somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দৈব বনাম যুক্তি : পাকিস্তান প্রেক্ষিত ।

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দৈব বনাম যুক্তি : পাকিস্তান প্রেক্ষিত ।
পাকিস্তানের কায়েদে আযম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যার অধ্যাপক পারভেজ হুদভয় তার একটি বই ইসলাম ও বিজ্ঞান গ্রন্থে বলেছেন- ‘পাকিস্তানে জিয়াউল হক যে শিক্ষা ব্যবস্থা ১৯৮০ সালের দিকে চালু করেন তার ফলে পাকিস্তানের মানুষ ক্রমশঃ দৈবশক্তির উপর, অলৌকিক ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে পার্থিব সব ব্যপারেই । প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ-ব্যধি , সড়ক দুর্ঘটনা, বিমানের উড্ডয়ন-অবতরণ, পরীক্ষায় কৃতকার্য্যতা , প্রেম বিবাহ প্রভৃতি সবকিছুতেই তারা ঐশীনির্ভর হয়ে পড়ছে । উদাহরণস্বরূপ বলেন-
‘পাকিস্তানে কোন বিমান, তা সে হোক সরকারি বা বেসরকারি-দোয়া কালাম পাঠ ছাড়া উড়তে পারে না । আল্লাহকে কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ের জন্য নয়, ক্রিকেট খেলায় জিতিয়ে দেবার দায়িত্বও নিতে হচ্ছে । দক্ষিন আফ্রিকায় পাকিস্তান দল জেতার পর মাঠে সেজদা দেন দলের সবাই। সে সময় প্রধানমন্ত্রি বেনজীর ভুট্টো দেশবাসীকে খেলায় জয়ের জন্য দেশের সবাইকে দোয়া করার জন্য আহ্বান জানান ।’
পরবর্তী প্রধান মন্ত্রি চৌধুরি সুজাত হোসেন ২০০৩ সালে ওয়ার্ল্ড কাপে পাকিস্তানের পরাজয়ের কারন ব্যখ্যায় বলেছিলেন যে - ‘ক্রিকেট খেলায় চ্যাম্পিয়ন হবার জন্য প্রেরণা দেবার জন্য যে গান রচিত হয়েছিল তাতে ইনশাল্লাহ ছিল না । কারন এটা ছাড়া তার মধ্যে এক ধরনের অহঙ্কার প্রকাশ পায় । সে কারনেই পাকিস্তান সে যাত্রায় হেরেছিল ।’
পাকিস্তানে সরকারি নির্দেশে লক্ষ লক্ষ মুসল্লীকে বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়তে হয় ।
‘নামাজ পড়লে কি বৃষ্টি হয়? বৃষ্টিপাত প্রাকৃতিক নিয়মে হয় ,প্রার্থনা দ্বারা তাকে কোন ভাবেই প্রভাবিত করা যায়না।’ কিন্তু অধ্যাপক হুদভয়ের এমন বক্তব্যের জবাবে পাকিস্তানেরই এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন ,-
-‘প্রার্থনার মাধ্যমে বৃষ্টি হয়েছে এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে । সেসব গ্রাহ্যের মধ্যে না এনে কেবল কার্য্যকারণের কথা বললে শিক্ষা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যায় । বিশ্ব প্রাকৃতিক নিয়মেই কার্য্যকারণ ও ফলাফল নীতি অনুসরণ করে, -তথাপি এটা অনেক সময় নাও ঘটতে পারে ।কারণ আল্লাহ এই নিয়ম সবসময়ই কঠোরভাবে পালন করবেন এমন অঙ্গীকার তিনি কোথাও করেন নাই।’
উত্তরে পারভেজ বলেন-
-কিছু কিছু লোক ভূত দেখেছেন বলেও সবিস্তার বর্ণনা দেন । তথাপি আমি বলবো বিজ্ঞান এ ধরণের কল্পকথায় বিশ্বাস করতে পারেনা ।মানুষের কল্পনা শক্তির সীমা নাই ।ক্যামেরাবন্দী না হওয়া পর্যন্ত তাকে সত্য বলা যায় না । প্রার্থণা প্রকৃতির নিয়মের বাইরে বিপরীত কিছু করতে পারে না । পাথরকে উপরে ছূঁড়ে মারলে তা নীচে না পড়ে উপরেই থাকবে কি ? প্রার্থনা যদি বৃষ্টিপাত ঘটাতে সক্ষম হয়, তবে পদার্থ বিদ্যাসহ সব বিজ্ঞান আস্তাকূঁড়ে ফেলে দেওয়া বাঞ্ছনীয়। প্রার্থণা দ্বারা বৃষ্টি সম্ভব হলে সৌদি আরব এতদিনে শস্য শ্যমলা উর্বর ভূমিতে পরিণত হতো ।’
এই ধরনের মনোভাবই মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে সামাজিক অগ্রযাত্রাকে রূখে দিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই জনগনকে বিজ্ঞান ভিত্তিক সাম্রাজ্যবাদের নিকট নত হতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আফশোষ করেন এই বলে যে, - “ উনিশ শতকেই এই উপমহাদেশে স্যর সৈয়দ আহমেদ বলেছিলেন-‘দৈব বলতে সাধারণত: যা বুঝি তা কখনই ঘটে না ।কোরানেই দৈব সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা আক্ষরিক অর্থে না নিয়ে রূপক অর্থে নিতে হবে।’ তিনি নূহের মহাপ্লাবন বা স্বর্গপতনের মতবাদকেও অস্বীকার করেন । মেরাজগমন সম্পর্কে বলেন এটি একটি স্বপ্নের বিবরণ । তারা এইসব কথা আজ থেকে দুই শতক পূর্বে বলেছিলেন । আর আজ আমরা তা উচ্চারণ করার সাহসও হারিয়ে ফেলেছি ।”
হুদভয় আরও জানান তার পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এক প্রাক্তন প্রধান স্বর্গের গতিবেগ নিরুপন করেছিলেন । স্বর্গ নাকি আলোর গতিবেগের চাইতে এক সেন্টিমিটার কম গতিতে প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে । তার এই চমকপ্রদ আবিষ্কারের উৎস নাকি কোরানের একটি সুরা যেখানে বলা হয়েছে- ‘যেই রাতে কোরানের সুরাগুলি বিবৃত হয়েছিল সেই বিশেষ রাতের নামাজ আদায় অন্য সাধারণ রাতের তুলনায় হাজার গুন মূল্যমান ।‘ এই সুরারই ভিত্তিতে তিনি এক সহস্রের সমমানের এক সময় বিবর্ধক গুনকের আমদানী করেন। তাকে তিনি আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদের সূত্রে ফেলে উক্ত উপপাদ্যে উপনীত হন ।
দুই পাকি আনবিক প্রকৌশলি জ্বিনের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে পাকিস্তানের জ্বালানি সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব রেখেছিলেন -যেহেতু ফেরেশতারা আগুনের তৈরি, তাই তাদের বন্দি করে তাদের কাছ থেকে শক্তি নিঙড়ে নেবার প্রস্তাব রাখেন।*

* Islam and science : Religious orthodoxy and the battle for rationality - Parvej hoodbhoy
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×