কলেজ লাইফেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন একটু একটু করে বেড়ে উঠেছিলো, কেন যেন একটা আলাদা টান অনুভব করতাম। কমপিউটারের উপর ঝোক ছিল অনেক তাই বুয়েট আর বিআইটি গুলোতে পরীক্ষা দিলাম, মনমতো সাবজেক্ট হলোনা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই/ইসিই তে হলো না, শেষ ভরসা লাইফ সায়েন্স। ঢাকা, সিলেট এখানে ওখানে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে বেড়াচ্ছি।
আমার খুব কাছের এক বন্ধুর বড়ভাইয়ের বন্ধু ইউআরপি তে পড়তেন। তাকে আমাদের দুজনের রোল নাম্বার দিয়ে দেয়া হলো লাইফ সায়েন্সের রেজাল্ট জেনে দেয়ার জন্য। তিনি ফোন মারফত জানালেন ওদের দুজনের কারও হয়নি। মেইন লিস্ট বা ওয়েটিং লিস্ট কোনটাতেই না। ঐ সময় ঢাকা ছিলাম, খুলনায় ফিরে কি মনে হলো আজ লাইফ সায়েন্সের ওয়েটিং থেকে ভর্তি হচ্ছে, একটা ঢু মেরে আসি, যদি রিওয়েটিং টানে। দুই বন্ধু মিলে গেলাম ঘুরতে, কি মনে করে মেইন লিস্ট আর ওয়েটিং লিস্ট টায় চোখ বোলালাম আর একবার। আরে ! আমার রোল দেখি ওয়েটিং লিস্টের উপরের দিকেই। তাড়াতাড়ি পুরো নোটিশ টা পড়লাম, আজই ওয়েটিং থেকে ভর্তির দিন, রিপোর্টিং করতে হবে সকাল ১০.৩০ এর ভিতর। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ১১.৩০ পার !
এক দৌড়ে গেলাম ভর্তি কক্ষে। বড় বড় প্রফেসররা বসে আছেন ওখানে। আমি অনুমুতি নিয়ে ভিতরে ঢুকলাম, খুলে বললাম সব কিছু। এক স্যার বললেন, তুমি সত্যি পড়বে তো? আমার বাসা খুলনায়, ভালো সাবজেক্টের আশায় এক বছর নষ্ট করতেও রাজি না আমি, সাথে সাথে হ্যা বললাম। ভর্তি হতে বেশ মোটা অংকের টাকা লাগে, স্যার আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার বাসা কতদূর? টাকা জোগাড় করে আনতে পারবে? আমার তখন সবকিছুই হ্যা। আমার উত্তেজনা বুঝে সতর্কও করে দিলেন তিনি, ধীরে সুস্হে যেও, সাবধানে।
বাসায় এলাম একটা স্কুটার ভাড়া করে, কিভাবে যেন বাসায় কিছু টাকাও ছিলো, পুরোটা নিয়ে সোজা আবার ক্যাম্পাসে, ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হয়ে গেলাম খুবি পরিবারে। সেই ১৯৯৮ সালের কথা, তারপর কত বেলা গেলো, কত ঘটনা প্রবাহের ভিতর দিয়ে বেড়ে উঠলাম আমি, বেড়ে উঠলো আমার প্রিয় ক্যাম্পাস।
ফরম কেনার দিনের একটা ছোট্ট র্যাগের কথা বলি, ব্যাংক থেকে ফর্ম কিনে আমি আর আমার ফ্রেন্ড ক্যাফের দিকে যাচ্ছি আর কিভাবে পূরণ করবো সে বিষয়ে কথা বলছি। কয়েকজন বড় ভাই আসলেন, খুব অমায়িক, হাতে রকেট লান্চার (আর্কি অথবা ইউআরপির স্টুডেন্ট দের ওয়র্কিং সিট রাখার হোল্ডার), আমাদেরকে বললেন, তোমরা ক্যাফে যেয়ে বসো, আমরা একটু পর এসে তোমাদের হেল্প করছি। আমরাও একদম সাধুর মতো ক্যাফের বারান্দায় বসে আছি, অনেকক্ষণ ধরে, হঠাৎ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে দিলো হয় এটা একটা ফাঁদ অথবা ওরা আর কখনোই আসবেনা। শেষে কোন অঘটন ঘটার আগেই বাসায় ফিরে চলে আসি।
চলবে...
(পরবর্তী পর্ব কবে দিতে পারবো জানিনা, নির্ভর করবে মস্তিস্কের সহযোগিতার উপর)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

