somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি পরিবারের আনন্দ-বেদনা এবং আবেগ কথন

০৭ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘরের মধ্যে দুই চাচী সারাক্ষণ ক্যাচাল করে। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না। একজনের রান্না আরেকজনের পছন্দ হয় না, খুনসুটি লেগেই থাকে। সত্তরোর্ধ চাচামিয়া একূল ওকুল করে বারবার কামরা পাল্টায়। তামাশা দেখে কেউ কেউ হাসি ঠাট্টা করে। সমাধান তো হয় না, বরং গন্ডগোল বেড়ে গেলে চুলায় আগুন জ্বলে না। চার মগ আর চৌদ্দ গ্লাসের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে হরহামেশা কথা কাটাকাটি হয়। আপোষ-মীমাংসার বৈঠকগুলো বারবার ভেস্তে যায়। শেষে দাদুভাইয়া ধমক দিয়ে নোটিশ ঝুলায় - এসব চলবে না, কথা ও কাজে সাবধান হও - মুখে ছাঁকনি লাগাও। এতো সব ঝামেলার মাঝে ঘরের পোলাপানগুলোকে পরীক্ষার প্রিপারেশন নিতে হয়। খারাপ করলে চলে ঝাড়ির উপর ঝাড়ি। বড়রা ঝাড়ি দেয়, বকা দেয়। ছোটরাও থেমে থাকে না...।

আহারে! কতোই বা বয়স? এবার যে পশ্চিমবিন্দিয়ায় ছেলেগুলো পরীক্ষা দিতে গেলো, যেখানে হাজির হলো গত দুইবারের ফার্স্ট হওয়া ক্যাঙ্গারুলিয়া, প্রতিবেশী বিন্দিয়াপাড়া, ফাকিস্তান, খবরীভূমি, বিলাত, জাফ্রিকানগর আরো কতো গ্রামের ছেলেপেলে; সবাই বয়সে বড়ো। অথচ প্রথম পরীক্ষাতেই বিন্দিয়াপাড়াকে ঘরে তুলে দিলো বাংলার কচি কচি ছেলেগুলো। রাবণ রাজ্যের কাছে হারলেও ক্রন্দনশীলা ঘাড়মুটাকে বৃষ্টির মধ্যে ভালোই নাকানি চুবানি দিলো। তারপরে? তারপরে কী হলো? টেস্ট পরীক্ষায় অ্যালাউড হলে ফাইনাল যে দিতেই হবে খোকা! আরো ছয়টা পরীক্ষা। কতদূর পারবে? খোকাদের বুঝি ক্লান্তি লাগে, কতোদিন দেশ দেখে না! তাই ক্যাঙ্গারুলিয়া আর খবরীভূমির সাদা চামড়ার দামড়াগুলো খুব সহজে কাত করে দিলো পরের দুটো পরীক্ষায়। দুধে-ভাতে থাকা ছেলেগুলোর মাঝে না জানি আবার হতাশা চলে আসে! কত্তো দু:শ্চিন্তা ভর করে মাথায়...।
যেই না পরপর দুটো নাকানী-চুবানি খেলো, তার খবর ঘরে পৌঁছতেই শোরগোল পড়ে গেলো। কেউ কেউ বললো - ঘরে জায়গা পাবে না, বাইরে থাকবে। ভাত বন্ধ। বাচ্চাদের মাঝেও খানিকটা বড়'দা হয়ে থাকা হাবুলের উপরে ক্ষ্যাপে সবাই। আর ঐ পিচ্চিটা কী যেন নাম, রাবণরাজ্যে গিয়ে রেকর্ডের খাতায় নাম লিখিয়েছিল, হুমম আশারভুল - কার্ডিফে কবে জানি ক্যাঙ্গারুলিয়ার মাথায় একাই একশ ঘুষি মেরেছিল, তারপর আর পারে না। সবাই বলে - 'বারুদ পোলা'। অথচ পরীক্ষায় সরল অংকের ফলাফল মিলাতেই সময় পার করে দেয় বারবার। সেই আশারভুলও তেত্রিশ তুলতে পগারপার।
এসবের মাঝে মাথা চুলকায় লজিং মাস্টার দেবু পন্ডিত। দেবু পন্ডিতের ইয়া বড় গোঁফ, বড়বড় চোখ, কঠিন চাহনী। কিন্তু ওস্তাদের ট্রেনিং মার্কামারা। আরো এগার বছর আগে রাবণরাজ্যের ছেলেগুলোকে ম্যাজিকের মতো করে জিপিএ ফাইভ এনে দিলো। তাও গোল্ডেন জিপিএ। সেই দেবু পন্ডিতের মাঝেও এবার হতাশা ভর করে। বিন্দিয়াপাড়ার লজিং মাস্টার চপ্পলকে ঘাঁড় ধাক্কা দিয়ে বিদায় করার পর নতুন ওস্তাদ খোঁজা হচ্ছে। তাদের নজর গেলো - দেবু পন্ডিতের উপর। ...ধান ভানলে কুড়ো দেবো, মাছ কুটলে মুড়ো দেবো, কালো গরুর দুধ দেবো, দুধ খাবার বাটি দেবো...। শুনে দেবুও ঢোল বাজিয়ে বললো - 'বিন্দিয়াপাড়ায় জায়গীর হইতে আমি রাজী'। ইস্! বড়ই দু:সময়! জাফ্রিকানগরের সাথে পরেরদিন পরীক্ষা। কে জানে কেমন করবে বাংলার ছেলেগুলো, কোনদিন তো পারেনি আগে!

তবুও ঘরের বাসিন্দারা আশায় থাকে। বাঘ গর্জন করে উঠুক, জাফ্রিকানগরের আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠুক বাঘের গর্জনে। বারুদ পোলাটা এবার বোমা ফাটায়। সাথে নড়াইল এক্সপ্রেস, আফতাব আর নায়ক রাজের নামে যার নাম - রাজ্জাক; সে-ও কপালের ভাঁজ স্পষ্ট করে ঘুর্ণি ছুড়ে। জাফ্রিকানগরের বেলুনগুলো চুপসে যায় একে একে। এবারের পরীক্ষায় আসাধারণ এক পাশ দিলো বাঙলার ছেলেগুলো। খবর যখন ঘরে পৌঁছে তখন প্রায় শেষরাত। ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে মানুষ, বাদ্য-বাজনা, আনন্দ মিছিল। যারা মিছিলে যায়নি তারা অন্তত: ঘরের দাওয়াখানা কিংবা উঠোনে এসে দাঁড়ায় কিছুক্ষণ। আর দূর পরবাসে সারা রাত জেগে খেলা দেখা কেউ কেউ আনন্দে চোখ ভেজায়। দামাল ছেলেদের এ বিজয় সকালের নতুন সূর্যের সাথে নতুন সম্ভবনার স্বপন দেখায়। ওরা যে আমাদেরই সন্তান। পরীক্ষায় ভালো-মন্দ যা-ই করুক, ওরাই আমাদের রাত জাগায় - মন খারাপ করায় - আনন্দে ভাসিয়ে দেয়। আমরাও যেন ওদের পাশে থাকি সবসময় ...।

[গাঢ়]প্রতিবেশী সমাচার: পাশের বাসার হিংসুটে ভাবী[/গাঢ়]
সেই পুরনো গল্পটা তো আমরা সবাই জানি - পাশের বাসায় বাচ্চা স্কুলে ভর্তি হলে হিংসুটে প্রতিবেশী বলে - 'স্কুলে গেলে কী হবে? পাশ করতে পারবে না'।
স্কুল পাশ করে কলেজে গেলে বলে - 'ওটাই শেষ, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার তো আর হবে না!'
পরে ডাক্তারী পাশ করলে বলে - 'ও ডাক্তার হয়ে কী করবে? সব রোগী মারা যাবে'!
কিন্তু একদা বালকটি ক্রমান্বয়ে স্কুল-কলেজ পাশ দিয়ে সফল ডাক্তার হয়ে অনেকদিন কাজ করে যাওয়ার পর পরশ্রীকাতর প্রতিবেশীটি আর কিছু বলতে পারলো না। কী-ই বা আর বলবে?
সনি চ্যানেল দেখার স্কোপ নেই, তাই 'তারে আমি চোখে দেখিনি, তার অনেক গল্প শুনেছি'। তিনি মন্দিরা বেদী। যতটুকু জেনেছি - বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য তিনি পাশের বাসার হিংসুটে ভাবীর মতো আবোল তাবোল বকে যাচ্ছেন ক্রমাগত। সর্বশেষ আপটেড - তিনি 'মন্দিরার সুমতি' (Mondira's Extra Innings) নামে একটি ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। [link|http://www.nation-online.com/extrainnings/mandira.html|QwewUi
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৯:২৭
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - 'সত্য বলার সনদ'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮



রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।

—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?

—কেন?

—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: আহ প্রিয়তমা, মিলনের গল্প জানো না

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×