somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্য ড্রাগ কিং

০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা শহরের বাতাসে নোনা জলের ঘ্রাণ থাকে। কিন্তু জুনের এই গোধূলিলগ্নে রূপসা নদীর তীরে যে হাওয়া বইছিল, তাতে মিশে ছিল বারুদ আর ইয়াবার ঝাঁঝালো গন্ধ।

নদীর পাশে তরুণ-তরুণীদের ভিড়, ফুটপাতে চায়ের আড্ডা আর শহরের কোলাহল। প্রথম দেখায় আর দশটা ব্যস্ত ঘাটের মতোই মনে হবে। কিন্তু রূপসা ঘাটের পশ্চিম দিকের অন্ধকার খুপরিগুলোর ভেতরে যে অপরাধের অর্থনীতি সচল, তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত পুরো খুলনা জুড়ে।

পিবিআই-এর স্পেশাল ইনভেস্টিগেটর আরিয়ান রূপসা নদীর পাড় ধরে ধীরপায়ে হাঁটছিলেন। ওঁর গায়ে একটা সাধারণ সুতি শার্ট, চোখে চশমা। কিন্তু ওঁর মগজে ঘুরছিল খুলনা মহানগর পুলিশের তৈরি করা মাদক কারবারিদের একটি তালিকা । যার মধ্যে খালিশপুর, হরিণটানা আর সোনাডাঙ্গাতেই আছে অর্ধেকের বেশি। কিন্তু আরিয়ান ভালো করেই জানেন, তালিকায় থাকা এই নামগুলো স্রেফ ‘বাহক’ বা খুচরা বিক্রেতা। আসল সুতোটা যার হাতে, সে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আর সেই আসল মানুষটির মুখোমুখি দাঁড়াতেই আরিয়ান এবার খুলনায় পা রেখেছেন। ওঁর চিরশত্রু, ওঁর মগজের সমকক্ষ এক প্রতিভাধর সাইকোপ্যাথ—অধ্যাপক রেহান আশরাফ।

একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের শিক্ষক রেহান এখন খুলনার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একচ্ছত্র সম্রাট। ওঁর কোনো রাজনৈতিক ব্যানার নেই, কিন্তু ওঁর মাদক থেকে আসা নগদ অর্থের প্রবাহে পুষ্ট হয় খুলনার বড় বড় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। ওঁর বুদ্ধিমত্তা তীক্ষ্ণ, কিন্তু নিষ্ঠুরতা পৈশাচিক। মাসখানেক আগে রূপসায় নেশার টাকার জন্য মাকে পিটিয়ে হত্যার যে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই মাদকাসক্ত ছেলেটিকে ল্যাব-গ্রেড কাস্টমাইজড ইয়াবা স্যাম্পল হিসেবে সরবরাহ করেছিল রেহানের লোক। রেহানের একমাত্র টার্গেট এখন একজনই—স্পেশাল ইনভেস্টিগেটর আরিয়ান, যে ওঁর নড়াইল-লোহাগড়া রুটের পুরো সাপ্লাই চেইনটা ভেঙে দিয়েছে।

খুলনা পিবিআই-এর গোপন সেফ হাউসে ম্যাপের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল আরিয়ানের টিম।

“স্যার, পরিস্থিতি খুবই জটিল,” পরিদর্শক তানভীর ওঁর ফিল্ড রিপোর্টের ফাইলটা রাখলেন। “খুলনায় উদ্ধার হওয়া মাদকের ৯৫ শতাংশই ধরা পড়ে বহনকালে। কোনো বড় ডাম্পিং স্টেশন বা নেপথ্যের গডফাদারদের ছোঁয়া যায় না। আর আমাদের নিজস্ব সোর্স বলছে, মাঠপর্যায়ের পুলিশের কিছু সদস্য এবং দৌলতপুর-হরিণটানা থানার কয়েকজন কর্মকর্তা এই চক্রের কাছ থেকে নিয়মিত অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন। ওরাই অভিযানের খবর আগেই পাচার করে দেয়।”

“এটাই রেহানের স্টাইল,” আরিয়ান বোর্ডের ওপর রেহানের একটা স্কেচ আঁকলেন। “সে লজিস্টিকস এবং মনস্তত্ত্ব দুটোই বোঝে। বর্ষা, সাইবার ফরেনসিকের আপডেট কী?”

বর্ষা ওঁর ল্যাপটপ থেকে মাথা তুলে বলল, “স্যার, গত দুই দিনে রূপসা ঘাট এবং খালিশপুরের ডিলারদের ব্যবহৃত কয়েকটি বেনামী ফোনের কল টাইম, পুশ-মেসেজের সময়সূচি এবং লোকাল ক্যারিয়ারদের নেটওয়ার্ক মেটাডেটা এনালাইসিস করেছি। প্রতিটি খুচরা হাতবদলের ঠিক ৫ মিনিট আগে নির্দিষ্ট কিছু আইপি থেকে সিগন্যাল আদান-প্রদান হয়েছে। এই ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং তাদের লজিস্টিক সাপ্লাই রুট ক্রস-ম্যাচ করে আমি লবণচরার একটা পরিত্যক্ত শিপইয়ার্ডকে এই পুরো সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য মূল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছি।”

আরিয়ান ওঁর চশমাটা ঠিক করলেন। ওঁর ঠোঁটের কোণে একটা শীতল হাসি। “রেহান ওঁর ল্যাবটা শিপইয়ার্ডের ভেতরে শিফট করেছে। সে ভেবেছিল আমরা নড়াইল রুটে ব্যস্ত থাকব। তানভীর, লোকাল পুলিশকে কিচ্ছু জানানোর দরকার নেই। বিজিবি আর যৌথ বাহিনীর একটা ছোট স্পেশাল কমান্ডো টিম রেডি করো। আজ রাতেই আমরা সাপ্লাই চেইনের হৃৎপিণ্ডে আঘাত করব।”

রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। রূপসা নদীর বুকে কুয়াশা আর মেঘের চাদর।

লবণচরার সেই পরিত্যক্ত শিপইয়ার্ডের চারপাশ নিঃশব্দে ঘেরাও করেছিল পিবিআই আর যৌথ বাহিনীর জওয়ানরা। আরিয়ান, তানভীর এবং চারজন কমান্ডো পেছনের লোহার মরিচা ধরা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকলেন। ভেতরটা বিশাল, পুরনো জাহাজের কঙ্কাল আর লোহার পাতের স্তূপ।

ঘরের একদম মাঝখানে একটা কাঁচের ঘেরা আধুনিক ল্যাবরেটরি। সেখানে থরে থরে সাজানো কেমিক্যাল আর লাখ লাখ ইয়াবা বড়ি। কিন্তু পুরো জায়গাটা পিনপতন নীরব। কোনো পাহারাদার নেই, কোনো শ্রমিক নেই।

“স্যার, কেমন যেন সুনসান মনে হচ্ছে,” তানভীর ওঁর পিস্তলটা উঁচিয়ে ফিসফিস করে বললেন।

আরিয়ানের মনস্তাত্ত্বিক অ্যালার্ম বাজল। ওঁর মগজ চিৎকার করে উঠল—ভুল হাইপোথিসিস! রেহানের মতো চতুর লোক ওঁর মূল ল্যাবরেটরি এত সহজে অরক্ষিত রাখবে না। এটা কোনো সাধারণ ডাম্পিং স্টেশন নয়, এটা একটা নিখুঁত ফাঁদ।

“তানভীর, ব্যাক অফ! এখনই বের হও!” আরিয়ান চিৎকার করে উঠলেন।

কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। আচমকা ল্যাবের চারপাশের হাই-ভোল্টেজ ফ্লাডলাইটগুলো দপ করে নিভে পুরো শিপইয়ার্ডকে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবিয়ে দিল। এর ঠিক পরের সেকেন্ডেই ওপরের ক্যাটওয়াক থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের কান ফাটানো গর্জন শোনা গেল—তা-তা-তা-তা!

অন্ধকারের মধ্যে অতর্কিত এই ব্রাশফায়ারে পুরো টিমের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো। সামনের দুজন কমান্ডো বুলেটবিদ্ধ হয়ে আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। বাকি কমান্ডোরা অন্ধকারের মধ্যে দিকভ্রান্ত হয়ে এলোপাথাড়ি পাল্টা গুলি ছুড়তে লাগলেন, কিন্তু ওপরের পজিশনে থাকা শত্রুদের তারা দেখতে পাচ্ছিলেন না। আহত জওয়ানদের গোঙানি, বুলেটের শিস আর টিনের চালে ধাতব আঘাতের শব্দে পুরো অপারেশনটি এক সেকেন্ডের মধ্যে ধসে পড়ার উপক্রম হলো।

“কাভার নিন! পজিশন হোল্ড করুন!” তানভীর চিৎকার করে উঠলেন, কিন্তু ওঁর কণ্ঠস্বর বুলেটের শব্দে হারিয়ে গেল। সে আরিয়ানকে ধাক্কা দিয়ে একটা ভারী লোহার ক্রেন-বিমের আড়ালে ফেলে দিল। ঠিক তখনই একটা বুলেট আরিয়ানের ডান কাঁধের চামড়া ঘেঁষে চলে গেল। তীব্র যন্ত্রণায় আরিয়ানের চোখ বুজে এল, ক্ষতস্থান থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল।

হঠাৎ ওপরের গ্যাংওয়েতে একটা এমার্জেন্সি লাল আলো জ্বলে উঠল। সেই আলো-ছায়ার আবহে দেখা গেল এক দীর্ঘদেহী অবয়ব। সুটেড-বুটেড, চোখে মেটালিক ফ্রেমের চশমা। অধ্যাপক রেহান আশরাফ। ওঁর কণ্ঠস্বর শান্ত, নিচু এবং পৈশাচিক রকমের ঠাণ্ডা:

“স্বাগতম, আরিয়ান। আমি অপেক্ষা করছিলাম।”

সংক্ষিপ্ত এবং চূড়ান্ত হুমকিসূচক সেই বাক্যটি শেষ হতেই রেহানের ইশারায় চারপাশ থেকে ওঁর ক্যাডাররা হ্যান্ড গ্রেনেড ছুড়তে শুরু করল। আরিয়ানের ব্যাকআপ টিম বাইরে অবরুদ্ধ, কারণ শিপইয়ার্ডের চারপাশের অ্যাক্সেস পয়েন্টগুলো রেহানের লোকেরা আগেই মাইন বিছিয়ে লক করে দিয়েছিল। আরিয়ানের কাছে মাত্র একটা ম্যাগাজিন বাকি। মৃত্যু আজ মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে।

ক্যাডাররা যখন আরিয়ানের কাভার লক্ষ্য করে চূড়ান্ত আক্রমণের জন্য এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই শিপইয়ার্ডের পশ্চিমের দেয়াল চূর্ণ করে ভেতরে ঢুকে পড়ল সেনাবাহিনীর একটা সাঁজোয়া যান (APC)।

আসলে, আরিয়ান শিপইয়ার্ডে ঢোকার আগেই ওঁর রিস্টওয়াচের ইমার্জেন্সি বীকনটি বর্ষার মেইনফ্রেমের সাথে সিঙ্ক করে রেখেছিলেন। ল্যাবের ভেতর আরিয়ানের হার্ট রেট এবং লোকেশনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখেই বর্ষা বাইরে থাকা যৌথ বাহিনীর ভারী সাঁজোয়া দলকে চূড়ান্ত দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার সিগন্যাল দেয়।

“ফায়ার!” সাঁজোয়া যান থেকে নেমে কমান্ডো ক্যাপ্টেন গর্জে উঠলেন।

শুরু হলো এক তীব্র ও বাস্তবসম্মত সম্মুখ যুদ্ধ। সেনাবাহিনীর ভারী machine gun-এর মুখে রেহানের তৈরি করা সন্ত্রাসী বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হলো। নিজের পরাজয় নিশ্চিত বুঝে রেহান এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করলেন না। ওঁর পকেট থেকে একটা রিমোট বের করে বোতাম চাপতেই পুরো শিপইয়ার্ডের ড্রামগুলোতে রাখা ফসফরাস কেমিক্যাল বিস্ফোরিত হয়ে ঘন, বিষাক্ত সাদা ধোঁয়ার দেয়াল তৈরি করল। এই ধোঁয়ার পর্দা এবং ওঁর বেঁচে থাকা ক্যাডারদের ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে রেহান পেছনের একটা স্পিডবোট জেটির দিকে অন্ধকারের মধ্যে দৌড় দিলেন।

আরিয়ান ওঁর ক্ষতবিশিষ্ট কাঁধের তীব্র যন্ত্রণা উপেক্ষা করে ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে ওঁর চিরশত্রুর অবয়বটা তাড়া করলেন। জেটির কিনারায়, যেখানে একটি হাই-স্পিড বোটের ইঞ্জিন অলরেডি গর্জে উঠছিল, সেখানে গিয়ে আরিয়ান চিৎকার করে উঠলেন, “হ্যান্ডস আপ, রেহান! ইটস ওভার!”

রেহান বোটের রোপ ছেড়ে দিয়ে ধীরপায়ে ঘুরলেন। ওঁর মুখাবয়বে ভয়ের লেশমাত্র নেই, বরং এক অদ্ভুত তৃপ্তি। জেটির টিমটিমে আলোয় দুজনের চোখাচোখি হলো। ১৫ সেকেন্ডের জন্য পুরো পৃথিবীর কোলাহল যেন স্তব্ধ হয়ে গেল।

“তুমিও জানো এটা শেষ নয়, আরিয়ান,” রেহান ওঁর কোটটা ঠিক করতে করতে নিচু স্বরে বললেন। ওঁর ঠোঁটে সেই চিরচেনা শীতল হাসি। “তুমি আমার ল্যাব ধ্বংস করেছ, সমাজ পরিবর্তনের মিথ্যে নেশায়। কিন্তু মানুষের ভেতরের অন্ধকারকে ধ্বংস করবে কী দিয়ে? চাহিদা যেখানে আছে, জোগান সেখানে থাকবেই। আজ আমি না থাকলে কাল অন্য কেউ আসবে।”

“তুমি মানুষের অন্ধকার নিয়ে ব্যবসা করো রেহান, আর আমার কাজ সেই অন্ধকারে আলো ফেলা,” আরিয়ান ওঁর পিস্তলের নিশানা স্থির রেখে বললেন, ওঁর শরীর যন্ত্রণায় কাঁপছে। “আইন তোমাকে ছাড়বে না।”

“আইন?” রেহান একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন। “আইন তো অন্ধ। কিন্তু আমি দেখতে পাই। আজ তুমি জিতলে, কারণ তোমার ভাগ্য ভালো ছিল। কিন্তু মনে রেখো, আমাদের মগজের এই খেলাটা কেবল শুরু হলো।”

কথাটা শেষ করেই রেহান পলকের মধ্যে ওঁর জ্যাকেটের ভেতর থেকে একটা ফ্ল্যাশ-ব্যাং গ্রেনেড মাটিতে ছুড়ে মারলেন। এক তীব্র আলোর ঝলকানিতে আরিয়ানের চোখ ধাঁধিয়ে গেল। আরিয়ান অন্ধের মতো সেই আলো লক্ষ্য করে ট্রিগার চাপলেন—ধাঁই!

কিন্তু নিশানা বিচ্যুত হলো। যখন আরিয়ানের দৃষ্টি ফিরে এল, ততক্ষণে স্পিডবোটের হেডলাইট নিভিয়ে রেহান রূপসা নদী পেরিয়ে সুন্দরবনের কোনো এক দুর্ভেদ্য জলপথের অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। নদীর কালো জলের দিকে তাকিয়ে আরিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।

পরদিন সকাল। রূপসা নদীর ওপরে তখন নতুন সূর্য উঠেছে।

শিপইয়ার্ড থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ল্যাব-গ্রেড ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল এবং ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচারিং ফরমিউলা। রেহানের পুরো সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসী বাহিনী এখন পিবিআই এবং যৌথ বাহিনীর কড়া হেফাজতে।

খুলনা পিবিআই অফিসের সামনে জিপের সিটে বসে ছিলেন আরিয়ান। ওঁর ডান কাঁধে ব্যান্ডেজ। বর্ষা ওঁর ল্যাপটপ বন্ধ করে জিপের পেছনের সিটে বসল। তানভীর এসে আরিয়ানের হাতে এক কাপ গরম চা তুলে দিলেন।

“স্যার, আজ ভোরে খুলনা জেলা পুলিশ এবং কেএমপির সেই অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ক্লোজ করা হয়েছে,” তানভীর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। “খুলনার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্রাইমের উৎস ছিল এই রেহানের ড্রাগের টাকা। পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দিয়েছি আমরা।”

আরিয়ান চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে জানালার বাইরে রূপসা নদীর শান্ত স্রোতের দিকে তাকালেন। ওঁর চোখে কোনো জয়ের উল্লাস নেই, বরং এক গভীর চিন্তার রেখা। ওঁর মনে বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল রেহানের সেই শেষ সংলাপ—‘আমাদের মগজের এই খেলাটা কেবল শুরু হলো।’

“রেহান পালিয়ে গেছে, তানভীর,” আরিয়ান জিপের ইঞ্জিন স্টার্ট দিলেন। “তবে সে যেখানেই যাক, ওঁর মগজের এই বিষাক্ত জাল আমি বেশিদিন ছড়াতে দেব না। সে আবার আসবে, আর আমিও ওঁর জন্য অপেক্ষা করব।”

জিপটি রূপসা ঘাটের কোলাহল পেরিয়ে শহরের দিকে চলতে শুরু করল। ড্রাগ সাম্রাজ্যের মেরুদণ্ড ভেঙে দিলেও, ওঁর জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রুর সাথে আগামী দিনের চূড়ান্ত মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের জন্য আরিয়ান মনে মনে নিজেকে প্রস্তুত করতে লাগলেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রূপসী তরু "কদম"

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান,
আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান॥

----- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -----



আমাদের এলাকাতে অনেকগুলি কদম গাছ ছিল একসময়। এলাকা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×