তিনদিনের টানা ছুটিটা শেষ হয়ে গেলো। আমরা যারা চাকরীজীবী তাদের জন্য এই তিনদিনের ছুটি পাওয়াটা এক বিশাল ব্যাপার। অনেকই দেখি বছরের শুরুতেই হিসেব করতে থাকেন- কবে তিনদিনের ছুটি পাওয়া যাবে। আর এই ছুটিতে কী কী করা হবে। যারা ঢাকায় থাকেন শুধু পেটের চাহিদা মেটানোর জন্য তাদের কাছে তিনদিনের ছুটির মহত্ত্ব যে কী তা আর নতুন করে বলতে হবে না। এ বছর শুরুতেই অনেকগুলো তিনদিনের ছুটি পাওয়া গেছে, যেটা পাওয়াটা খুব রেয়ার।
অন্য অনেকের মতো আমারও এই তিনদিনের ছুটিটা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা ছিলো। না আসলে অনেক না, একটাই পরিকল্পনা ছিলো- কোথাও একটু ঘুরতে যাওয়া। অনেক দিন থেকেই পরিকল্পনা করে আসছিলাম কয়েকজন মিলে এই ছুটিটাকে কাজে লাগাবো। কাজে লাগানো মানেই সবাই মিলে কোথাও ঘুরতে যাওয়া। প্রথমে দেখে গেলো দলে আছে ৯-১১ জন। আস্তে আস্তে কমতে কমে সেটা এসে দাড়ালো ৫-৬জনে। তারপরও আমরা কয়েকজন একেবারে দৃঢ় চিত্ত ছিলাম, কোনভাবেই এইবার মিস হবে না, ঠিকই এবার আমরা যাবো। কারণ এর আগের বার নানা কারণে যাওয়া হয়নি।
প্রথমে ঠিক করা ছিলো আমরা যাবো খাগড়াছড়ি-বান্দরবন। টিকেট বুকিং দেওয়াও হয়ে গেলো। কিন্তু কপাল খারাপ হলে যা হয় আর কি !!! এই সময়েই শুরু হলো পার্বত্য এলাকায় নানা সমস্যা । নানা পরিকল্পনার পর, একমত হতে না পেরে যাওয়াটা বাদই হয়ে গেলো। কিন্তু আমি এবার ছিলাম একদম দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যেভাবেই হোক যাবো। ব্যস আমি আর আমরা Better half ঠিক করলাম, আমরা দুইজনই যাবো। জায়গা ঠিক হলো জাফলং। শুনেই মনটা আনন্দে নেচে উঠলো। ওই জায়গাটা দেখা হয়নি আমার। জানি না কেন, ছোটবেলা থেকেই ঘোরাঘুরির অনেক শখ। এই শখ কেন জন্ম নিলো জানি না। তবে এটা জানি ঘুরতে ভালো লাগে অনেক। আরও একটা ব্যাপার জানি, আমাদের সমাজের মেয়েদের এই শখ নামক ব্যাধিটা থাকা উচিৎ না। তারপরও আমার ব্যাধিটা হয়েই গেছে। যেটা বলছিলাম- সব মোটামুটি ঠিক, আমরা যাবো শুনে আরও কয়েকজনও রাজি হয়ে গেলেন, যাওয়ার জন্য। হয়ে গেলো আমাদের প্রায় ৬জনের একটা টীম। তারপর থেকে আশা আর জাফলং এর সৌর্ন্দয্য দেখার কল্পনাতেই দিন কাটাচ্ছিলাম। তখনো ভাবিনি এটা স্বপ্নই হয়ে থাকবে।
খুব কাছের মানুষের কাছে তো আমাদের একটাই চাওয়া - তারা আমাদের মনটা বুঝবে, তাই না। সেই কাছের মানুষটা যদি আমাকে নাই বোঝে তাহলে, তাহলে তো আর ......................ছোটা একটা কারণে গেলো মেজাজাটা খারাপ হয়ে। আর মেজাজ খারাপ হলে যা হয়-চূড়ান্ত একটা খারাপ মানুষ হয়ে যাই আমি (সেটাই সবাই দেখে, কিন্তু মেজাজটা খারাপ যে করলো তার ভূমিকাটা কেউ দেখে না), তাই হয়ে গেলাম। রেগে গিয়ে কেনসেল করে দিলাম ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান। আর মনে মনে নিয়ে নিলাম কঠিন একটা প্রতিজ্ঞা। সেই প্রতিজ্ঞার কথা আজকে আর বলবো না।তবে প্রতিজ্ঞাটা মনে মনে মেনে নিতে কষ্ট হয়েছে খুব। এখনো হচ্ছে। যতবারই মনে করছি কষ্ট লাগছে। কেউ যদি কখনো নিজের আজন্ম লালিত স্বপ্নটাকে নিজ হাতে খুন করে থাকেন, তাহলে সে হয়তো এই কষ্টটা বুঝতে পারবেন।
যাই হোক যাওয়াটা তো কেনসেল হলো, তিনদিনের ছুটিও কেটে গেলো। এখন থেকে আর ক্যালেন্ডারে তিনদিনের ছুটি খুঁজে বের করবো না। কেন জানি গত তিন বছর ধরে, মানে চাকরিতে ঢোকার পর থেকেই একটুতেই অস্থির হয়ে পরি, একটুতেই দম বন্ধ হয়ে যায়, ইচ্ছে করে সব ছেড়ে একটু যদি হাঁফ ছাড়তে পারতাম, একটু যদি পরিচিত জায়গাতে ছেড়ে-পরিচিত রাস্তা-ঘাট ছেড়ে দুদিনের জন্য কোথাও যেতে পারতাম !!! (আগে এমন হতো না।) প্রতিদিন একই রুটিন, একই কাজ, একই সমস্যা, একই ইট-কাঠ-লোহালক্কড়ের জীবনে থেকে কেন জানি আজকাল সহজেই হাঁফ ধরে যায়, তাই একটু সস্থির জন্য দূরে কোথাও যাওয়ার চেষ্টা। তাও নিজেই বন্ধ করে দিলাম। এভাবেই বোধ হয় - জীবনের স্বপ্নগুলো আস্তে আস্তে ছেড়ে দিতে হবে। তারপর হাতে থাকবে শুভকঙ্কের ফাঁকি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

