somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকারের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ আলোচনা

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারের তিনটি বিভাগ। ১। একজিকিউটিভ বা নির্বাহী বিভাগ ২। লেজিসলেচার বা আইন বিভাগ ৩। জুডিসিয়ারী বা বিচার বিভাগ।

একজিকিউটিভ একটি দেশের শাসনক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি। জণগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সকল জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, আমলা সবাই একজিকিউটিভ। একজিকিউটিভ সরকারের সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। আমরা সাধারণতঃ সরকার বলতে একজিকিউটিভকেই বুঝি।

লেজিসলেচার বা আইন বিভাগ বলতে আইন প্রনয়ণকারী সংস্থাকে বোঝায়। বাংলাদেশে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদ হচ্ছে মূল আইন প্রনয়ণকারী সংস্থা। জণগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ তথা সংসদ সদস্যগণ, যারা মূলতঃ একজিকিউটিভ, সংসদে লেজিসলেচার হিসেবে আইন প্রনয়ণ করে থাকেন। সংসদে পাশ হওয়া সকল আইনকে বিধিবদ্ধ আইন বা স্ট্যাটিউট বলা হয়। সংসদের বাইরেও স্থানীয় প্রশাসন যেমন সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন রুলস, অর্ডার ইত্যাদি জারী করে। স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা যেমন বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব সিনেটে আইন প্রনয়ণ করে। এসব সংস্থাকে আইন প্রনয়ণের জন্য সংসদ স্বয়ং ক্ষমতা দেয়। সংসদের বাইরে অন্যান্য সংস্থাগুলোর আইন প্রনয়ণ পদ্ধতিকে ডেলিগেটেড লেজিসলেশন বলা হয়।

সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হল জুডিসিয়ারী বা বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ একটি আধুনিকতম ধারণা।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বলতে মূলতঃ সূপ্রীম কোর্ট ও অধস্তন আদালতসমূহকে বোঝায়।

সূপ্রীম কোর্টের আবার দুইটি বিভাগ, যথাঃ ১। আপীল বিভাগ, ২। হাইকোর্ট বিভাগ।
(লক্ষ্যণীয়, ভারতের মতো “হাইকোর্ট” বলতে আমাদের দেশে কোন কোর্ট নেই। আমাদের সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয় আদালত একটি, তা হল সূপ্রীম কোর্ট। সূপ্রীম কোর্টের নিম্ন বিভাগ হল হাইকোর্ট বিভাগ।)

আপীল বিভাগ দেশের সর্বোচ্চ বিচার বিভাগীয় সংস্থা। হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বিচারকদের নিয়ে আপীল বিভাগ গঠিত। তাঁদের মাঝে একজন হলেন “বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি”, যিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারকগণও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারক হওয়ার আইনগত যোগ্যতা হল, অধস্তন আদালতের বিচারক বা বার কাউন্সিল সনদপ্রাপ্ত আইনজীবী হিসেবে দশ বৎসরের অভিজ্ঞতা। দুঃখজনক এই যে, বাংলাদেশে সূপ্রীম কোর্টের বিচারক নিয়োগকালে রাজনৈতিক পরিচয় বা বিবেচনাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
(লক্ষণীয়, আমি সূপ্রীম কোর্টের “বিচারক” বলেছি, যাদেরকে আমরা বিচারপতি হিসেবে জানি। সংবিধানে “বিচারক” ব্যবহৃত হয়েছে। শুধু প্রধান বিচারপতিকে “বিচারপতি” বলা হয়েছে।)
সূপ্রীম কোর্টের রায় প্রচলিত আইনের সমপর্যায়ের ক্ষমতাশালী এবং মর্যাদাবান।

অধস্তন আদালত বলতে সূপ্রীম কোর্ট ব্যতীত দেশের সকল আদালতকে বোঝায়। অধস্তন আদালত মূলতঃ দুই ধরণের, ১। দেওয়ানী আদালত বা সিভিল কোর্ট, ২। ফৌজদারী আদালত বা ক্রিমিনাল কোর্ট।

দেওয়ানী আদালত সাধারণতঃ জমি জমা, পদবী, ক্ষতিপূরণ, অধিকার ইত্যাদি সম্পর্কিত মামলা মোকদ্দমা বিচার করে থাকে। বিচার শেষে আদালত জমির উপর কারো অধিকারের ঘোষণা দেয় বা কাউকে ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়। সহকারী জজ আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, যুগ্ন জেলা জজ আদালত, অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ও জেলা জজ আদালত –আর্থিক এখতিয়ারভেদে এই পাঁচ ধরণের দেওয়ানী আদালত রয়েছে।

ফৌজদারী আদালত বলতে মূলতঃ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণের আদালতকে বোঝায়। এই আদালতগুলো আমাদের শরীর, সম্পত্তি সংক্রান্ত “অপরাধ” যেমন, হত্যা, চুরি-এর বিচার করে। শাস্তি প্রদানের ক্ষমতার ভিত্তিতে ফৌজদারী আদালত ৩য়, ২য়, ১ম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট –এই তিন ধরণের হয়। (জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণকে মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বলা হয়।) একটি জেলায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণের প্রধান হিসেবে থাকেন একজন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আরও থাকেন একজন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁরা দুজনেই অবশ্য ১ম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
যুগ্ন জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ ও জেলা জজ আদালত –এদেরও কিন্তু ফৌজদারী ক্ষমতা রয়েছে। এরা যখন ফৌজদারী অপরাধের বিচার করে তখন এদেরকে বলা হয় দায়রা আদালত, যেমনঃ জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
এছাড়াও আরও ফৌজদারী আদালত রয়েছে, যেমনঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, স্পেশাল পাওয়ার এয়াক্ট-এ বর্ণিত অপরাধ বিচারের জন্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ইত্যাদি।

সরকারের তিনটি অংগই গুরুত্বপূর্ণ। এদের কাজ পারষ্পরিক নির্ভরশীল ও পরিপূরক। আইনসভার আইন ও বিচার বিভাগের আদেশগুলো নির্বাহী বিভাগ বাস্তবায়ন করে। বিচার বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে আদেশ দেয়। আইনের উর্ধে কেউ নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ২:৩২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×