somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশ্ন প্রত্র ফাঁস না হওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন

২৫ শে মে, ২০১৪ দুপুর ১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্ররিক্ষা গ্রহনের আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া মোটেও গ্রহযোগ্য নয়। আমাদের বাচ্চারা আমাদের দেশের সম্ভাবনা। এই সব কর্মকান্ড হয় সিস্টেম গ্যাপের কারনে। আমাদের সিস্টেমের মধ্যে প্রচুর পরিমান গ্যাপ আছে বা ছিলো যা আমি নিয়মিত আলোচনা করে যাচ্ছি।

ঐ সব বিজি প্রেস কি করলো না করলো, কিছু বাজে নষ্ট, অসভ্য, বর্বর, দুর্নীতির মিস্তুরি শিক্ষক, প্রিন্সিপাল, হেডস্যার, শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রী, প্রতি মন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী, মাল্টি মন্ত্রী (যারা কুলাংগারদের চামচা বা নষ্ট হয়ে যাওয়া আমলা), মাইক্রো মিনিস্টার (যারা রাজনীতিক দলের দলিয় জোড়ে (নিজ গুন ও যোগ্যতার জোড়ে নয়) নিযোগ পাওয়া মন্ত্রী-এম.পি. দের ব্যক্তিগত সহকারী কি করলো বা না করলো, তা না হয় এখন একটু কমই বলি। কারা যোগসাজোস করেছিলো, কেনো করেছিলো, তা আপনারা জানেন বলেই আমি বুঝতে পারছি। যে ক্ষতি হবার তা হয়ে গেছে। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত যারা এস.এস.সি পরিক্ষায় কৃতকার্য হয়েছিলেন। তাঁদের বেশিরভাগ অংশই যে কতবড় দুর্ভাগা হয়ে এই সময়ে এসে দারুন দুঃখ কষ্টে জীবন জাপন করছে তা আমরা হারে হারে টের পাচ্ছি। নির্ধারিত ৫০০টি অবজেকটিভ প্রশ্ন থেকে করে ৫০টি অবজেকটিভ (নৈর্বত্তিক প্রশ্ন-উত্তর, একটি প্রশ্ন, আর (ক), (খ), (গ), (ঘ) নির্ধারিত চরটি উত্তর থেকে একটি সঠিক উত্তর সিল্টেক করে দেয়ার পদ্ধতি) প্রশ্ন আসতো। কে প্রকৃত মেরিট আর কে অমেরিটরিয়াস তা বোঝা দুস্কর হয়ে পড়েছিলো বলে মনে হলেও, এই আজাব বুঝতে পারা যেতো হায়ার সেকেন্ডারি লেভেল ক্রোস করার রেজাল্ট প্রদানের দিন। এইসব কারনেই উক্ত বছরের বেশিরভাগ এস.এস.সি, এইস.এস.সি, বি.এ, বি.এ-অনার্স ছাগলরা কেউ সেলুনে, কেউ মাছের বাজারে, আবার কেউ টাই ঝুলিয়ে মুদির দোকানে ব্রাস কোম্পানির মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়ে, এম.পি.ও. ভুক্তি বিদ্যালয়/মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রীদের চোখ মেরে চলা বাজে মানুষিকার শিক্ষক পেষা সহ আরও অনেক অনেক আর্থিক কষ্টে ভুগে মরার আগেই মরে গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই দ্বায় ভার কার? নিশ্চই আমার দেশের এই সাধারন ঘরের সরল মায়ের সুন্দর সন্তান গুলোর নয়। শিক্ষিত নামের ছ থেকে আসুন আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস সমাধানের চিন্তা-ভাবনা করে দেখি কি সমাধান পাওয়া যেতে পারে।

ভারতবর্ষের শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বলতা দিয়েই শুরু হয়ে ছিলো। তারপরও আমাদের এই মায়ের পদধুলী নিয়ে এই দেশের মাটির সন্তানরাই সব চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করে দেখিয়ে ছেড়েছে। নজরুল-রবিন্দ্র-আশরাফ সহ অনেক গুনিজনদের সার্টিফিকেটের দিকে চরম অনিহাই এর বড় প্রমান। আমাদের প্রধান সার্টিফিকেট আমরা বাঙালী। এই সার্টিফিকেট আমাদের পুর্বপুরুষরা আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন। আমরা সব সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে শিখে গেছি। আমাদের উপর এতো এতো কুট কৌশল চাপানো হয়েছিলো বলেই খোদা আমাদের বুকে এসে পাগল-মাতাল-ডিজিটাল-ধ্রুপদি সহ মাল্টি মিউজিকে নিত্যদিন খেলা করতে করতে সব কিছুর সমাধান করে দিতে বেড়াচ্ছেন। এই বাঙালীকে নিয়ে আর কোনো পঙ্গু এক্সপৃমেন্ট করতে দেয়া হবে না। আমরা কি ব্যাঙ, যে বাংলাদেশকে তোমরা বায়লজি ক্লাসের প্রাকটিক্যাল (ব্যবহারিক) ক্লাস রুম ভেবে চলছো?

যদি আমাদের তোমরা সত্যি সত্যি ব্যাঙ বলে জ্ঞান করে থাকো। তাহলে মোনে রেখো ব্যাঙ উভচর প্রানী। ব্যাঙ যেমন জলে থাকে আবার স্থলেও থাকে। এবার বাঙালী ব্যাঙের পাঙ্খাও তোমরা দেখতে পাবে। জলে-স্থলে-আকাশে আমাদের একসাথে সমসময়ে দেখতে পাবে। তাকিয়ে দেখো বাংলার নৌ-বাহিনি, স্থল পদাতিক ও অন্যান্য স্বজ্জিত সুন্দর বাহিনি, বিমান বাহিনির দিকে। এরা যেমন শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বাঙালীর নিরাপত্তার খাতিরে কোনো আপোষ করতে আজ থেকে ভুলে গেছে। একজন বাঙালীর হাত থেকে কোথাও পালাবার মতো পথ খুঁজতে খুঁজতে তোমাদের মুল্যবান জীবনের মুল্যবান সময় নষ্ট করতে চেও না। সাবধান।

প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সেবা সহ তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা নেয়ার জন্য কম্পিউটার নিশ্চিত করা মাত্র ১ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সম্ভব বলে আমি মনে করি। পরিক্ষা গ্রহন করার নির্ধারিত সময়ের ঠিক ১ থেকে ২ ঘন্টা আগে প্রশ্নপত্র প্রনয়ন করা হবে। পরিক্ষা গ্রহনের আধাঘন্টা আগে পরীক্ষার প্রশ্ন প্রিন্ট করা হবে। এবং এই প্রিন্ট হবে স্ব স্ব পরীক্ষাকেন্দ্রে বসেই। এইসব ক,খ,গ,ঘ সেট, আলু, পটল, লাউ টাইপ করে কি লাভ হয়েছে তা আমরা আজ ঘামে ভেজা জামার কলারের উপর চুপচুপে রুমাল তুলে ধরা আধখাওয়া স্যান্টেল ছেড়া দুঃখি ছেমরা-ছেমরিদের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। আর যারা ভালো স্টুডেন্ট হতে গিয়ে নিয়মিত মগজ ধোলাই ও মা বাবার বকাবকি খেতে খেতে চোখে চশমা নিতে হয়েছিলো তাদের দুঃখও এই বাঙালীরা বুঝে গেছে। কোন ছলনা করার চেষ্টা করো না।

আমাদের জাফর ইকবাল স্যারকে তোমরা গুরুত্ব দিচ্ছ না কেনো? ব্যাচারা আর কিছু পারুক না পারুক বলতে তো পারছে। যারা সব বুঝে কিছু বলতেও পারছে না তাদের দুঃখও তোমাদের বুঝতে হবে। না বুঝতে চাইলে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য করা হবে। আমরা যেমন শিশু শ্রনীর বই দাঁত দিয়ে চাবিয়ে খেতে খেতে পড়তে শিখেছিলাম, আবার সময় এলে নয় বরং নিজেদের মতো সময় তৈরি করে নিয়ে শয়তানের শয়তানি বুদ্ধি ভরা ঘিলু কালো কড়াইতে তেল দিয়ে ভেজে খেয়ে ফেলতেও জানি। প্রয়োজনে শয়তানের ঘিলু-মজগ ভেজে নিজেরা খাবো না। এক শয়তানের ঘিলু-মগজ-ব্রেন ভেজে অন্য শয়তাদের খাওয়াবো। শয়তানের বিষ শয়তানের পেটে গেলে শয়তান ভালো হয়ে যায়। মাইনাসে মাইনাসে প্লাস হয় আবার বিষে বিষের ক্ষয় হয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে প্রশ্নপত্র ফাঁস নামের দুর্গতি এসেছিলো তা আমরা ইন্টারনেট দিয়েই সমাধান করে আমাদের সমস্যা মিটিয়ে ছাড়বো- ইনসাআল্লাহ্।

যে যে সম্মানিত শিক্ষকগন নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রশ্নপত্র করার জন্য নির্ধারিত হবে তাঁরা পরীক্ষার কমপক্ষে ২ দিন আগে কমপক্ষে ২০টি প্রশ্নপত্র (একটি বিষয়ের কমপক্ষে ২০টি প্রশ্ন হবে) উক্ত বিষয়ের হেডপ্রশ্নকারকের কাছে জমা দিয়ে দিবেন। হেডপ্রশ্নকারক স্যার পরীক্ষা গ্রহনের ঠিক ৫/৬ ঘন্টা আগে প্রশ্নগুলো থেকে যাচাই পুর্বক মূল প্রশ্নপত্র প্রনয়ন করে প্রতিটা পরীক্ষাকেন্দ্রে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রনয়ন করবেন। সব বোর্ডের প্রশ্নপত্র একই হবে কিন্তু পরিক্ষার প্রশ্ন প্রনয়ন হবে একই স্থান থেকে বা একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে। আমরা আজ পুরো প্রস্তত হয়ে নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত আছি। প্রয়োজনে প্রশ্নপত্র প্রনয়নের মুল কেন্দ্র বিন্দু হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অথবা গনভবন অথবা বঙ্গভবনে বসে। আমাদের দায়িত্ব নিতে জানতে হবে। আমরা যদি আগামির প্রধানমন্ত্রী/সৎ কর্মকর্তা/রাস্ট্রপতি/মন্ত্রী/শিক্ষক/প্রসাশন/বাহিনি/সত্য-ধর্ম-উপদেশ-দাতাদের ঠিক ভাবে তুলে নিয়ে আসতে না জানি তা হলে কি হবে এই সংসদ ভবন দিয়ে? মার্কিন দেশের লুই কান সাহেব যদি এতো সুন্দর সংসদ ভবনের ডিজাইন আমাদের উপহার দিতে পারেন। আমরা বাঙালীরা কেনো মার্কিনিদের আর একটি সুন্দর টাস্টার্চু অব লিবার্টি দিতে পারবো না? বর্তমান পৃথিবী হলো মানুষের উপহার বিনিময়ের পৃথিবী। আমাদের জাতিয় স্মৃতি সৌধ শুধ আমাদেরই গর্ব না- মইনুল হোসেনের ডিজাইন করা এই বিশ্বসুন্দর স্থাপত্ত পুরো বিশ্বের সম্পদ হিসেবে তুলে ধরা হবে। আমরা মার্কিন নাগরিকদের দুঃখ বুঝি। এতো বড় বিল্ডিং টুইন টাওয়ার ধ্বসে পড়েছিলো, সেখানে আজ একটি স্মরন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। আমারও মার্কিনিদের দুঃখের সাথে সমব্যাথি হয়ে তাঁদের ঐ টুইন টাওয়ারের স্মৃতিময় স্থানেই একটি স্মৃতি সৌধ উপহার দিতে চাই। সেই স্মৃতি সৌধ হবে আমাদের এই দেশের জাতিয় স্মৃতি সৌধের অবিকল রূপ। আমরা জানি সব মানুষের রক্ত লাল রঙের। সব শহীদের রক্ত লাল। আমাদের লাল রক্ত ঝড়ার স্মৃতিময় স্থাপত্ত দিয়ে আমরা মার্কিনিদের সেবা করতে চাই। আমার দেশের সাধারন মানুষের ঘাম রক্ত ঝরানো হালাল রোজগারের পয়সা দিয়েই আমরা মার্কিনিদের দুঃখের সাথি হতে চাই। আমরা সব দুঃখিদের দুঃখে সাথি হয়ে থাকবো। তাঁদের সুখে আমাদের কাছে না ডাকলেও আমরা কেনো তাদের দুঃখকে নিজের অন্তরের সত্যিকারের প্রেরনা হিসেবে নিতে জানবো না?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৫:৫৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×