somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি আর আগের আমি নেই। দালাল হয়ে গেছি।

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একসময় নিয়মিতই আবৃত্তির চর্চা করতাম আমি। উচ্চারণের বিষয়ে সঙ্গে রাখতাম উচ্চারণবিদ নরেন বিশ্বাসের বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘উচ্চারণ অভিধান’। বাংলা একাডেমি আয়োজিত ১৯৯২ সালের একুশে বইমেলার শেষদিনে আমি প্রথম নরেন বিশ্বাসের ‘উচ্চারণ অভিধান’ কিনি। তখন আমার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল কাজী আবু জাফর সিদ্দিকী, খায়রুল আলম সবুজ, সালেক খান, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও অনেক নামকরা আবৃত্তিকারের সাথেই। বিগত ২০-২২ বছরে দেশে অনেক নতুন আবৃত্তিকারও তাদের পরিচয় দৃঢ় করেছেন। কিন্তু আমি শুধু আবৃত্তির বিষয়েই নয়, কোনো বিষয়েই একবিন্দুও সফলতা অর্জন করতে পারিনি। কারণ আমি খুবই অস্থির এবং অস্থিতিশীল এবং ...। বছর বছর ধরেই এখন আর আবৃত্তির চর্চাও করি না, যদিও কাজী নজরুলের ‘বিদ্রোহী’সহ বিখ্যাত কবিদের প্রায় সব কবিতাই আমার এখনও ঠিক মুখস্থ রয়ে গিয়েছে। তবে যখন আবৃত্তির চর্চা করতাম, এত বেশি কবিতার পাঠ কিংবা আবৃত্তি করতাম যে, অনেক কবিতার বিভিন্ন জটিল শব্দের উচ্চারণও এখনও মুখস্থ রয়েছে। এখনও যখন আমি মর্মান্তিক হতাশা মাথায় চেপে পথে হাঁটি, তখনও বিভিন্ন প্রসঙ্গে মনে মনে বাংলা-ইংরেজি কবিতার প্রাসঙ্গিক চরণ আবৃত্তি করি। ইদানিং বেঁচে থাকার জন্য অনেক আপোষ করতে হয় আমাকে। আমার বিবেচনায় এমন আপোষের চেয়ে আত্মহত্যাই শ্রেয়। কারণ ইদানিং আমি কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতার চরণ: ‘জলের স্বভাব প্রায় অর্জন করেছি... ... ...
যে পাত্রেই ধরো
অবিকল তার রঙে ফুটে উঠতে পারি
মাঝে মাঝে লাল হই
কখনো সবুজ
প্রয়োজনে নীল হতে পারি...’ বড় বেশি উচ্চারণ করি। কারণ এখন আমাকে বেঁচে থাকতে প্রায়ই দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। অথচ আমি তো কখনো এমন ছিলাম না। কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিনি বেঁচে থাকার জন্য একবিন্দু হলেও দালালি করতে হবে আমাকে।
তবে ইদানিং বারংবার উচ্চারণ করা কবিতার চরণগুলো কবি আসাদ চৌধুরীর কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতার চরণ, তা আর এখন মনে নেই। কবিতাটির প্রসঙ্গ এ জন্য উপস্থাপন করলাম যে, ইদানীং কিছু হলেই আমি মনে মনে উচ্চারণ করি, ‘জলের স্বভাব প্রায় অর্জন করেছি ...’। কারণ-এ সমাজ এখন এমনই হয়েছে যে, জলের স্বভাব [এখানে দালালি কিংবা আপোষ অর্থে] অর্জন না করা পর্যন্ত এ সময়ে-সমাজে-যেন আর কোনো রক্ষা নেই।
কবি আসাদ চৌধুরীর ‘নদীও বিবস্ত্র হয়’ কাব্যগ্রন্থটি আমাকে একসময় উপহার দিয়েছিল আমার ঢাকার কমিউনিস্ট বন্ধু আবিদ হোসেন। সেই কাব্যগ্রন্থের অনেক কবিতা এখনও আমার মনে পড়ে। যেমন: ‘বাবা তো বছর তিনেক রয়েছেন জেলখানাতে। অপরাধ অনেক বড়, এ-বাংলা ভালোবাসেন...’ ইত্যাদি। তবে ঘুরে ফিরে কিছুতে কিছু হলেই আজকাল খুব বেশি মনে মনে উচ্চারণ করি... ‘জলের স্বভাব প্রায় অর্জন করেছি...’। কারণ এখন আর আমি আগের আমি নেই। দালাল হয়ে গেছি। কারণ বেঁচে থাকার জন্য এখন আমি যথেষ্ট ছাড় দিচ্ছি। জীবনের এমন লগ্ন আমি অতিক্রম করবো কোনোদিন, স্বপ্নেও ভাবিনি। সত্যি এমন আপোষ করার চেয়ে আমার বিবেচনায় কবি জীবনানন্দ দাশের মতো আত্মহত্যাই শ্রেয় (আমি মনে করি তিনি সেদিন কলকাতায় ট্রামের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যাই করেছিলেন, যদিও আমার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক জীবনানন্দ গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দ আমরণ এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি )।


১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×