somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন শুরুতেই তাদের এভাবে আঘাত না করলেই কি হতো না ? শিক্ষা ব্যবস্থা খারাপ , কিন্তু এর দায়ভার তো নিশ্চয়ই তাদের না !!

৩১ শে মে, ২০১৬ রাত ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশের শিক্ষার মান সব সময়ই খারাপ , এটা নতুন কিছু না । তবে পারিপার্শ্বিকতা দেখে মনে হচ্ছে বর্তমান অবস্থা একটু বেশী পরিমাণে খারাপ । আমাদের দেশের শিক্ষাকে সবসময়ই নিম্নমানের ধরা হয় । এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের শিক্ষাকে বিশ্বে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয় , আমাদের তার থেকে একটু নিচু মানের মনে করা হয় । আমাদের দেশের তিন বছরের গ্রাজুয়েশনকে বহির্বিশ্বে এডভান্স লেভেলের এইচ এস সি ধরা হয় , অপরপক্ষে ভারতের তিন বছরের গ্রাজুয়েশনকে গ্রাজুয়েশন হিসেবেই ধরা হয় । এটা বর্তমানের কথা বলছি না , বহু আগে থেকেই এই নিয়ম চলে আসছে ।

শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে , যেটা সব দেশেই হয় । কারণ যে কোন বিষয় নিয়ে প্রাটিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া ঐ ব্যবস্থার সুফল এবং কুফল সম্পর্কে সম্যক ধারনা নেয়া সম্ভব নয় । এই শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা সর্বত্র , সমালোচনা তো অবশ্যই দরকার । কিন্তু সমালোচনাটা করছে কারা সেটা দেখার বিষয় । এ নিয়ে তো বেশ ঝড় উঠেছে যেখানে সেখানে , যাদের এই ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান আছে তারা তো করছেই আর যাদের এতোটুকু জ্ঞান নেই তারাও মেতে উঠেছে , " হই হই হরতাল " মনবৃত্তি নিয়ে , যেটা তাদের দলাদলি করার জন্য বেশ মুখরোচক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে । যখন কেউ কিছু না বুঝে " হই হই হরতাল " শুরু করে দেয় তখনই একটা সুষ্ঠু লক্ষ পণ্ড হবার সম্ভাবনা থাকে । যেটা করেছে ঐ বেসরকারি টিভি চ্যানেল । একেবারেই নীতি বিবর্জিত একটি প্রোগ্রাম তারা সমগ্র জাতির সামনে তুলে ধরেছে বেশ কটি অল্প বয়সি ছেলেমের জীবনে কলঙ্ক লেপন করে ।

সৃজনশীল পদ্ধতিটি অত্যন্ত ভালো একটি পদক্ষেপ , কিন্তু সমস্যা হলো সর্বস্থরের শিক্ষকরাই এর যথাযথ ব্যবহার জানে না । আবার সরকার থেকে একটা টার্গেট থাকে প্রতিটি স্কুলের জন্য , যেই টার্গেট সম্পন্ন না করতে পারলে স্কুল গুলো বিভিন্ন রকম সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় । আর তখনই কিছু কিছু স্কুল অসৎ উপায়ে সেই টার্গেট ফুলফিল করতে চায় । এভাবেই শিক্ষার মান আরও খারাপ হতে থাকে । সরকার প্রদত্ত এই টার্গেট তো থাকবেই যেটা এগিয়ে নেবে শিক্ষা ব্যবস্থা , কিন্তু এই পদ্ধতি মনিটর করার জন্য কমিটি গুলো ঠিকঠাক কাজ করছে না বলে মনে হচ্ছে । এভাবেই শিক্ষা ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে ।

আমাদের দেশের একাডেমিক কারিকুলাম আরও পরিবর্তন করতে হবে । পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দুই ধরনের কারিকুলাম অনুসরণ করা হয় সরকারি ভাবে । একটার স্ট্যান্ডার্ড একাডেমিকালি অনেক উন্নত , উন্নত বলতে একটু কঠিন পদ্ধতি , যেটা শুধু তারাই নিতে পারবে যারা ঐ পদ্ধতি কোপ করতে পারবে অর্থাৎ যাদের ঐ পরিমাণ মেধা রয়েছে । আর , আরেকটা একটু সহজ পদ্ধতি - এটাও নির্ণয় করা হয় মেধার ভিত্তিতে । সাধারণত ঐ রাষ্ট্রের ভালো স্কুল বলে পরিচিত স্কুলেই ঐ কঠিন পদ্ধতি বহাল থাকে ।

ইংল্যান্ডে তিন ধরনের একডেমিক বোর্ড রয়েছে , যার প্রত্যেকটার একটার থেকে আরেকটার অনেক পার্থক্য । যেমন , সহজ , মধ্যম এবং কঠিন - এই ভাবে রয়েছে । " এডেক্সসেল" হলো সহজ , " এ কিউ এ" হলো মধ্যম এবং " ও সি র" হলো কঠিন । এই তিনটি বোর্ডেরই আবার আলাদা আলাদা স্তর রয়েছে - এটা স্কুল গুলো ঠিক করে কোন ছাত্রের জন্য কোনটা উপযোগী । কারণ সব ধরনের মানুষই এক রকমের মেধা নিয়ে জন্মায়নি , তাই কম মেধা সম্পন্ন ছাত্রের উপর কঠিন পদ্ধতি থাকাটা জুলুমের পর্যায়ে পরে । আবার সবার জন্য এক ধরনের সাধারণ পদ্ধতি বহাল থাকলেও সেটা একজন তুখড় মেধাবীর মেধাকে বাঁধা গ্রস্থ করা হয় , তাই এই বিভাজন । ইংল্যান্ডে তিন ধরনের স্কুল রয়েছে - একটা হলো সাধারণ স্কুল যেটা কম্প্রিহেন্সিভ স্কুল নামে পরিচিত এবং তারা সাধারণত সহজ এবং মধ্যম কারিকিউলাম বোর্ডের অধীনে থাকে । দ্বিতীয় স্কুল হলো গ্রামার স্কুল এবং তারা অত্যন্ত কঠিন " ও সি র " একাডেমিক পদ্ধতি অনুসরণ করে যেটা হলো অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রিজ এর কারিকিউলাম । যার ফলে ঐ স্কুল গুলোর ছেলে মেয়েরা সাধারণত অক্সফোর্ড , কেম্রিজ সহ রাসেল গ্রুপের ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে সক্ষম হয় যেগুলো দেশের সর্ব শ্রেষ্ঠ ইউনিভার্সিটি । আর তৃতীয় হলো প্রাইভেট স্কুল যেটা অত্যন্ত যত্নের সাথে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর প্রয়োজনীয়তাকে সূক্ষ্ম বিবেচনায় রেখে তার জন্য টেইলর মেইড কারিকিউলাম ঠিক করে থাকে । প্রতিটি কারিকিউলাম বোর্ডই সৃজনশীল কায়দায় চলে । আর বাংলাদেশে বহাল আছে সবার জন্য একি কারিকিউলাম যেটা সাইন্টিফিক্যালি ভুল একটি পদ্ধতি ।

এখন আসা যাক ঐ ভিডিও ক্লিপটির কথায় , দেশ জুড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে , তা না হলে কোন সুস্থ নীতিমালা এই ধরনের ভিডিও তৈরিতে উৎসাহ প্রদান করতে পারে না । দেশে এখনো অস্তিত্বের লড়াই , ক্ষমতার বীভৎস লড়াই চলছে তাই এই স্পর্শকাতর বিষয় গুলো নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই । কোন সভ্য মানুষ এরকম আচরণ করতে পারে না । দেশে ডিফেমেশন আইনটি এখনও সঠিক ভাবে কাজ করে বলে মনে হচ্ছে না । ডিফেমেশন আইনটি একমাত্র সভ্য জাতিরাই অনুসরণ করে । ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে এটি শুধুই বিলাসিতা । যেখানে এখনো মানুষ মানুষের মুণ্ডু কেটে উল্লাস করে , সেখানে এই ধরনের সভ্যতা আশা করাটাই অন্যায় । ভাবতে কষ্ট হয় যে , এখনো মানুষের মন মানসিকতা ২০০ বছর পেছানো । মনে পরে যায় ফ্রেঞ্চ রিভলিউশনের কথা যখন মানুষ " লুই দা সিক্সটিন" এবং " ম্যারি আন্টনেট" এর মুণ্ডু নিয়ে উল্লাস করেছিল ২০০ বছরেরও আরও আগে । তখন নানা প্রকার বিশৃঙ্খলা দেখে মানুষ সেটার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে হয়তো সমাজ ব্যবস্থার জন্য , গণতন্ত্রের জন্য , কিন্তু ওটা তো ছিল বর্বরচিত আচরণ । আমি এটা বলছি এই কারনে যে আমাদের মন মানসিকতা এখনো অনেক পেছনের দিকে আটকে আছে । শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করতে হবে , এটা ঠিক আছে , তাই বলে এভাবে -- মানুষের জীবন বিপন্ন করে ? তাও আবার ছোট ছোট কতগুলো জীবন নিয়ে , যারা তাদের জীবন শুরু করেছে মাত্র । জীবন শুরুতেই তাদের এভাবে আঘাত না করলেই কি হতো না ? শিক্ষা ব্যবস্থা খারাপ , কিন্তু এর দায়ভার তো নিশ্চয়ই তাদের না ।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:২৩
২১টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×