somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সংগ্রামী চলচ্চিত্রশিল্পী চার্লি চ্যাপলিনের জন্ম বস্তিতে

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সংগ্রামী চলচ্চিত্রশিল্পী চার্লি চ্যাপলিনের জন্ম বস্তিতে। কিন্তু বস্তির অন্ধকার তার জীবনকে বন্দী করতে পারেনি। বরং তিনি এ সমাজের জন্য যা করেছেন, তা বর্ণনাতীত।
আমাদের এ সমাজ নানা পঙ্কিলতায় পরিপূর্ণ। আর সমাজের এ পঙ্কিলতার অন্ধকারকে দূর করতে হলে সমাজের প্রত্যেককেই সচেতন ভূমিকা পালন করতে হয়। কোনো একক মানুষ এককভাবে সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না।
আর এ সমাজ পরিবর্তনে বিশাল ভূমিকা পালন করতে পারে গণমাধ্যম এবং শিল্পমাধ্যম।
সিনেমা বা চলচ্চিত্র এ যুগের খুবই শক্তিশালী গণমাধ্যম ও শিল্পমাধ্যম। সমাজ পরিবর্তনে, মানুষের মানসিকতার বিকাশে চলচ্চিত্রকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা তাই আজ সময়ের দাবী। এই দাবী পূরণে যেসব বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার অংশ নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে স্যার পেন্সার চার্লস চ্যাপলিনও অন্যতম, যিনি চার্লি চ্যাপলিন নামেই বিশ্বে সর্বাধিক পরিচিত।
চ্যাপলিনের জন্ম লন্ডনের এক বস্তিতে। তার মা ছিলেন লন্ডনের নাচিয়ে দলের নাচিয়ে। বাবা সেই দলেরই গাইয়ে। সংসারের আয় উপার্জন তেমন ছিল না। ফলে প্রচন্ড রকম দুঃখ যন্ত্রণার ভিতর দিয়েই বেড়ে উঠতে থাকেন চ্যাপলিন।
শৈশবের এই নির্মম যন্ত্রণা তার সমগ্র সৃষ্টিতেই ছড়িয়ে রয়েছে।
শৈশবে চার্লি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। দেখতেন জীবনের বিচিত্র রূপ। বৈষম্যের তাড়না।
তার মা কখনো কখনো খাবারের সময় হলে তাকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন যেন ঐ বেলার খাওয়াটা আত্মীয়ের বাড়িতেই শেষ করে নিতে পারে।
চলচ্চিত্রের মতো দুর্গম পথের পথিক হওয়ার পর চ্যাপলিন ১৯২০ সালে ‘দি কিড’ ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এই ছবির পূর্ণাঙ্গ কাহিনীটিও ছিল তারই রচিত।
১৯৫২ সালে চ্যাপলিন তৈরি করেন ‘দি গোল্ডরাশ’ ছবিটি । সমালোচকদের মতে, এ ছবি বানানোর পরই তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারতেন।
এই ‘গোল্ডরাশ’ ছবিটিতেও তার শৈশব যন্ত্রণার নির্মম ছায়া রয়েছে। এ ছবির একটি দৃশ্যে হতদরিদ্র চার্লি তার জুতো রান্না করে খান। ক্ষুধা আরও লেলিহান হলে চার্লির বন্ধু তাকেই মুরগী ভেবে খাওয়ার জন্য লালায়িত হয়ে উঠেন। এই দৃশ্যের প্রতীকী অর্থও রয়েছে। এ ছবির মধ্য দিয়েও চার্লি দারিদ্রপীড়িত মানুষের চিত্র, সামাজিক বৈষম্য ও শোষকদের আভিজাত্য নামের শঠতাকে ফাঁস করে দিয়েছেন।
চ্যাপলিনের ছবিতে রয়েছে হাসির খনি। কিন্তু এ হাসির সমান্তরালে ও অন্তরালে রয়েছে প্রচন্ড এক মর্মবেদনা। ঢোলাপ্যান্ট, আঁটোসাঁটো কোট এবং ঢিলে জুতো পরা সেই বিশ্বজনীন চরিত্রটি কেবল হাসি আর আনন্দই সরবরাহ করে না, আমাদের সামাজিক বৈষম্যকেও দারুণভাবে ব্যঙ্গ করে যায়।
তাই বলা যায় চ্যাপলিনের বিকল্প শুধু চ্যাপলিনই। তিনি যা বলতে পেরেছেন, তা বর্ণনাতীত। চলচ্চিত্রের নির্বাক যুগের পর সবাক যুগ সৃষ্টি হওয়ার পরেও চ্যাপলিন তার চলচ্চিত্রে শব্দ সংযোজন না করে দেখিয়ে দিয়েছেন বলার লক্ষ্য থাকলে শব্দ ছাড়াও জীবনের সত্য কথাটি কিভাবে বলা যায়।
চ্যাপলিনের জন্ম ১৮৮৯ সালে। সে বছর জার্মানীর হিটলারও জন্মগ্রহণ করেছেন। দু’জনই সারা পৃথিবীতে পরিচিত। যদিও দু’জন দু’মেরুর মানুষ ছিলেন। চ্যাপলিন ছিলেন সৃষ্টির পক্ষে। আর ধ্বংসের পথে ছিলেন হিটলার। তাই আজ আমরা চ্যাপলিনকেই স্মরণ করি তার মানবতার জন্য। আর হিটলারকে ঘৃণা করি তার বর্বরতার কারণে। আজ, এ সময়ে সুন্দর একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে চ্যাপলিন চর্চার প্রয়োজনীয়তা তাই অপরিসীম। স্যার পেন্সার চার্লস চ্যাপলিনের জন্ম বস্তিতে। কিন্তু বস্তির অন্ধকার তার জীবনকে বন্দী করতে পারেনি। বরং তিনি সবকিছু অতিক্রম করে মানুষের ইতিহাসে চিরকাল অমর আলোয় আলোকিত হয়ে থাকবেন। অমর হয়ে থাকবে তার অবিনশ্বর চিন্তার ফসল পৃথিবী বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলোও।




সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৫৭
২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×