ট্রেনে থাকতে থাকতে মনে মনে প্লান করছি যাবো কিভাবে...... যে ভাবে হোক একটা জার্নি টয় ট্রেনে করতে হবে.....কোলকাতা থেকে ট্রেনে শিলিগুড়ি ( বা এন জে পি )....একরাত থেকে বাস বা টয় ট্রেনে দার্জিলিং....
কোলকাতায় নেমে হোটেলে ফ্রেশ হয়ে নেটে চেককরছি ট্রেনের সময়সূচি....দেখি টয় ট্রেনের ২য় ক্লাসের টিকেট কেবল মাত্র ট্রেন ছাড়ার আগে বিক্রি করে.....১ম শ্রেনীতে মাত্র ১৪টা সিট.....একটু পর আবার চেক করতে যেয়ে দেখি ১২ টা সিট.......নেট থাকে বেরহয়ে দৌড়ালাম ফেয়ারলি প্লেসে ( ওখান থাকে দূরপাল্লার ট্রেনের টিকেট এডভান্স কাটা যায় ).......কাউন্টারে জিজ্ঞেস করতেই বলল টয় ট্রেনের টিকেট আছে ..... কিন্তু কোলকাতা শিলিগুড়ির টিকেট নাই..... যা থাকে কপালে আগে টয়ট্রেনের টিকেট কাটি....টিকেট কেটে ছুটলাম ট্টাভেল এজেন্সীর কাছে.....বলল ট্রেন পরদিন রাত ১০টায় ....সন্ধ্যা ৭ টার দিকে এসে টিকেট নিয়ে যেতে.......
যাইহোক মোটামুটি যুদ্ধ করে ( সেটা আরেক কাহিনী ) ট্রেনে করে আসলাম এন জে পি......তারপর রিক্সায় শিলিগুড়ি.....হালকা রেষ্টনিয়ে রাস্তায় বের হলাম শিলিগুড়ি দেখার জন্য......বেশ সিমসাম শহর..... দেখতে গেলাম তিস্তা ব্রীজ.......খুব সম্ভবত এটাকে বলা হয় সেভক ব্রীজ......
পরদিন সকালে উঠেই আবার এন জে পি ষ্টেশানে দৌড়......এবার টয় ট্রেন.....
যদি বাসে দার্জিলিং যাওয়া হয় তবে সময় লাগে আড়াই ঘন্টার মতো....আর টয় ট্রেনে প্রায় সাড়ে পাচ/ছয় ঘন্টা.....ট্রেন যাচ্ছে পাহাড়ের পাশ দিয়ে....জংগোলের মধ্যে দিয়া.........গতি এমন ইচ্ছা করলে জোরে দৌড় দিয়া ট্রেনে উঠা যায়....জিগ জ্যাগ ( জেড ) ক্রস......এই জিগ জ্যাগ ব্যাবহার করে ট্রেন খুব সহজেই উপরে ( পাহাড়ে ) উঠে যায়.... এক জায়গায় লাইন ঠিক করছে দেখে ট্রেন থেকে সবাইকে নামতে বলল......আমরা সবাই নেমে নীচে দাড়ালাম ......ট্রেন টুকটুক করে ভাংগা লাইন পার হলো....আবার সবাই যেয়ে উঠলাম.....
এক এক করে ষ্টেশান পার হচ্ছে .... কার্শিয়াং...ঘুম.....( আরও দুই একটা ষ্টেশান ছিল নাম ভুলে গেছি.....) ধীরে ধীরে ট্রেন আসলো দার্জিলিং ষ্টেশানে....
এই জার্নিতে যে পরিমান মজা সাড়ে পাচ ঘন্টা কেন ১০ ঘন্টা হলেও বোরিং লাগে না.........
( ছবিগুলি সব নেট থেকে নেওয়া..... টয় ট্রেন আর তিস্তা ব্রীজের......)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

