন ভালো কথা। কিন্তু যাগোর খেদাননি, তারা তো রয়া গেছিলো। এই যেমন খামিরুল শিসলাম ঠোকন। যদিও তারা আমগো লগে প্যাক্ট হইিেছলো। তাও তো তাগোর আপনি নিজের লোক মনে কইরায় প্রথমে খেদাইতে চান নাই। তারা থাকতে আমার দেয়াডাতে আপনি এমন একজনরে বসাইছেন যে কুত্তা না ঘর কা না ঘাটকা। দয়া কইরা সেই চেয়ারডার কথা বিবেচনা কইরা যদি হেরে একটু মুক্তি দিতেন।...

কথোপকথন দীর্ঘ হলো আরো কিছুক্ষণ। হেরপর রফিক শেহমান ফোন রাইখ্যা ভাবতে বইলেন। মনের আগাড়ে বাগাড়ে চ্যাগাড় দিয়া উঠলো কতো যে কথা! এমনি কি তার ভাগ্য। যেইহানেই হাত দেন, সেইহানেই কোনো না কোনো ল্যাঠা লাগে! আগেই তো ভালো আছিলেন, মাসে দুএকবার চটি বই বাইর করতেন। সেইহান দিয়া তো অন্ততঃ কিছু লোকজনরে খোশ রাখন যাইতো। কিন্তু অহন কি হইবো? তিনি অবশ্য একখান শক্তিশালী লেখা দিছেন সিরিজ আকারে। লেখার নাম 'ডোলিং রেইজ'। সেই লেখা দিয়া অবশ্য কি হইছে না হইছে জানবার না পরলেও নিজের মনের খেদ যে গেছে এইডাতেই তিনি খুশি।

রফিক শেহমান হাতমুখ ধুইতাছেন। নামে-কামে সবখানেই তিনি বহমান হইয়া থাকতে চাইতেন, অহনও চান। বেসিনে পানি পড়তাছে সেইডাও কি বহমান? শেহমানের অতো কিছু জানবার মন চাইলো না। তার মনডাও অহন বহমান হইয়া গ্যাছে। দীর্ঘ 12 বছর আগে য্যামনে মনডা বহমান হইয়া এক ম্যাডামের পাতে গেছিলো। তেমনে আইজও সেই বহমান মন নিয়া নতুন কারো পাতে যাওন যায় কিনা, সেইডা নিয়া মহাগবেষণায় বসলেন রফিক শেহমান।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ সুবহানার বীরত্ব

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:১০




সুবহানা খুব ছোট্ট হলেও, দারুণ মিষ্টি দেখতে,
চটপটে, বেজায় সাহসী , কেউ পারে না রুখতে।

স্কুল থেকে ফেরার পথে একদিন দুপুরবেলা
অনাথ দুটি শিশু বসে করছিল কি এক খেলা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×